Categories
অভিজ্ঞতা

হসপিটাল ডায়েরি ১


১ম দিন-
২৩ ডিসেম্বর , ১৯; ডাক্তার এপয়েন্টমেন্ট ছিল । ডাক্তার দেখে ২৯ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হতে বলল। তখন আমার ৩৬ সপ্তাহ ছিল। তাই ডাক্তারকে বলছিলাম জানুয়ারির ২/৩ তারিখের দিকে ভর্তি হলে হবে না? তিনি বললেন সেটা আপনাদের রিস্ক। আমরা কিছু জানিনা। ওই সময় সংসারের কাজ , অফিসের কাজ মিলিয়ে এত প্রেসার পড়ে গিয়েছিল , যে বেবি মুভমেন্ট খুব বেশি কমে গিয়েছিলো । ফলাফলে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । ২৯ তারিখে আম্মু ঢাকা আসার পর ৩০ তারিখে হাসপাতাল গেলাম এবং আমাকে না খেয়ে আসতে বলেছিল । তাই ভেবেছিলাম ওইদিনই অপারেশন করে ফেলবে এবং আমার কোন ধরণের জটিলতা ছিল না । জাস্ট এটা ছিল তৃতীয় সিজার। হাসপাতালে ভর্তি হলাম । ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। ডাক্তার বলল ২৯ তারিখে কেন ভর্তি হইনি ! তাহলেতো আজি সিজার করে ফেলত !! সেদিন ডাক্তারের ব্যস্ততা থাকার কারণে অপারেশন করেনি। ভর্তি হয়েছিলাম শুধু । সারাদিন বিশ্রামে থেকে টের পেলাম বেবি মুভমেন্ট আগের মত নরমাল । ঘনঘন মুভ করছে , যেটা গত ২/৪ দিনে করেনি । তাই আমরা ভয় পেয়ে হাসপাতালে চলে এসেছি ।এখানে প্রথম দিনে দুই বেলা খাবারের ছবি দেয়া আছে।

Categories
যাপিত জীবন

বাসা পাল্টানো

গতকাল বাসা পাল্টালাম । বিশাল একটা ঝামেলার কাজ!বাসা পাল্টাতে গেলে কিছু দর্শন আপনাতেই জেগে ওঠে।
এত সুন্দর সুন্দর কাগজের প্যাকেট, ছেলেমেয়েদের ছোটবেলার কিউট জামা, তাদের প্রথম জুতো জোড়া, আমার বিয়ের জুতা , যেটা আর পারিনা, বরের বিয়ের পাঞ্জাবি , আমার বিয়ের ড্রেস, নোসিলা নেস্ক্যাফের কাচের বয়াম থেকে শুরু করে সবকিছুতে এত মায়া জড়িয়ে আছে যে চাইলেও ফেলতে পারিনা! ছাত্রজীবনের একগাদা বই যেগুলো আর পড়ার সম্ভাবনা নেই , সেগুলো ও ফেলতে পারিনি। জিনিসপত্রের প্রতি এত মায়া কাজ করে, কিন্তু কবরে যাওয়ার সময় কাফনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই সাথে করে নিতে পারব না।
‘দুনিয়ার জীবন খেল তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের জীবনই অধিক কল্যাণময়। তবুও কি তোমাদের বোধোদয় হবে না?’
আল কুরান ৬:৩২

Categories
অভিজ্ঞতা যাপিত জীবন

তাহার ভারত যাত্রা

সে অনেক দিন আগের কথা। আমাদের বিয়ের দিন ছিল। যখন কাজী সাহেব সাহেব আমাকে বিয়ে পড়ানোর জন্য আসলো, এসে জিজ্ঞেস করল অমুকের ছেলে তমুক, এত টাকা দেনমোহর দিয়ে অমুকের মেয়েকে বিয়ে করার জন্য পাত্রীর অনুমতি চাইছি । ভাষাটা অপরিচিত লাগায় পাশে বসা মামাকে জিজ্ঞেস করলাম কি বলব মামা? তিনি বললেন অনুমতি দিলাম, বল। অনুমতি দিলাম- আমিও তাই বললাম । একটু পর অপেক্ষায় রইলাম কখন আবার আমার কাছে আসবে কবুল বলানোর জন্য। সারা জীবন বাংলা সিনেমায় দেখে এসেছি, বলো মা, কবুউউল !! আমিও ভাবলাম আমাকেও তাই জিজ্ঞাসা করবে ।
ও মা,পাত্রের কাছে বিয়ের আঞ্জাম নিয়ে তখন দেখি মুনাজাত করার জন্য হাত উঠাচ্ছে সবাই। বিয়ে নাকি হয়ে গেছে । আমার পাশে দাঁড়ানো দোস্ত বললাম এখনো তো কবুল বলিনি। বিয়ের ঘটনা শেষ ??!!!
যাই হোক খাওয়া-দাওয়া শেষে আমার শ্বাশুড়ি মা আমার হাতে আংটি পড়ালো এবং পাশে দাঁড়ানো জামাই ভদ্রলোকের হাত আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, আমার ছেলেকে তোমার হাতে তুলে দিলাম । তখন আবার টাস্কিত হইলাম!! সারাজীবন বাংলা সিনেমায় দেখলাম বিয়ের সময় মেয়ের বাবা ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দেয় । আর আমার শাশুমা ভদ্রলোকের হাত আমার হাতে তুলে দিল!!!
#বাংলা সিনেমা ফ্যাক্ট
আগামীকাল ভদ্র লোক আমাদের ছেড়ে দেশের বাইরে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই মিস করা শুরু হয়ে গেছে!!!!
#স্মৃতিচারণ