Categories
অভিজ্ঞতা

খেলনা ও বাচ্চারা

আমি বানিয়েছি



বাচ্চারা খেলনা দিয়ে খেলতে খুব পছন্দ করে। তবে কোন খেলনা দিয়ে তারা বেশিক্ষণ খেলতে পারে না । নতুন খেলনা পেলে অল্প কিছু সময় বা দু’চার দিন সেটার আকর্ষণ থাকে।তারপর সেটা নষ্ট করে ফেলে অথবা অবহেলায় পড়ে থাকে। কিন্তু তবুও তারা নতুন নতুন খেলনা পেতে অনেক পছন্দ করে।

আমাদের ছোটবেলায় যখন কেউ বেড়াতে আসত ভাবতাম এই বুঝি খেলনা নিয়ে এলো। হতাশ হয়ে দেখতাম খাবারের জিনিসপত্র এনেছে অথবা জামা কাপড়। একটা পুতুলের বেশ সখ ছিল। কিন্তু সেটা আম্মু ও কিনে দেয়নি, আবার অন্য কাউকে কিনে দিতে নিষেধ করতো। লন্ডন থেকে মিজান ভাইয়া একবার একটা পাপি ডল দিয়েছিল। সাদা একটা কুকুরের বাচ্চা, গায়ে কালো কালো ডট। কি ভীষণ পছন্দের ছিল। কিন্তু একটা পুতুল খুব আশা করতাম।😔

দেশের বাইরে থাকা আত্মীয়রা যখন টি এন্ড টি ফোনে জিজ্ঞাসা করতো, কি লাগবে। কখনোই কিছু বলতে পারতাম না। কারণ আম্মু কটমট করে তাকিয়ে থাকত। কারো কাছে কিছু চাওয়া যাবে না।

একবার পর্তুগাল থেকে জাকির ভাইয়া জিজ্ঞাসা করছিল, কি লাগবে বল। আম্মু পারলে ঝাঁটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু চাইলে খবর আছে। পরে অনবরত জিজ্ঞাসার ফলে বলেছিলাম ক্যালকুলেটর লাগবে। 🙄

তবে আমার জানপ্রাণের বন্ধু নাস Nasreen Sultana আমার এই ফেসিনেশন টের পেয়ে বুড়াকালে একটা টেডি বিয়ার গিফট করেছিল। হল লাইফের একা বিছানার সংগী। এটা আজও যত্ন করে রাখা আছে। বাচ্চারা সহ আমি ও মাঝে সাঝে খেলি।

দেশের বাইরে যে সব আত্মীয়-স্বজন থাকতো তারা বিভিন্ন সময়ে এটা-সেটা উপহার দিত। তবে কখনোই সেগুলো খেলনা ছিল না। একবার এক আত্মীয় তার শ্বশুরবাড়ির এক বাচ্চার জন্য খেলনা এনেছিল। খেলনাটা এনে আমাদের বাসার সোফার নিচে লুকিয়ে রেখেছিল। কেননা আমার ছোট ভাইটি গাড়ি খেলনা দেখে সে নিতে চাইছিল। সে খুব অস্থির হয়ে খেলনাটা খুজছিল, কিন্তু পাচ্ছিল না। মন খারাপ হয়েছিল তখন। আমাদের বাসায় ও দুটি বাচ্চা (আমার ছোট দুই ভাই বোন) ছিল সেটা সেই আত্মীয়র মনে ছিল না হয়তো।

আমি আর আমার ভাইয়া বিদেশি খেলনা খুব একটা পাইনি। কিন্তু আমার ছোট ভাই বোন অল্পস্বল্প পেয়েছিল মামা-খালু বদৌলতে।(আমাদের সময়ে বিদেশি খেলনার আবেদন অন্যরকম ছিল।) আমরা তাই কাপড় দিয়ে পুতুলের সংসার বানিয়ে আরাম করে খেলতাম। 🥰🥰


মজার বিষয় হলো বাচ্চাদের ছোটবেলায় যে বা যারা যা কিছু দেয় সেটা তারা অল্পস্বল্প হলেও মনে রাখে। আমরা এভাবেই শিখেছি, আমাকে ওমুক তমুক আত্মীয় মনে করে একটা উপহার দিয়েছে।আমরা বুঝে নিয়েছি যে তারা আমাদের ভালোবাসে, তারা দূরে থাকলেও আমাদের কথা মনে করে। ❤️❤️❤️

