Categories
Notice

পাজী মা

নুবাইদের খাবার গরম দিয়ে বাটি কিচেনে একপাশে রাখলাম। অন্যপাশে সবার জন্য খাবারের প্লেট রেডি করছি। নুবাঈদ চট করে চলে আসছে বাটি ধরতে।

সারাদিন ধরে ক্রমাগত কিছু না কিছু ফেলছে, চেয়ার বেয়ে বিভিন্ন জায়গায় উঠে যাচ্ছে, জগ থেকে পানি ঢেলে দিচ্ছে….. মোটকথা কিছু না কিছু করছে। ভাবলাম গরম বাটিতে হাত দিলে একটু শিক্ষা হবে, আরেক মন বলছে, বেচারা হাতে ব্যথা পাবে।

ভাবতে ভাবতে সে ধোঁয়া ওঠা গরম বাটিটা ধরে ফেলেছে। সাথে সাথে ছ্যাৎ করে উঠলো, হাতটা সরিয়ে নিলো এবং পাছুতে হাত ডলতে ডলতে কিচেন থেকে বেরিয়ে গেল। এরপর সোজা বোনকে চেয়ার থেকে সরিয়ে দিয়ে বোনের টেবিলে।

মনে মনে আবার নিজেকে বকাবকি করতে লাগলাম, পাঁজি মা, হতচ্ছাড়া মা 😕

Categories
Notice

Sometimes learning is fun….

একসাথে বেশ কিছু কাজের প্রেশার পড়ে গেছে। কাজ বেশি জমে গেলে টেনশনের ঘুমাতেও পারিনা, এমন অবস্থা হয়ে যায়।

তাই ভাবলাম ছানাপোনার সাথে একটু ঘোরাঘুরি হয়ে যাক।

বাসার কাছেই বুড়িগঙ্গা। খুব সহজেই দশ মিনিটে গিয়ে ঘুরে আসা যায়। বিকেলে তাই তাদের নিয়ে হেঁটে আসলাম।

নদীতে এপার থেকে ওপারে লোকজন নৌকা করে অথবা ট্রলারে করে আসা-যাওয়া করছে। একটা লাল রঙের পালতোলা নৌকা ও দেখলাম। মুগ্ধ হয়ে দেখতেই থাকলাম আর দেখাতে লাগলাম বাচ্চাদের।

ঘুরতে এসে তারা বিভিন্ন জিনিস দেখে প্রশ্ন করা শুরু করলো। প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ফাঁকে ফাঁকে বেশকিছু ভোকাবিউলারি তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিলাম।
নৌকা- boat
নদী- river
পানি- water
মাছ- fish
সাপ- snake
নদীর তীর- bank

গল্পে গল্পে তারা নদী এবং তার আশেপাশের লোকজন, কাজকর্ম, জায়গার নাম সম্পর্কে একটু জেনে নিল। কতখানি মনে রাখতে পারবে বোঝা যাচ্ছে না। তবে তারা বেশ আনন্দ পেয়েছে, পড়াশোনার জিনিসগুলো চোখের সামনে বাস্তব দেখতে পেয়ে।

Categories
Notice

নুবু কান্ড

দুপুরবেলা ওয়াশিং মেশিন থেকে কাপড় বের করে দেখি সবগুলো কাপড় সাদা সাদা কি দিয়ে যেন মাখামাখি হয়ে আছে। কাপড় গুলো ভালো করে তুলে দেখি অনেক গুলো ভেজা কাগজের টুকরা। নুবাঈদের হার্ডবুক সেটের একটা বই সে মেশিনে কোন এক ফাঁকে দিয়ে দিয়েছে। সাধারণত মেশিনের ঢাকনা তুলে এটা সেটা দিয়ে দেয়। কিন্তু মেশিন চলাকালীন সময়ে আজ কোন এক ফাঁকে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এত কষ্ট লাগছে দেখতে।

তার আশেপাশে কোন বই রাখা যায় না। আমার অথবা ভাই-বোনের বই-খাতা যেটাই হাতের কাছে পায়, ছিড়ে ফেলে। তার নিজের গুলো ছেঁড়া যায়না, তাই সেগুলোর প্রতি আগ্রহ কম।
হাতের নাগালে কলম, পেন্সিল, মার্কার, রং যাই পাবে, দেয়ালে আঁকা আকি করে ভরিয়ে ফেলেছে। তার অত্যাচারে বাসায় কলম, পেন্সিল, মার্কার দরকার মতো কোন কিছুই এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। বই খাতা নিয়ে বসতে পারি না অনেকদিন হলো। মোবাইলে টুকটাক পড়ালেখার কাজ, অফিসে র কাজ চালাতে হয়। মোবাইলটা হাতের নাগালে পেলে দেয় তুলে একটা আছাড়। মোবাইলের স্ক্রিনটা অলরেডি ফেটে চৌচির হয়ে আছে।

বারান্দা দিয়ে হাতের কাছে যা পায়, টুপটাপ ফেলে দেয়। কাপড়ের ক্লিপ অর্ধেক ফেলে দিসে মনে হয়!!


