Categories
যাপিত জীবন

নুবাঈদের আলু

নুবাঈদ সারাদিন সুপার গ্লুর মতো লেগে থাকে। তাই অফিসিয়াল কাজ গুলো রাতে সে ঘুমানোর পর করা লাগে। তাদের বাবাকেও প্রায় রাত জেগে কাজ করা লাগে।

এদিকে নুবাঈদ একা বিছানায় এই মাথা ঐ মাথা ঘুরতে থাকে। আমরা একটু পর পর গিয়ে দেখে আসি। তার পজিশন ঠিক করে দেই। যেহেতু তার মম্মাকে খুঁজে পাচ্ছেনা, সে ঘুমের মধ্যেই নড়ে, উঠে বসে থাকে, কাঁদে…. এভাবে বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আলু ফোলায়।
দুইদিন আগে পড়ে গিয়ে কপাল ফুলিয়েছে। আজো একই জায়গায় বাড়ি খেয়ে ডাবল আলু বানিয়ে রেখেছে।
ভাবছি এই বয়সে সারাক্ষণ মায়ের গায়ের সাথে লেগে থাকার কী আপ্রাণ চেষ্টা টাই না করে বাচ্চারা। বড় হতে হতে ততটাই আবার দূরে সরে যাবে। তখন মায়ের গায়ের সাথে লেগে থাকতে লজ্জা পাবে। ভাবতেই মনটা কেমন যেন করে ওঠে। বড় পুত্র নাওঈদকে জোর করে ধরে আদর করতে হয়। ওর নাকি লজ্জা লাগে!!!

ছোট পুত্র ও হয়ত কদিন পর ভাইয়ের মতো লজ্জা পেতে থাকবে…….

Categories
যাপিত জীবন

ঘোরাঘুরি

ভালো লাগে উড়তে
ঘোরাঘুরি করতে
ক্লান্ত এ প্রান ও মন
করে উঠে চনমন।
মাঠে, ঘাটে প্রান্তর
দিল খুশ অন্তর।
ছানাপোনা , হাক ডাক
উড়ে যায় পাখির ঝাঁক।
❤️❤️❤️

লিখেছেন- ইনু কবি

Categories
Notice

Sometimes learning is fun….

একসাথে বেশ কিছু কাজের প্রেশার পড়ে গেছে। কাজ বেশি জমে গেলে টেনশনের ঘুমাতেও পারিনা, এমন অবস্থা হয়ে যায়।

তাই ভাবলাম ছানাপোনার সাথে একটু ঘোরাঘুরি হয়ে যাক।

বাসার কাছেই বুড়িগঙ্গা। খুব সহজেই দশ মিনিটে গিয়ে ঘুরে আসা যায়। বিকেলে তাই তাদের নিয়ে হেঁটে আসলাম।

নদীতে এপার থেকে ওপারে লোকজন নৌকা করে অথবা ট্রলারে করে আসা-যাওয়া করছে। একটা লাল রঙের পালতোলা নৌকা ও দেখলাম। মুগ্ধ হয়ে দেখতেই থাকলাম আর দেখাতে লাগলাম বাচ্চাদের।

ঘুরতে এসে তারা বিভিন্ন জিনিস দেখে প্রশ্ন করা শুরু করলো। প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ফাঁকে ফাঁকে বেশকিছু ভোকাবিউলারি তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিলাম।
নৌকা- boat
নদী- river
পানি- water
মাছ- fish
সাপ- snake
নদীর তীর- bank

গল্পে গল্পে তারা নদী এবং তার আশেপাশের লোকজন, কাজকর্ম, জায়গার নাম সম্পর্কে একটু জেনে নিল। কতখানি মনে রাখতে পারবে বোঝা যাচ্ছে না। তবে তারা বেশ আনন্দ পেয়েছে, পড়াশোনার জিনিসগুলো চোখের সামনে বাস্তব দেখতে পেয়ে।

Categories
যাপিত জীবন

উপলব্ধি

ছোটবেলায় বেস্ট ফ্রেন্ড যখন অন্য কারো বেস্ট ফ্রেন্ড এ পরিণত হতো তখন খুব মন খারাপ হোত। প্রতি ক্লাসে বেস্ট ফ্রেন্ড নতুন করে বানাতে হত। যদিও এখন এই স্কুলের বন্ধুই বেস্ট ফ্রেন্ড। স্কুলে কিন্তু সে এমন ছিল না। তখন শুধু সহপাঠী ছিল। আস্তে আস্তে বন্ধু থেকে বোনের মতো আপন হয়েছে❤️❤️❤️❤️