আমার বাচ্চাদের বড় মামা ও তাদের অনেক খেলনা দিয়েছে। কার্টুন ভর্তি করে খেলনা পাঠিয়েছে বাচ্চাদের জন্য । আর যখন দেশে আসে তখন তো সাথে করেই নিয়ে আসে। এক সাথে বেশি পেলে একসাথে নষ্ট করবে। তাই বেশ কিছু দিন পর পর এক একটি দেয়া হোত। নাওঈদ খেলনা পেলে খুব মনোযোগ দিয়ে ভেঙে চুরমার করে। তাই রিমোট গাড়ি টাইপ খেলনা তার জন্য নিষিদ্ধ ।
তাদেরকেও বারবার বোঝানো হয়েছে কারো কাছে কোন খেলনা , কোনো জিনিস খোঁজা যাবে না। শুধুমাত্র আল্লাহ এবং মা-বাবার কাছে জিনিসপত্র চাওয়া যায়।

তাদের বড় মামা জিজ্ঞাসা করে কি লাগবে তোমাদের? নায়রাহ বলে কিছু লাগবেনা, আমার সব আছে।🥰🥰🥰

নাওঈদ বলে, মামা আমার কিছু লাগবেনা।তবে আমার কেডস টা ছোট হয়ে গেছে এবং আমার গাড়িটা এখন আর চলে না। 😄😄

বাচ্চারা অনেক কিছু চায় , তবে চাওয়ামাত্রই ওদেরকে সবকিছু দেওয়াটা উচিত না। ওদের চাওয়া-পাওয়া তখন অনেক বেশি হয়ে যাবে।তাই চেষ্টা করি একটা মাত্রা বজায় রেখে বাচ্চাদের আবদার পূরণ করতে।

এখন নানা রকমের , নানা ধরনের, নানা বর্ণের অনেক খেলনা পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে খেলনা গুলো বেশ আকর্ষণীয় মনে হয় । যতটা না বাচ্চাদের সেগুলো লাগে, আমার মনে হয় মায়েদের এ ধরনের খেলনা গুলো আরো বেশি লাগে। 🤭🤭

বাচ্চারা বেশি দামি কম দামি খেলনার পার্থক্য বুঝতে পারেনা। 1 to 99 থেকে এক প্যাকেট খেলনা কিনলে অনায়াসে দু চার মাস সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে তারা।

তাই বাচ্চাদের খুশি রাখতে তাদেরকে খেলনা দিন , তাদের সাথে খেলনা দিয়ে খেলুন । তাদের সাথে নিজেরাও খেলে এই আনন্দের অংশীদার হোন। 🙂

হ্যাপী প্যারেন্টিং ।

(ঘরে বানানো প্লে ডো। বাজার থেকে কিনে ব্যবহার করার সময় বাচ্চারা আরাম পায় নি। নষ্ট করে ফেলেছিল দ্রুত। এখন অনায়াসে তারা সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন জিনিস পত্র বানাচ্ছে, আনন্দ করছে। আপাতত সপ্তাহ-দশ দিন তারা এই প্লে ডো নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।)

নাওঈদ বানিয়েছে
নায়রাহ বানিয়েছে
Categories
যাপিত জীবন

আমার বাবুই পাখির দুষ্টুমি

সকালের নাস্তার দৌড়াদৌড়ি কমাতে আগের রাতে দু’তিন দিনের রুটি পরোটা একসাথে বানিয়ে ফ্রোজেন করে রাখি। ছোট্ট ছানাটা সারাদিন পিছে আঠার মতো লেগে থাকে। তাই রান্নাঘরের কাজ যথেষ্ট সংক্ষেপে করার চেষ্টা করি।😔

রুটি বানানো সংক্ষেপে করার জন্য গত সাড়ে চার বছর আগে থেকে রুটি মেকারটা ব্যবহার করছি। মূলত সাহায্যকারী মেয়েদের রুটি বানাতে যাতে কম সময় লাগে সে জন্যই কিনেছিলাম। এখন যেহেতু নিজেকেই বানানো লাগে তাই রুটি মেকার টা ব্যবহার করতেই হয়।