কয়দিন আগে প্রায় নতুন এক কৌটা ট্যালকম পাউডার খালি করে ফেলেছে। কসমেটিক সামগ্রী গুলা নিজেরাও ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারি না, তার হাতের নাগালের বাহিরে রাখতে রাখতে। ড্রেসিং টেবিল পুরাটাই খালি পড়ে থাকে। আলমারির উপরে , চিপাচাপায় জিনিস পত্র রাখতে রাখতে অনেক কিছু হারিয়েও ফেলেছি। ভুলভাবে কোনক্রমে তার হাতের নাগালে কিছু গেলে, সেটা শেষ।

ফ্রিজের দরজা দিনে-রাতে মোটামুটি পনের বিশ বার খুলবে আর লাগাবে। চোখের আড়াল হলেই সে দৌড়ে ফ্রিজের দরজা খুলবে এবং ভেতরের জিনিসপত্র নাড়াচাড়া করে ফেলে দিবে। শেষ পর্যন্ত রশি দিয়ে দরজাটা বেঁধে রাখি। নিজেরো ব্যবহার করতে অসুবিধা হয় এখন। ডিপ ফ্রিজের চাবি ঘোরায় ইচ্ছামতো। কখন জিরো দেয়, কখন মিড বা হাই দিয়ে রাখে টের ও পাইনা।

পানির ফিল্টার উঁচুতে রেখেছি। সে টুলে দাঁড়িয়ে ফিল্টারের পানি ছেড়ে দেয়। অটো চুলা ধুম করে বাড়িয়ে দেয়।

মন মেজাজ খারাপ থাকলে চড়, থাপ্পড়, খামচি চলে (আমার উপর)। নতুবা মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে কাঁদতে থাকে। নামযের সামনে শুয়ে বসে থাকবে, হিজাবের ভেতর ঢুকে থাকে। পুরা একটা এটেনশন সিকার। সবাইকে তটস্থ রাখে।

এভাবেই বুঝি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে স্বৈরশাসন চলে।

Categories
Notice

সিনেমার মতো বাচ্চা

নুবাঈদ ঘুমানোর পর, এক ঘন্টা – আধা ঘন্টা পর পর উঠে উঠে চেক করে , তার সার্ভিস প্রোভাইডার ঠিকভাবে সার্ভিস দিচ্ছে কিনা!!🙄
প্রচণ্ড গরমে রাতে ঘুমায় দেরিতে।
তাই সেহরি খাওয়ার আগে বা পরে দেখা যায় টানা 1 ঘন্টা ঘুমাতে পারিনা । একটু পর পর সার্ভিসিং করা লাগে।
অন্যদিকে সকালে বড় দুই ভাই বোনের পেঁ পো তো আছে ই। ফলাফল- মাথা ঘুরে , মাথা ব্যথা থাকে সারাদিন।🥴🥴
কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না । 😑
মন চায় বাংলা সিনেমার মতো একটা ব্যাকগ্রাউন্ড সঙ্গীত চালিয়ে দেই । সংগীত বাজতে থাকবে ।🥳 বাচ্চাগুলা বড় হয়ে যাবে । স্কুল , কলেজ, ইউনিভার্সিটি পড়া শেষ করে ফেলবে। এরপর রেজাল্ট নিয়ে এসে বলবে মা, মা আমি মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছি।

পোলাপাইন গুলা সিনেমার মত তাড়াতাড়ি বড় হয়ে গেলে মন্দ হোত না 😎😎

Categories
Notice

নাওঈদ কথন

আমার বড় পুত্রের শি আসলে বাথরুমে যেতে চায় না । তার সামনে দিয়ে প্যান্ট ভেজা থাকে । এটা দেখে তাকে বাথরুমে পাঠাতে হয়।
আর চারিদিকে যদি গন্ধে আমোদিত হয় তখন বুঝতে পারি তার পটি আসছে। তখন ঠেলে বাথরুমে পাঠানো লাগে। এবং প্যান্টে মানচিত্র লেগে থাকে।
তার বাথরুমে যেতে ইচ্ছা করে না 🙄