এভাবে অনেককেই অনেক ভালো লাগে, ভালোবাসি। সেখানে স্বার্থ কখনোই থাকে না। তবুও মাঝে মাঝেই মন বেশ খারাপ হয়। অমুক তমুক আমাকে ভালোবাসে না, কেয়ার করেনা আগের মতো। অমুকের জীবনে তমুক আসার পর থেকে আমার প্রতি টান কমে গেছে!!! অমুক তমুকের সাথে প্রয়োজন মিটে গেছে তাই যোগাযোগও নাই। প্রয়োজন হলেই যোগাযোগ হয়!!
অদ্ভুত আবেগ আমাদের। আমরা পাল্টাই, প্রতিনিয়ত পাল্টাই। তাই আমাদের ভালোবাসার ও রূপ পাল্টায়। শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসলে সেটা কখনো পরিবর্তন হয় না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কখনো পরিবর্তন হন না। তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি সবসময় একইরকম।
কি দারুন উপলব্ধি…❤️❤️❤️

Categories
যাপিত জীবন

মাওলানা নাওঈদ

দুপুরে আজান দিলেই মসজিদে যাবার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বড় পুত্রের। নিজে নিজেই গোসল করে রেডি হয়ে মসজিদে চলে যায়। তার বাবা এখনো প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে যাচ্ছে না। তাই সে কারো জন্য অপেক্ষা না করে , কারো সাথে কোনো কথাবার্তা না বলে নিজে নিজেই প্রস্তুত হয়ে চলে যায়। টের ও পাই না কখন বাসা থেকে বের হয়!!! কি কাজে যেন বারান্দায় গিয়ে দেখলাম , তাকে মসজিদে দেখা যাচ্ছে। তাকে দেখে আমি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে খেতে ডাকলাম চিৎকার করে, এক্ষুনি বাসায় আসো।

তার মাস্কের ফিতা আবার ছিড়ে গেছে ওই সময়। তাই সে মাস্ক নিতে দৌড়ে আবার বাসায় আসলো। আমার ডাকে মসজিদ থেকে নামাজ শেষ না করে তো সে আসতোই না। বাসায় আসার পর হাসিতে গড়াগড়ি খেতে খেতে ছবি তুললাম। যদিও সে কোনভাবেই বুঝতে পারছিল না কেন এতো হাসাহাসি কেন হচ্ছে!!

মাস্ক নিয়ে আবার দৌড় দিতে লাগল। চিপে ধরে প্যান্ট পাল্টাতে পাল্টাতে বেচারার জোহরের জামাত শেষ হয়ে গেল। পরের জামাতে আর এই ভুল আর হয়নি।

আমাদের মাওলানা নাওঈদ আব্দুল্লাহ।

Categories
যাপিত জীবন

পিতা-কন্যা

আম্মু প্রায় একটা শ্লোক বলতো,
চোখ ব্যাটা হারামজাদা/
মার দিকে চায়।
বলতো, মেয়েদের সব সময় নিজেদেরকে প্রপার পর্দার সাথে থাকতে হবে। আরও বলতো, নিজের বাবা ভাইয়ের সামনে সব সময় ভালো করে কাপড় গায়ে রাখতে হয়। ছোটবেলায় যখন সিনেমাতে দেখতাম, বাবাকে মেয়েরা ভালোবেসে জড়িয়ে ধরে, নিজে নিজেই ভাবতাম আমি কি বাবাকে কম ভালোবাসি, নাকি আব্বু কম ভালোবাসে?? আমরা জড়াজড়ি করি না কেন? নাটক সিনেমায় সব জায়গায় মেয়েরা তাদের ভাইকে, বাবাকে অবলীলায় শুধু জড়িয়ে ধরে। আমার কেন জড়িয়ে ধরতে এত বাধো বাধো লাগে অথবা আমরা কেন এই জড়িয়ে ধরা কালচার পরিবারের মধ্যে দেখি নাই?? বড় হতে হতে আস্তে আস্তে এসব প্রশ্নের জবাব খুজে পেয়েছি।