রুটি বানানোর সময়, নুবাইদ ভদ্রলোকের মত হাত ঢুকায় দেয়, রুটি ধরে টান দেয়, স্ক্রু ঘুরাতে থাকে , ফিল্টারের পানি ছেড়ে দেয়, পা চেপে ধরে বসে থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি। ছোট বাচ্চাদের রান্নাঘর এত ভালো লাগে কেন? 🤔🤔

কখনো বটি নিয়ে কাটাকাটি করছি , হঠাৎ দেখি পিছনে কেউ একজন গলা জড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে পিঠের উপর। চুলায় তরকারি নাড়ছি , পায়ের নিচে থেকে হামাগুড়ি দিয়ে এসে কেউ একজন চুলার নব ঘোরানো শুরু করে। নিচে রাখা হাড়ি পাতিল টানাটানি করে। তরকারির পাতিল উল্টে ফেলে দেয়। 😭😭

ওয়ার্নিং দিলাম আর ক বছর যাক। তিন ভাইবোন মিলে রান্না বান্না সব করা লাগবে। তখন আমি আর রান্নাঘরে ঢুকবো না।
নিজেকে নিজের সান্ত্বনা দেয়া। 🙄

Categories
অভিজ্ঞতা

বৃদ্ধ অবস্থা বনাম আমরা

গতকাল খবরে দেখলাম, মালিবাগে একটা কাজের মহিলার ও বৃদ্ধার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সত্তরোর্ধ একজন বৃদ্ধা মহিলাকে প্রচন্ড ভাবে পিটিয়ে মোবাইল, টিভি, গহনা ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। বৃদ্ধার ছেলে, ছেলের বউ , মেয়ে সবাই অফিসে। কাজের মেয়েটার সাথে বৃদ্ধা একা বাসায় ছিল।

মহিলাটি বেশ অসুস্থ ছিল , যার জন্য তাকে ধরে গোসল করানো বা আনুষঙ্গিক কাজ করানো লাগতো। তাই তার দেখাশোনার জন্য কাজের মেয়েটি রাখা হয়েছিল, যে তাদের পূর্ব পরিচিত এবং বছরখানেক ধরে কাজ করেছিল আগে। বৃদ্ধ মানুষটি ঐ কাজের মেয়েটির দ্বারা প্রচন্ডভাবে রক্তাক্ত, নির্যাতিত হয়েছে।

আমার শুধু মনে হচ্ছিল , সামনে কি আমাদের জন্য এমন একটা ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে? আমাদের বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগেরই একটি বা দুটি করে সন্তান। তারা যখন বড় হবে, কর্মজীবনে প্রবেশ করবে, বৃদ্ধাবস্থায় তখন আমাদেরও তেমন একাকী থাকতে হবে।
ছেলের বউ ও আমরা কর্মজীবীই খুঁজবো। অথবা ছেলের বউ রা ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকবে দূরে বা প্রবাসে। আমরা বৃদ্ধ বয়সে একা থাকবো।

শারীরিক শক্তি থাকা অবস্থায় বৃদ্ধ মানুষরা মোটামুটি চলে ফিরে নিজের কাজ করতে পারে। কিন্তু যখনই অসুস্থতাজনিত কারণে বৃদ্ধাবস্থায় কেউ বিছানায় পড়ে যেতে বাধ্য হবে তখন তাদেরকে কে দেখবে কাজের মানুষ ছাড়া??