Categories
Notice

ছোট ছানা

সময়ের অভাবে তিন চার দিন পর একদিন ঘর মোছার চেষ্টা করি। তাই তিনজনকে একসাথে প্যাকেট করে শুইয়ে দিলাম। কিন্তু ছোটজনের তো ডিভাইসের প্রতি মনোযোগ নাই। ব্যাপক কান্নাকাটি করে বিছানা থেকে নেমে গেল। এখন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার ইঁদুরের মত মপের পিছে পিছে ঘুরছে। 🙄

Categories
Notice

ক্যাঙারু ছানা

ক্যাঙারু ছানা সারাদিন তার মায়ের থলিতে লটকে থাকে। নুবাঈদের অবস্থা এখন ক্যাঙারু ছানার মতো। মাত্র সে হামাগুড়ি দেয়া শিখেছে। সারাটি ক্ষণ কিছু না কিছু টানছে, ফেলে দিচ্ছে, লটকে ঝুলে থাকছে….. আমার সাথেই সে ঝুলতে পছন্দ করে বেশি!!! ক্যঙারু মাতা মনে হয় নিজেকে 🙄

এই পড়ে গিয়ে মাথায় আলু বানাচ্ছে, পিছলা খাচ্ছে, গরম কিছু ধরে টান দিচ্ছে।( আজ তার গরম খাবার বাটি টান দিয়ে ফেলে দু আঙ্গুল লাল করে ফেলেছে) 😓

এতো ব্যস্ত সে থাকে, সাথে আমাকেও ব্যস্ত রাখে। মাঝে মাঝে আমার অবস্থা দাড়ায়, আমি কে, কি করছি, কেন করছি…. সব মাথা থেকে খালি হয়ে যায়….. মনে হয় ৩০ ঘন্টায় এক দিন হলে কিছু সময় পাওয়া যেত।

আপাতত মনে হচ্ছে একটা চক্রে আটকে গেছি।
আমি যে কবে আমার আমিকে ফেরত পাবো!!?? 😔🙄

আমার ক্যাঙারু ছানা
Categories
Notice

গোলাপ ফুল পিঠা

সকাল দুপুরের খাবারের পর বিকেলের নাস্তা একটি অপরিহার্য খাবারের অংশ। আমার বাচ্চারা অনেক সময় রাতের খাবার ভালোভাবে খায় না। সে ক্ষেত্রে বিকালের নাস্তা সাধারণত একটু ভারী করে করার চেষ্টা করি। বিকালের নাস্তার মেনু একই ধরনের খাবার ঘুরেফিরে থাকে। মাঝেমাঝে নাস্তা বানাতে ইচ্ছে না করলে শর্টকাট মেনু দুধ-করণফ্লেক্সে চলে যাই। নাস্তার এত বৈচিত্র দেখে সাধারণ খাবার দাবার এখন আর বাচ্চাদের চোখে লাগে না। কোনো এক দিন নাস্তা বানাতে ইচ্ছে করলো না , বাচ্চাদের হাতে বিস্কুটের প্যাকেট ধরিয়ে দিলাম। দুধ বিস্কুট খাবে নাস্তা শেষ। দেখা গেল বিস্কুট খাওয়া শেষ করে নায়রাহ বলছে ,এবার নাস্তা দাও 梁
মাঝে মাঝে নিজের ও  ইচ্ছা করে একটু ভিন্নধর্মী নাস্তা খেতে। কিন্তু তখন হয়ত এনার্জি থাকে না অথবা সময় থাকেনা ।
আজ নাস্তা বানানোর মুড ছিল, তাই গোলাপ ফুল পিঠা বানিয়ে ফেললাম।
আম্মুকে দেখতাম স্পেশাল মেহমান আসলে এই পিঠা বানাতে। এখনতো আর স্পেশাল মেহমান আসার কোন সম্ভাবনা নাই । তাই একটা উপলক্ষ ধরে বানিয়ে ফেললাম। রিওয়ারড মেকানিজম।
(নায়রাহ প্রায় ৪ বছর বয়সে ডায়াপার ছেড়েছে। কিন্তু ৫ বছর বয়সে ও বিছানা ভেজায়। গত কয়েকদিন ধরে আর এ কাজ করছে না। তাই ভাবলাম, পুরষ্কার দেই।)

পিঠাটি বেশ কষ্টকর বানানো। অনেক সময় লাগে। আমার ২ ঘন্টা লেগেছে।

নাস্তা খাওয়া শেষে অবশিষ্ট
Categories
Notice

Chapter 04 & 08 (Class-X, revision class)

Here goes the recording of the class taken on Google Meet. Due to technical misconfiguration, I couldn’t capture voice of the participating students.

Don’t forget to reach out if you have any question or feedback.

Categories
Notice

পুনর্যাত্রা

This is my second attempt to continue my personal site aka