আমার বাচ্চাদেরকে মোটামুটি একা হাতেই লালন-পালন করতে হয়েছে। মেয়ে হওয়ার পর যখন মাঝে মাঝে তার বাবা তার ডায়াপার পরিয়ে দিতো, আম্মু দেখলে বেশ বিরক্ত হতো। বলতো তোর আব্বুকে দিয়ে জীবনে কোনদিন তোদের প্যান্ট ও পরাতে দেইনি। তোরা কেন বাচ্চাদের বাবাকে দিয়ে পটি পরিষ্কার করাস?? অবাক হয়ে চিন্তা করতাম, মেয়ের নিজের বাবা, অসুবিধা কি??

সময়ে সময়ে পেপার পত্রিকায় অনেক খবর পড়েছি। ভাই বোন সম্পর্ক, মামা ভাগ্নি, চাচা ভাতিজি, নানা /দাদা -নাতনি, এখন বাবা- মেয়ে। এই ধরনের ধর্ষণের, নির্যাতনের ঘটনা গুলো এখনকার সময়ে নতুন হচ্ছে , বিষয়টা এমন না । সবসময় হয়ে আসছে। আগে হয়তো আমরা এত খবর পেতাম না । এখন খবরগুলো প্রকাশিত হয়।

এত ভীতিকর খবর গুলো যখন দেখি তখন আমি নিয়মিত দোয়া করি, পৃথিবীর সমস্ত মেয়েরা যাতে নিরাপদে থাকে। এই বিষয়ের জন্য আলাদা করে বিশেষ ভাবে দোয়া করি। মেয়ে বাচ্চা ছেলে বাচ্চা কারো কাছেই নিরাপদ না।

আপুরা, আপনারা বাচ্চাদের ব্যাপারে প্রচুর সর্তকতা অবলম্বন করার চেষ্টা করবেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরটি তে দেখা গিয়েছে মেয়ে দুটির মা যখন বাসার বাইরে কাজে যেত, তখনই তাদের বাবা মেয়েদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতে। আমরা যারা কর্মজীবী মা, প্লিজ প্লিজ বাচ্চাদের ব্যাপারে অনেক অনেক বেশি সর্তকতা অবলম্বন করার চেষ্টা করবেন। বাচ্চা যেখানে থাকবে সেখানে সিসি ক্যামেরা সহ যত ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির সবকিছু লাগানোর ব্যবস্থা করা, বাচ্চার দেখাশোনার জন্য অবশ্যই দাদি ,নানি ,খালা, বোন এ ধরনের মানুষের ব্যবস্থা করা। আমাদের একটুখানি অসতর্কতার জন্য আমাদের ছেলেমেয়েদের যদি কোন কিছু হয়ে যায় তাহলে নিজেদেরকে সারা জীবনের জন্য ক্ষমা করাটাই কষ্ট হয়ে যাবে। তাই কোন কিছু হবার আগেই সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করা জরুরী।
এছাড়া আরো একটা বিষয় আমার খুব মনে হয় সেটা হল বাচ্চা যখন খুব ছোট থাকে তখন হয় বাচ্চাকে ডায়াপার পরিয়ে রাখা উচিত অথবা ন্যাপি বা প্যান্ট পরিয়ে রাখা উচিত। বাচ্চা ঘন ঘন প্রস্রাব করে, এই জন্য অনেকে বাচ্চাকে নিয়মিত ন্যাংটু রেখে দেয়। এটা বাচ্চার কাছে থাকা তার আপন জন দের মধ্যে অনেক বিকৃত কামনার উদ্রেক ঘটায়। তাই বাচ্চাদেরকে কখনোই খালি রাখবেন না। প্যারেন্টিং গ্রুপ গুলোতে অনেক ঘটনা শোনা যায় যে, বাচ্চার লজ্জাস্থান ধরে মুরুব্বি মানুষ জন খেলা করে। মা দেখেও কিছু বলতে পারেনা।

তখন এই বিষয়টাই মনে হয়েছে যে বাচ্চাকে নেংটু রাখলে এই ধরনের বাজে ঘটনা যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে।