চোখ বন্ধ করে দিব্বি যেন নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি। যতদিন শরীরে শক্তি থাকে এবং টাকা উপার্জনের ক্ষমতা থাকে তখন অসুস্থ হলে কে দেখবে, এই চিন্তা করিনা। কোন ধরনের নেতিবাচক ভবিষ্যৎ চিন্তা মাথায় আনিনা।

কিন্তু আমাদের বৃদ্ধাবস্থা আসলে আমরা আসলেই কাছে থাকার মানুষ আপন মানুষ পাবো তো??
আল্লাহ আমার মা-বাবাকে সহ পরিবারের সকল মুরুব্বিদের সুস্থ রাখুক , ভাল রাখুক।

বর্তমানে আমার নানু অসুস্থ, হাসপাতালে আছেন। আজই তার অপারেশন হয়েছে। তার কাছে তার পাঁচ মেয়ে এবং পাঁচ জন ছেলে আছে। পালাক্রমে চার – ছয় জন করে নানুর কাছে থাকছে। কারো সংসার আছে , কারো কর্মক্ষেত্র আছে। কেউ চলে গেলে অন্য কেউ এসে জায়গাটা ফিল আপ করছে।

আমাদের ভবিষ্যতে আমরা আমাদের সন্তানদের কি পাব বৃদ্ধ অবস্থায় , অসুস্থ অবস্থায়? নাকি কাজের মানুষ বা বৃদ্ধাশ্রম আমাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে?? 😓😓😓

Categories
যাপিত জীবন

এলেবেলে চিন্তা

আমার একটা কেমন যেন ধরনের অভ্যাস আছে। যখন কোন কিছু খুব পছন্দ হয়, খুব ভালো লাগে তখন সেটা ব্যবহার না করে , না খেয়ে রেখে দেই।ফলাফলে দেখা যায় খাবার জিনিস হলে নষ্ট হয়ে যায়, বাচ্চাদের জামাকাপড় হলে ছোট হয়ে যায়, ব্যাগ – জুতা টাইপ জিনিস এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

২০১৩ সালের আব্বু প্রথমবার হজে গিয়ে জমজমের পানি দিয়েছিল একটা ছোট মিনি বোতলে সহ অন্য বড় বোতলে। এত সুন্দর মিনি বোতল!!! পানি সহ বোতলটা রেখে দিয়েছি এখনো। মায়া লাগে, খেলে শেষ হয়ে যাবে!!! (এর মাঝে আরো অনেক বার পানি পেয়েছি, কিন্তু ঐ বোতল ধরিনি)
একটা খুব সুন্দর আতর গিফট দিয়েছিলেন এক প্রিয় আপু, বিয়ের উপহার হিসেবে। ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যাবে তাই রেখে দিয়েছি। মাঝে মাঝে বের করে নেড়ে চেড়ে দেখি।
আমার এক প্রিয় ছাত্রী ইতালি থেকে একটা টুনা ফিসের ক্যান দিয়েছিল সাথে আরো কিছু। খেলে শেষ হয়ে যাবে( চকলেট গুলো খেয়ে ফেলেছি)। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি আর কতদিন আছে এক্সপায়ার ডেট এর। টাইম শেষ হবার আগে খেয়ে নিবো নে।

নুবাঈদ হবার আগে আমার ছাত্রীরা এক বাকেট উপহার দিয়েছিল। সেখানে একটা কিউট জার কেক ছিল। কিউটনেসের কারণে কেকটা না খেয়ে জমিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। পরে খাবো বলে। কদিন পর নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মনে হলে এখনো দুঃখ লাগে।

আচার কিছু খেয়ে বাকিটা রেখে দেই । এত মজা, থাকুক আরো কিছুদিন। পরে দেখি ছত্রাক পড়ে গেছে।

বাচ্চাদের জন্য ভাইয়া কার্টন ভরে খেলনা পাঠিয়েছে দেশের বাইরে থেকে। রয়ে সয়ে অল্প অল্প করে ওদেরকে একেকটা বক্স বের করে দেই। তিন-চারটা বক্স জমিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। সেদিন নামিয়ে দেখলাম ব্যাটারি রাখার জায়গা গুলোতে জং ধরে গেছে। তাই এখন একসাথে চারটা খেলনা দিয়ে ওরা খেলছে।

