Categories
যাপিত জীবন

ছানা পোনা ও তাদের মায়ের অনলাইন ক্লাস

লকডাউন পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের স্কুল, কলেজ বন্ধ। কতদিন বন্ধ থাকবে, আল্লাহ জানে!!

বিকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। সকাল এগারোটার পর নায়রাহ, নাওঈদ দুইজনের ক্লাস শুরু হয় । একটা পর্যন্ত চলতে থাকে। আবার চারটার দিকে শেষ ক্লাসটা থাকে নায়রার।😔
এর মাঝে কখনো সকালে, কখনো দুপুরে আমাকে ক্লাস নিতে হয়। মোবাইলটা মোটামুটি তাবিজের মতো হাতের সাথে ঝুলতে থাকে । কার কখন ক্লাসের লিংক দিবে!! 🧐
দুইজন দুইরুমে দুইটা কম্পিউটার দিয়ে ক্লাস করতে থাকে। তাদের সাথে সাথে তাদের বাবা-মা ও ক্লাস করতে থাকে । একজনের সাথে একজন বরাদ্দ। 🥺

Categories
যাপিত জীবন

নুবাঈদ রোজনামচা

নুবাঈদ, আমার ছোট পুত্র, তার ৫ মাস বয়সে বিভিন্ন ভাবে মনের ভাব প্রকাশ করে। আমি সেটা তর্জমা করে কাজ করি।

সকালে ঘুম ভেঙে দেয় একটা হাসি।
-মাআআআআ…… মিষ্টি মিষ্টি হাসি, আমি ভালোবাসি।🥰🥰🥰
খেয়ে দেয়ে এক দফা চিৎকার।

Categories
যাপিত জীবন

অনলাইন ক্লাস ফ্যাক্ট

ক্লাস শুরু করার আগে নায়রাহ, নাওঈদকে ভালো করে বুঝালাম , বেশ কিছুক্ষণ রুমে আসা যাবেনা ।মাম্মাম এখন পড়াবো । আর সাড়ে দশটায় ঘুম থেকে উঠে সাড়ে এগারোটায় নুবাঈদ আর ঘুমায় না।

এভাবেই বুঝিয়ে শুনিয়ে বাচ্চাদের ক্লাস নিতে বসলাম।
নায়রাহ একটু পর পর, মাম্মাম কি করে বাবা?😑😑
নাওঈদ- বাবা ,বাবা একটু কথা বল !!! 🙄🙄
নুবাইদ- আ আ আ…. (ঘুম পাচ্ছে) 🥴

#অনলাইনক্লাসফ্যাক্ট
#আমারটিয়াময়নাবাবুইপাখিরা

Categories
যাপিত জীবন

বাসা পাল্টানো

গতকাল বাসা পাল্টালাম । বিশাল একটা ঝামেলার কাজ!বাসা পাল্টাতে গেলে কিছু দর্শন আপনাতেই জেগে ওঠে।
এত সুন্দর সুন্দর কাগজের প্যাকেট, ছেলেমেয়েদের ছোটবেলার কিউট জামা, তাদের প্রথম জুতো জোড়া, আমার বিয়ের জুতা , যেটা আর পারিনা, বরের বিয়ের পাঞ্জাবি , আমার বিয়ের ড্রেস, নোসিলা নেস্ক্যাফের কাচের বয়াম থেকে শুরু করে সবকিছুতে এত মায়া জড়িয়ে আছে যে চাইলেও ফেলতে পারিনা! ছাত্রজীবনের একগাদা বই যেগুলো আর পড়ার সম্ভাবনা নেই , সেগুলো ও ফেলতে পারিনি। জিনিসপত্রের প্রতি এত মায়া কাজ করে, কিন্তু কবরে যাওয়ার সময় কাফনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই সাথে করে নিতে পারব না।
‘দুনিয়ার জীবন খেল তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের জীবনই অধিক কল্যাণময়। তবুও কি তোমাদের বোধোদয় হবে না?’
আল কুরান ৬:৩২

Categories
অভিজ্ঞতা যাপিত জীবন

তাহার ভারত যাত্রা

সে অনেক দিন আগের কথা। আমাদের বিয়ের দিন ছিল। যখন কাজী সাহেব সাহেব আমাকে বিয়ে পড়ানোর জন্য আসলো, এসে জিজ্ঞেস করল অমুকের ছেলে তমুক, এত টাকা দেনমোহর দিয়ে অমুকের মেয়েকে বিয়ে করার জন্য পাত্রীর অনুমতি চাইছি । ভাষাটা অপরিচিত লাগায় পাশে বসা মামাকে জিজ্ঞেস করলাম কি বলব মামা? তিনি বললেন অনুমতি দিলাম, বল। অনুমতি দিলাম- আমিও তাই বললাম । একটু পর অপেক্ষায় রইলাম কখন আবার আমার কাছে আসবে কবুল বলানোর জন্য। সারা জীবন বাংলা সিনেমায় দেখে এসেছি, বলো মা, কবুউউল !! আমিও ভাবলাম আমাকেও তাই জিজ্ঞাসা করবে ।
ও মা,পাত্রের কাছে বিয়ের আঞ্জাম নিয়ে তখন দেখি মুনাজাত করার জন্য হাত উঠাচ্ছে সবাই। বিয়ে নাকি হয়ে গেছে । আমার পাশে দাঁড়ানো দোস্ত বললাম এখনো তো কবুল বলিনি। বিয়ের ঘটনা শেষ ??!!!
যাই হোক খাওয়া-দাওয়া শেষে আমার শ্বাশুড়ি মা আমার হাতে আংটি পড়ালো এবং পাশে দাঁড়ানো জামাই ভদ্রলোকের হাত আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, আমার ছেলেকে তোমার হাতে তুলে দিলাম । তখন আবার টাস্কিত হইলাম!! সারাজীবন বাংলা সিনেমায় দেখলাম বিয়ের সময় মেয়ের বাবা ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দেয় । আর আমার শাশুমা ভদ্রলোকের হাত আমার হাতে তুলে দিল!!!
#বাংলা সিনেমা ফ্যাক্ট
আগামীকাল ভদ্র লোক আমাদের ছেড়ে দেশের বাইরে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই মিস করা শুরু হয়ে গেছে!!!!
#স্মৃতিচারণ