বোনেরা আমার , নিজেদের ব্যাপারে যেমন সতর্ক থাকার চেষ্টা করবেন ঠিক তেমনিভাবে নিজের ছেলে মেয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার চেষ্টা করবেন। এরপর আল্লাহ ভরসা। প্রতিনিয়ত তাদের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করে যেতে হবে।

ছোটবেলায় আম্মু সব সময় দোয়া করত বাচ্চারা যাতে মান সম্মানের সাথে বড় হতে পারে। তখন বুঝতে পারতাম না এটা কেমন দোয়া? বড় তো বাচ্চারা এমনি এমনি হয়। মান ইজ্জত এর সাথে বড় হওয়া- এটা কেন আলাদা করে দোয়া করতে হবে? এখন খুব ভাল করে বুঝি যে মা-বাবার দোয়া ছেলে-মেয়েদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ পৃথিবীর সমস্ত বাচ্চাদেরকে হিংস্র পুরুষদের হাত থেকে নিরাপদে রাখুক।

খবর লিংক কমেন্টে।

https://m.mzamin.com/article.php?mzamin=288627

Categories
Notice

নুবু কান্ড

দুপুরবেলা ওয়াশিং মেশিন থেকে কাপড় বের করে দেখি সবগুলো কাপড় সাদা সাদা কি দিয়ে যেন মাখামাখি হয়ে আছে। কাপড় গুলো ভালো করে তুলে দেখি অনেক গুলো ভেজা কাগজের টুকরা। নুবাঈদের হার্ডবুক সেটের একটা বই সে মেশিনে কোন এক ফাঁকে দিয়ে দিয়েছে। সাধারণত মেশিনের ঢাকনা তুলে এটা সেটা দিয়ে দেয়। কিন্তু মেশিন চলাকালীন সময়ে আজ কোন এক ফাঁকে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এত কষ্ট লাগছে দেখতে।

তার আশেপাশে কোন বই রাখা যায় না। আমার অথবা ভাই-বোনের বই-খাতা যেটাই হাতের কাছে পায়, ছিড়ে ফেলে। তার নিজের গুলো ছেঁড়া যায়না, তাই সেগুলোর প্রতি আগ্রহ কম।
হাতের নাগালে কলম, পেন্সিল, মার্কার, রং যাই পাবে, দেয়ালে আঁকা আকি করে ভরিয়ে ফেলেছে। তার অত্যাচারে বাসায় কলম, পেন্সিল, মার্কার দরকার মতো কোন কিছুই এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। বই খাতা নিয়ে বসতে পারি না অনেকদিন হলো। মোবাইলে টুকটাক পড়ালেখার কাজ, অফিসে র কাজ চালাতে হয়। মোবাইলটা হাতের নাগালে পেলে দেয় তুলে একটা আছাড়। মোবাইলের স্ক্রিনটা অলরেডি ফেটে চৌচির হয়ে আছে।

বারান্দা দিয়ে হাতের কাছে যা পায়, টুপটাপ ফেলে দেয়। কাপড়ের ক্লিপ অর্ধেক ফেলে দিসে মনে হয়!!


কয়দিন আগে প্রায় নতুন এক কৌটা ট্যালকম পাউডার খালি করে ফেলেছে। কসমেটিক সামগ্রী গুলা নিজেরাও ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারি না, তার হাতের নাগালের বাহিরে রাখতে রাখতে। ড্রেসিং টেবিল পুরাটাই খালি পড়ে থাকে। আলমারির উপরে , চিপাচাপায় জিনিস পত্র রাখতে রাখতে অনেক কিছু হারিয়েও ফেলেছি। ভুলভাবে কোনক্রমে তার হাতের নাগালে কিছু গেলে, সেটা শেষ।

ফ্রিজের দরজা দিনে-রাতে মোটামুটি পনের বিশ বার খুলবে আর লাগাবে। চোখের আড়াল হলেই সে দৌড়ে ফ্রিজের দরজা খুলবে এবং ভেতরের জিনিসপত্র নাড়াচাড়া করে ফেলে দিবে। শেষ পর্যন্ত রশি দিয়ে দরজাটা বেঁধে রাখি। নিজেরো ব্যবহার করতে অসুবিধা হয় এখন। ডিপ ফ্রিজের চাবি ঘোরায় ইচ্ছামতো। কখন জিরো দেয়, কখন মিড বা হাই দিয়ে রাখে টের ও পাইনা।