আমাদের সম্পর্ক গুলো মনে হয় যেন এমনি। কাউকে আমরা বেশ ভালোবাসি গুরুত্ব দেই ফলাফলে অন্য কিছু সম্পর্ক আবার জং ধরে যায়। দেখা যায় আমরা ছেলেকে মেয়ের চাইতে বেশি প্রায়োরিটি দেই অথবা মেয়েকে ছেলের চাইতে। পয়সাওয়ালা আত্মীয়দের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, অপেক্ষাকৃত আর্থিকভাবে দুর্বল আত্মীয়দের মূল্যায়ন করা হয় না। শিক্ষাগত যোগ্যতা যার বেশি তাকে হয়তো বেশি মান্যগণ্য করা হচ্ছে, অপরদিকে আরেকজনকে হয়তো তেমন আচরণ করা হচ্ছে না। নতুন বন্ধু পেয়ে পুরাতন বন্ধুত্ব ভুলে যাই।
কাউকে আমরা বেশি ভালোবাসি, বেশি অগ্রাধিকার দেই । এটার জন্য আমাদের অন্যান্য সম্পর্ক গুলো হয়তো আমরা গুরুত্বহীন করে ফেলি। সম্পর্কের মধ্যে একটা ব্যালেন্স আসা জরুরি। তাহলেই মনে হয় আমরা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সহ মিলে মিশে ভালোভাবে থাকতে পারবো।কোন একটা বিশেষ কারণে কাউকে বেশি ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা যাতে এই বায়াসড আচরণটা না করি।

সম্পূর্ণ উপযোগিতা পাবার জন্য জিনিস পত্র ঠিকমতো ব্যবহার জরুরী, খাবার ঠিক সময়মতো খাওয়া জরুরী। তেমনি সব ধরনের সম্পর্কে পক্ষপাতী আচরণ এড়িয়ে যেতে পারলে সেই বন্ধনগুলো আরো মজবুত হবে। তাহলে আর সম্পর্ক গুলো ফেটে যাবে না, জং ধরবে না, নষ্ট হবে না।
সবাই ভালো থাকুক।

Categories
যাপিত জীবন

আমার ডায়েট

ভোজন রসিক আমার সব ধরনের খাবার খেতে বেশ ভালো লাগে। খুব বেশি লবণ না হলে যে কোনো রান্না খেতে পারি। শুটকি, ভর্তা, ঝাল এই টাইপের খাবার হলে খাওয়া অনেক বেশি হয়ে যায়।ফলাফল শরীরের ওজন আদর্শ ওজনের চাইতে প্রায় ১০/১৫ কেজি বেশি। তিন বাচ্চার সময়কার ফ্যাট খুব একটা কমেনি। মাঝে মাঝে ডায়েট প্ল্যান নেই। কিন্তু খুব একটা ফলো করা হয় না। গুলুমুলু আমি খাবার একটু কম খেলে আম্মুর কষ্ট হয়, ভদ্রলোকের ও খারাপ লাগে।

স্ট্রিক্টলি ডায়েট করার চেষ্টায় ভাত কম রান্না করি মাঝে মাঝে। বাচ্চাদের খাওয়ানোর পর আমরা দুজন মিলে একবার খেতে পারব। ওভাবেই অল্প পরিমাণ রান্না করেছি। দ্বিতীয় বার যাতে আর ভাত নিতে না পারি।

দুঃখের বিষয় হল এরকম করলে মাঝরাতে খিদা লাগে। বিছানায় বসে মশারির ভেতরে খিদায় কুই কুই করতে থাকি। ভদ্রলোক তখন হাতের কাজ ফেলে একেকদিন একেকটা খাবার রেডি করে নিয়ে আসে। তার মতে, খেয়ে দেয়ে আরো গুলুমুলু হও!!! তবু সুস্থ থাকো।

আমার আর ডায়েট করা হয় না। 🙄

Categories
অভিজ্ঞতা

অদ্ভুত

৪ পিস ডিম রান্না করে ছোট পুত্রকে নিয়ে দুপুর বেলা বাহিরে কাজে গিয়েছিলাম। বাসায় ফিরে দেখি ডিমের কড়াই খালি। অবাক হলাম আর ভাবলাম তারা তিনজন মিলে হয়তো চার পিস খেয়েছে।
কিন্তু ভদ্রলোক আমাকে আরো অবাক করে বলল, তারা তিন পিস ই খেয়েছে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও কিছু বের করতে পারিনি!! এমন ঘটনা আগে ও ঘটেছে!!

এমন হলে আমি দোয়া দরুদ এর পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেই।

Categories
Notice

নাওঈদ কথন

আমার বড় পুত্রের শি আসলে বাথরুমে যেতে চায় না । তার সামনে দিয়ে প্যান্ট ভেজা থাকে । এটা দেখে তাকে বাথরুমে পাঠাতে হয়।
আর চারিদিকে যদি গন্ধে আমোদিত হয় তখন বুঝতে পারি তার পটি আসছে। তখন ঠেলে বাথরুমে পাঠানো লাগে। এবং প্যান্টে মানচিত্র লেগে থাকে।
তার বাথরুমে যেতে ইচ্ছা করে না 🙄

Categories
যাপিত জীবন

চিন্তা কথন

নুবাঈদকে ঘুম পাড়ানোর সময় একটা ব্যাপার ঘটে। সে যতই ক্লান্ত থাকুক না কেন, ঘুমাবে না নিজে নিজে। ঘুমে পড়ে যাচ্ছে, তবু জোর করে চোখ খুলে রাখবে। তাকে ঘুম পাড়াতে হলে মা অথবা বাবাকে প্রয়োজন হয়। কোলে নিয়ে হাটতে হবে অথবা শুতে হবে। গায়ে চাপড় দিয়ে দিয়ে ঘুম পাড়াতে হবে।আমরাও তার চাহিদা অনুযায়ী তাকে ঘুম পাড়াই।
একই রকম বিষয় বৃদ্ধ মানুষদের ক্ষেত্রেও ঘটে। তারাও একা থাকতে চায় না। একা খেতে ঘুমাতে পছন্দ করেনা। সার্বক্ষণিক কারো না কারো সঙ্গ চায়।

ভাবছি বাচ্চাদেরকে আমরা যত সহজে সব সময় সব কাজে সহায়তা, সহযোগিতা করি, বয়স্ক মানুষদের বেলায় একই রকম আচরণ কেন করি না!!!

অথচ আমরা বুঝি, বৃদ্ধ মানুষরা বয়সের সাথে সাথে শিশুদের মত হয়ে যান।

(ছবিতে নানার সাথে নাতি- নাতনি❤️❤️)

Categories
অভিজ্ঞতা যাপিত জীবন

কয়েক ছত্র

সাগরের পানিতে পা দু’খানি ভিজিয়ে করি মন শান্ত,
গোধূলি লগনে হাতে হাত রেখে ঘু্রি
নাই গ্লানি, নাই ক্লেশ, নাই যে সীমান্ত!!

Categories
অভিজ্ঞতা

আমার টুকটুকি বাচ্চা

গত রোজার সময় আল্লাহ রুহটা হঠাৎ করেই পাঠিয়ে দিলো আমার মধ্যে। ভাবলাম অনেক কিছু জানি, যেহেতু দু বাচ্চার মা। তাই ডাক্তারের কাছে ও গিয়েছি পুরো সময়ে খুব কম। যেখানে আগের দুই বার প্রতি মাসে চেকাপে যেতাম। মনে হোচ্ছিল অবহেলা করছি কিনা!!

সাথে সাথে প্রতিদিনকার অফিস তো আছেই। শরীর যেমন ই থাকুক, ছুটি নেইনি এক দিন ও। শেষ চেকাপে সি-সেক এর তারিখ দিয়েছিল ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯। ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলেজে গিয়েছিলাম, যেহেতু দ্বাদশ শ্রেণির দায়িত্বে ছিলাম। ২৯ তারিখ আম্মু ঢাকায় আসায় ৩০ তারিখ হাসপাতালে যাই। ডাক্তার ব্যস্ত থাকায় ৩০ তারিখ আর কিছু করেনি।

বাচ্চাদের বাবাকে বোঝাতে চেষ্টা করছিলাম যাতে আরো ২/৩ দিন দেরি করে ( ইডিডি আরো পরে ছিল)। জানুয়ারি ২ তারিখে আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল, সেটা শেষ করে যাবো ভাবছিলাম। কিন্তু প্রচন্ড কাজের প্রেশারে টুকটুকি মুভ করা কমিয়ে দিয়েছিল। তাই আর দেরি না করে ৩১ডিসেম্বর সকাল ৯ টায় সে পৃথিবীতে চলে আসে। হাসপাতলে আমার সাথে আম্মু আর তাদের বাবা ছিল। ব্লাড দেয়ার জন্য প্রিয় সহকর্মী রুখসান ও ছিল।