পানির ফিল্টার উঁচুতে রেখেছি। সে টুলে দাঁড়িয়ে ফিল্টারের পানি ছেড়ে দেয়। অটো চুলা ধুম করে বাড়িয়ে দেয়।

মন মেজাজ খারাপ থাকলে চড়, থাপ্পড়, খামচি চলে (আমার উপর)। নতুবা মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে কাঁদতে থাকে। নামযের সামনে শুয়ে বসে থাকবে, হিজাবের ভেতর ঢুকে থাকে। পুরা একটা এটেনশন সিকার। সবাইকে তটস্থ রাখে।

এভাবেই বুঝি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে স্বৈরশাসন চলে।

Categories
যাপিত জীবন

পোস্ট করোনাকালিন চিন্তা

জগত সংসার নিয়ে আমাদের অনেক চিন্তা ভাবনা থাকে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, সংসার বাচ্চাকাচ্চা, সম্পদ, খ্যাতি – সবকিছু নিয়ে কমবেশি আমাদের চিন্তা কাজ করে। সেই অনুযায়ী ছোটবেলা থেকেই আমরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের কাজকর্ম করে থাকি। অনেক রকম ত্যাগ স্বীকার করি যাতে লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। যখন একটা করে লক্ষ্য অর্জিত হয় তখন কতইনা ভালো লাগা কাজ করে। হোক সেটা ছোট অর্জন অথবা বড় অর্জন।

রান্না করতে গিয়ে যখন নতুন একটা রেসিপি সফলভাবে বানাতে পারি তখন যেমন খুশি লাগে, তেমনি ভাবে যখন কোন একটা বিশেষ কাজে সফল হই, নিজেই যখন কোন কিছু বানিয়ে ফেলি সেটা নিজের জামা হোক, খাবার বা কোন কিছুর ডিজাইন অথবা কোন জটিল পরিকল্পনা- সফল হলে মনটা খুশিতে ভরে ওঠে।

দিন রাত ২৪ ঘন্টা মোটামুটি আমরা এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য নানা রকম কাজ করতে থাকি। এসব যাই কিছু করি না কেন তার জন্য একটি সুস্থ শরীর এবং সুস্থ মন দরকার হয়। শরীর যখন অসুস্থ হয় তখন এই পরিকল্পনা, কাজকর্ম, সফলতা, সংসার সন্তান কোন কিছুই আর ভালো লাগেনা। জগত সংসারের কোনো কিছুই তখন আর মাথায় কাজ করে না। মাথায় শুধু একটা বিষয় ঘোরে, কখন সুস্থ হব? আল্লাহ আমাকে সুস্থ করে দেন।

অসুস্থ অবস্থায় দুনিয়াবী চিন্তা মাথায় তেমন একটা আসেনা। তখন দু একটা বিষয় শুধু মাথায় কাজ করে। আমি মরে গেলে অমুক-তমুক এর কি হবে অথবা আমার অসুস্থতার জন্য আমার পুরো পরিবারের অনেক পেরেশানি যাচ্ছে। এই দুটো বিষয় খুব কষ্টদায়ক। বিশেষ করে মরে গেলে সন্তানদের কি হবে, এই চিন্তা করলে দুনিয়াদারি সব খন্ড বিখন্ড হয়ে যায়।

মা-বাবার অল্টারনেটিভ পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারে না। এটা চিন্তা করলেই দুনিয়াটা কেঁপে উঠে। এসব কথা যখন আমার তাহাদের বাবার সাথে শেয়ার করি, সে তখন বলে, মরে গেলে তো দুনিয়ার সাথে তোমার সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। কে কেমন থাকবে এই চিন্তা কবরে তোমার কোন কাজে আসবে না। বরং তুমি পৃথিবীতে কি এমন করে যাচ্ছ যাতে পরকালে ভালো থাকতে পারবে, সেটা নিয়ে চিন্তা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এভাবে আসলে ভাবি না। এভাবে ভাবতে ভয় লাগে। অন্ধকার একটা রুমে থাকতে পারি না একা একা। সেখানে অন্ধকার কবরে একা একা থাকবো শতশত পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে। কি হবে তখন? ওই পর্যন্ত আর ভাবতে পারিনা।