নায়রাহ ও নাওঈদ তাদের নূপুর আন্টি ও সাহায্যকারী মেয়েটা র সাথে বাসায় ছিল। বিকালে বাসার সবাই মিলে নুবাঈদকে দেখতে এলো। সন্ধ্যায় ওরা ফিরে যাওয়ার সময় বাসার চাবি ভুলে রেখে চলে যায়। তাই তাদের বাবা দৌড়াতে দৌড়াতে আবার চাবি দিতে চলে গেল বাসায়।

এসময় হাসপাতালের বেডে আমি আধা শোয়া হয়ে স্যুপ খাচ্ছিলাম। নুবাঈদ পাশে আরেকটা বেডে শোয়া। রুমে একটা দুইটা মশা ঘুরছিল। ভুলে তার জন্য ছোট মশারিটা বাসা থেকে আনা হয় নাই। তাই পাতলা একটা ওড়না দিয়ে ওকে ঢেকে রাখা হয়েছিল খুব কায়দা করে যাতে করে ওর মুখের অংশটাতে ওড়না উঁচু হয়ে থাকে। আম্মু একটু পরপর চেক করে দেখতো ঠিক আছে কিনা। কিন্তু এদিকে বাচ্চাদের সাথে সন্ধ্যায় আম্মু বাসায় চলে গেল। চাবি ফেলে যাওয়াতে ওদের বাবা যখন পিছে পিছে যায়, তখন নুবাঈদের মুখে ওড়না দিয়ে যায়।

রুমে সেই মুহূর্তে আমি একা। হঠাৎ দেখি হাত নাড়াতে গিয়ে সে ওড়নাটা মুখের উপরে ফেলে দিয়েছে। বাচ্চাটা সমানে দুই হাত নাড়ছে, ছটফট করছে কিন্তু মুখ দিয়ে কোন শব্দ করছে না। আমি দেখতে পাচ্ছি সে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। তার নাকে মুখে ওড়না পড়ে আছে। আমি কোনভাবেই নিজেকে বিছানা থেকে এক চুলও নাড়াতে পারছি না; হাতে স্যালাইন, ক্যাথেটার লাগানো।
একটু আগের পেট কাটা প্রসূতি একজন মায়ের নড়াচড়া করার মত কোন অবস্থা নাই।

আশেপাশে কেউ নাই যে চিৎকার করে কাউকে ডাকবো। কেবিনের দরজা বন্ধ। তাদের বাবাকে ফোন দিলাম ,সে তখন হাসপাতাল থেকে অনেক দূরে। আমি সমানে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম। মনে হলো একটু আগে মাত্র বাচ্চাটা পৃথিবীতে এলো আর এখনই বোধহয় চোখের সামনে মারা যাচ্ছে। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে নার্সদেরকে ডাকছিলাম। কিন্তু কেবিনের বাইরে খুব বেশী আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল না। মরিয়া হয়ে তখন স্যুপ খাওয়ার চামচটা দিয়ে বেডের স্টিলের রেলিংটাতে জোরে জোরে বাড়ি দিচ্ছিলাম। আর চিৎকার করে রুম নাম্বার বলছিলাম যাতে করে আমার রুমে কেউ আসে। প্রায় ৭/৮ মিনিট চিৎকার করার পর নার্স এসেছিল। তারপর তার মুখের উপর থেকে কাপড়টা সরালো। মনে হচ্ছিল এ যাত্রা বোধহয় বাচ্চাটা শেষ হয়ে গেল , কারণ সে কোন শব্দ করছিল না।আর আমি কেঁদে বেহুঁশ হয়ে যাচ্ছিলাম।

জন্মের শুরুতে তাকে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। জীবনের বাকিটা সময় সে যেন খুব সহজ-সরল স্বাভাবিক ভাবে পার করতে পারে। আমার টুকটুকি বাচ্চাটা নেক হায়াত নিয়ে বেঁচে থাকুক আল্লাহর পছন্দের মুমিন বান্দা হিসেবে। তার বছর পূর্তিতে দোয়া এবং প্রাণ ভরা ভালোবাসা।