আসলে সুস্থতা আল্লাহ তা’আলা অশেষ বড় একটা নেয়ামত, যার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে শেষ করা যাবেনা। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকলে সুস্থ শরীরের গুরুত্ব ও মর্যাদা বোঝা যায়। আমাদের করোণা আক্রান্ত বন্দী জীবনে যেটা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গিয়েছে।

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হে আমার উম্মত! পাঁচটি সম্পদ হারানোর আগে তার মর্যাদা দাও। আর তা হলো-

(১) মারা যাওয়ার আগেই তোমার জীবনের প্রতি মুহূর্তকে কাজে লাগাও।
(২) বৃদ্ধ হওয়ার আগে যৌবনকে কাজে লাগাও।
(৩) দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতার মূল্য দাও।
(৪) অসুস্থতা আসার আগে সুস্থতাকে মর্যাদা দাও।
(৫) ব্যস্ততার আগে অবসরকে মর্যাদা দাও।’
(মুসতাদরেকে হাকেম)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ পাকের দু’টি বিশেষ নেয়ামত সম্পর্কে খুবই অমনোযোগী। একটি হলো স্বাস্থ্য আর অপরটি হলো অবসর।’ (বুখারি ও তিরমিজি)।

Categories
যাপিত জীবন

মোটিভেশনাল স্পীকার

বড় পুত্রের সামনের মাসে ইনশাল্লাহ পাচ বছর হবে। স্কুলে ভর্তি হয়ে আছে। অনলাইন ক্লাসে কোন মজা পায় না, তাই ক্লাস করতে খুব একটা আগ্রহ দেখায় না ‌ আসলে মজা পায় না বলা ঠিক না, মোবাইল স্ক্রিনে এত ছোট ছোট বোর্ড , লিখা , মিস দের দেখা , বন্ধুদের দেখা- এগুলো আসলে খুব একটা বুঝতে পারেনা।

লেখালেখি করতে কোন রকম আগ্রহ পায় না । সপ্তাহে বা পনের দিনে একবার ধরে বসালে দুচার লাইন লিখে। পর্যাপ্ত সময় এবং সুযোগের অভাবে আমিও নিয়মিত দেখাশোনা করতে পারিনা। চিন্তা করে দেখলাম প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট তাদের পেছনে সময় দেওয়া উচিত। সন্ধ্যা থেকে তাই তাদের নিয়ে বসে আছি। দেখা গেল, পড়ার টেবিলে আমি একাই বসে আছি। তারা ভাই বোন একটু পর পর বিভিন্ন কাজে উঠে যায়।

শেষ পর্যন্ত মোটিভেশনাল স্পিকার হওয়ার চেষ্টায় আছি।
মোটিভেশন: এশার আযান দিলো মাত্র। জামাত শুরু হয় আযান দেয়ার প্রায় বিশ পঁচিশ মিনিট পরে। পুত্র আমার সাথে সাথে দরজা খুলে বেরিয়ে যাচ্ছে। দৌড় দিয়ে তাকে ধরলাম। লিখা দিলাম, এগুলো লিখে শেষ করলে একটু পরে আমি পাঠিয়ে দিব মসজিদে-কথা দিলাম।(বাসার নিচেই মসজিদ। এতো দিন বাবা/নানার সাথেই গিয়েছে। আজ একা যেতে হচ্ছে।) অবশেষে নাওঈদ লিখতে বসল।

Categories
যাপিত জীবন

খুশি মনে কোরবানি

ছোটবেলায় কোরবানি ঈদের সময় আব্বুকে দেখতাম ঈদের আগের দিন দাদুর বাড়িতে চলে যেতো। ঈদের দিন কোরবান শেষে সন্ধ্যা বা রাতে গোশত নিয়ে ফিরে আসতো। তখন আমাদের গরু দাদার বাড়িতে কোরবান দেয়া হতো। নিজেদের গরু দেখতে পেতাম না। তাই প্রতিবেশীদের কেনা গরু দেখেই আমরা আনন্দ নিতাম। আমাদের গরু নাই কেন , এই টাইপের দুঃখবোধ এ আক্রান্ত হইনি কখনো। ঈদের দিন সকালে প্রতিবেশীদের কারো না কারো বাসা থেকে হয়তো গোস্ত চলে আসতো। আর আমাদের গোস্ত আসতো রাতে। সেই আমাদের বাসায় এখন এক গরু কোরবানি দেয়া হয়।

পরিচিত একজনের কাছে তাদের ছোটোবেলায় কথা শুনছিলাম। অনেকদিন তাদের কোরবান দেয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাই ঈদের দিন তারা দরজা বন্ধ করে বসে থাকতো। তাদের এখন ঈদের দিন নরমাল ফ্রিজ,ডিপ ফ্রিজ ভর্তি হয়ে যায় কোরবানীর গরুর গোশতে। সময়ের সাথে সাথে আমাদের সামর্থ্যের পরিবর্তন ঘটে।

কোরবানির বিষয় টা পুরোটাই সামর্থ্যের উপর। কারো জন্যই বোঝা নয়। কুরবানী দিতে না পারলে মন খারাপের কিছু নাই বরং সেই দিন অন্যের মেহমান হওয়া যায়। কোরবানি মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা গোস্ত ডিস্ট্রিবিউশন এর মাধ্যমে অনেকের মেহমানদারী করার উপলক্ষ তৈরী করে দিয়েছেন। এতে কারো নিজেকে বড় মনে করার সুযোগ নাই গোস্ত দিতে পারার জন্য, কারো নিজেকে ছোট মনে করার কোনো সুযোগ নাই না দিতে পারার জন্য।

কোরবানির গোশতে এইজন্যই তিনটি ভাগ রাখা হয়েছে। নিজের জন্য , আত্মীয়র জন্য এবং দরিদ্র ও অন্যান্য মানুষদের দেওয়ার জন্য। এই আদান-প্রদানটাই কোরবানির সৌন্দর্য।

গতবছর আমি কোরবান দিতে পারিনি। ঈদের আগে তাই চার- পাঁচ কেজি গরুর গোশত কিনে রেখেছিলাম। খাসির গোশত ও ফ্রিজে ছিল একই পরিমাণে। ঈদে মন খারাপ করার কোন সুযোগই ছিল না। রান্নাবান্না করে পাড়া-প্রতিবেশিদের দিয়েছিলাম। বাসায় অতিথি দাওয়াত করেছিলাম। আমিও দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। আমার তিন বড় আপা (সহকর্মী) কোরবানির গোশত পাঠিয়েছিল আমার জন্য। আর আম্মু গোস্ত রেখে দিয়েছিল।

যেহেতু করোনা কালীন কারণে চট্টগ্রামে পরিবারের কাছে যেতে পারিনি, তাই অন্য রকম ঈদ কাটিয়েছিলাম নিজের সংসারে। কোরবানি না দিতে পারার জন্য ঈদের আনন্দ এতো টুকু নষ্ট করিনি।

এবারো ঈদের আগে আগেই আমরা আর্থিক কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। তাই কোরবানি করা ফরজ ছিলো না। তবুও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে খুশি মনেই কোরবানি করেছি।

সারাবছর ব্যাপক আকারে দান সাদাকা করা হয়না। কোরবানির মাধ্যমে কিছুটা হলেও কাউকে দেয়ার চেষ্টা করা যায়। মনের কার্পন্যতা কাটানো যায়।

আমরা যেনো শুধু মাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু কোরবানি করি। নিজের বড়ত্বের জন্য, সমাজকে দেখানোর জন্য যাতে আমরা এটা না করি। নিজেকে বড় বা ছোট যেন মনে না করি। কোরবানি করাটা যেন আমাদের জন্য বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়।

কোরবানি আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় আমল। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, কোরবানির ঈদের দিন মানুষের সব নেক আমলের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো কোরবানি করা। কিয়ামতের ময়দানে জবেহকৃত জন্তু তার শিং, লোম, খুরসহ এসে হাজির হবে। নিশ্চয়ই কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে তা কবুল হয়ে যায়। অতএব, তোমরা খুশি মনে আনন্দচিত্তে কোরবানি করো। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৬)

কোরবানি জাহান্নামের প্রতিবন্ধক। আবদুল্লাহ ইবনে হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি খুশি মনে সওয়াবের আশায় কোরবানি করবে, ওই কোরবানির জবেহকৃত পশু কোরবানিদাতার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে।’ (আল মুজামুল কাবির, হাদিস : ২৬৭০)