Categories
যাপিত জীবন

পিতা-কন্যা

আম্মু প্রায় একটা শ্লোক বলতো,
চোখ ব্যাটা হারামজাদা/
মার দিকে চায়।
বলতো, মেয়েদের সব সময় নিজেদেরকে প্রপার পর্দার সাথে থাকতে হবে। আরও বলতো, নিজের বাবা ভাইয়ের সামনে সব সময় ভালো করে কাপড় গায়ে রাখতে হয়। ছোটবেলায় যখন সিনেমাতে দেখতাম, বাবাকে মেয়েরা ভালোবেসে জড়িয়ে ধরে, নিজে নিজেই ভাবতাম আমি কি বাবাকে কম ভালোবাসি, নাকি আব্বু কম ভালোবাসে?? আমরা জড়াজড়ি করি না কেন? নাটক সিনেমায় সব জায়গায় মেয়েরা তাদের ভাইকে, বাবাকে অবলীলায় শুধু জড়িয়ে ধরে। আমার কেন জড়িয়ে ধরতে এত বাধো বাধো লাগে অথবা আমরা কেন এই জড়িয়ে ধরা কালচার পরিবারের মধ্যে দেখি নাই?? বড় হতে হতে আস্তে আস্তে এসব প্রশ্নের জবাব খুজে পেয়েছি।

আমার বাচ্চাদেরকে মোটামুটি একা হাতেই লালন-পালন করতে হয়েছে। মেয়ে হওয়ার পর যখন মাঝে মাঝে তার বাবা তার ডায়াপার পরিয়ে দিতো, আম্মু দেখলে বেশ বিরক্ত হতো। বলতো তোর আব্বুকে দিয়ে জীবনে কোনদিন তোদের প্যান্ট ও পরাতে দেইনি। তোরা কেন বাচ্চাদের বাবাকে দিয়ে পটি পরিষ্কার করাস?? অবাক হয়ে চিন্তা করতাম, মেয়ের নিজের বাবা, অসুবিধা কি??

সময়ে সময়ে পেপার পত্রিকায় অনেক খবর পড়েছি। ভাই বোন সম্পর্ক, মামা ভাগ্নি, চাচা ভাতিজি, নানা /দাদা -নাতনি, এখন বাবা- মেয়ে। এই ধরনের ধর্ষণের, নির্যাতনের ঘটনা গুলো এখনকার সময়ে নতুন হচ্ছে , বিষয়টা এমন না । সবসময় হয়ে আসছে। আগে হয়তো আমরা এত খবর পেতাম না । এখন খবরগুলো প্রকাশিত হয়।

এত ভীতিকর খবর গুলো যখন দেখি তখন আমি নিয়মিত দোয়া করি, পৃথিবীর সমস্ত মেয়েরা যাতে নিরাপদে থাকে। এই বিষয়ের জন্য আলাদা করে বিশেষ ভাবে দোয়া করি। মেয়ে বাচ্চা ছেলে বাচ্চা কারো কাছেই নিরাপদ না।

আপুরা, আপনারা বাচ্চাদের ব্যাপারে প্রচুর সর্তকতা অবলম্বন করার চেষ্টা করবেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরটি তে দেখা গিয়েছে মেয়ে দুটির মা যখন বাসার বাইরে কাজে যেত, তখনই তাদের বাবা মেয়েদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতে। আমরা যারা কর্মজীবী মা, প্লিজ প্লিজ বাচ্চাদের ব্যাপারে অনেক অনেক বেশি সর্তকতা অবলম্বন করার চেষ্টা করবেন। বাচ্চা যেখানে থাকবে সেখানে সিসি ক্যামেরা সহ যত ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির সবকিছু লাগানোর ব্যবস্থা করা, বাচ্চার দেখাশোনার জন্য অবশ্যই দাদি ,নানি ,খালা, বোন এ ধরনের মানুষের ব্যবস্থা করা। আমাদের একটুখানি অসতর্কতার জন্য আমাদের ছেলেমেয়েদের যদি কোন কিছু হয়ে যায় তাহলে নিজেদেরকে সারা জীবনের জন্য ক্ষমা করাটাই কষ্ট হয়ে যাবে। তাই কোন কিছু হবার আগেই সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করা জরুরী।
এছাড়া আরো একটা বিষয় আমার খুব মনে হয় সেটা হল বাচ্চা যখন খুব ছোট থাকে তখন হয় বাচ্চাকে ডায়াপার পরিয়ে রাখা উচিত অথবা ন্যাপি বা প্যান্ট পরিয়ে রাখা উচিত। বাচ্চা ঘন ঘন প্রস্রাব করে, এই জন্য অনেকে বাচ্চাকে নিয়মিত ন্যাংটু রেখে দেয়। এটা বাচ্চার কাছে থাকা তার আপন জন দের মধ্যে অনেক বিকৃত কামনার উদ্রেক ঘটায়। তাই বাচ্চাদেরকে কখনোই খালি রাখবেন না। প্যারেন্টিং গ্রুপ গুলোতে অনেক ঘটনা শোনা যায় যে, বাচ্চার লজ্জাস্থান ধরে মুরুব্বি মানুষ জন খেলা করে। মা দেখেও কিছু বলতে পারেনা।

তখন এই বিষয়টাই মনে হয়েছে যে বাচ্চাকে নেংটু রাখলে এই ধরনের বাজে ঘটনা যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে।

বোনেরা আমার , নিজেদের ব্যাপারে যেমন সতর্ক থাকার চেষ্টা করবেন ঠিক তেমনিভাবে নিজের ছেলে মেয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার চেষ্টা করবেন। এরপর আল্লাহ ভরসা। প্রতিনিয়ত তাদের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করে যেতে হবে।

ছোটবেলায় আম্মু সব সময় দোয়া করত বাচ্চারা যাতে মান সম্মানের সাথে বড় হতে পারে। তখন বুঝতে পারতাম না এটা কেমন দোয়া? বড় তো বাচ্চারা এমনি এমনি হয়। মান ইজ্জত এর সাথে বড় হওয়া- এটা কেন আলাদা করে দোয়া করতে হবে? এখন খুব ভাল করে বুঝি যে মা-বাবার দোয়া ছেলে-মেয়েদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ পৃথিবীর সমস্ত বাচ্চাদেরকে হিংস্র পুরুষদের হাত থেকে নিরাপদে রাখুক।

খবর লিংক কমেন্টে।

https://m.mzamin.com/article.php?mzamin=288627

Categories
যাপিত জীবন

পোস্ট করোনাকালিন চিন্তা

জগত সংসার নিয়ে আমাদের অনেক চিন্তা ভাবনা থাকে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, সংসার বাচ্চাকাচ্চা, সম্পদ, খ্যাতি – সবকিছু নিয়ে কমবেশি আমাদের চিন্তা কাজ করে। সেই অনুযায়ী ছোটবেলা থেকেই আমরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের কাজকর্ম করে থাকি। অনেক রকম ত্যাগ স্বীকার করি যাতে লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। যখন একটা করে লক্ষ্য অর্জিত হয় তখন কতইনা ভালো লাগা কাজ করে। হোক সেটা ছোট অর্জন অথবা বড় অর্জন।

রান্না করতে গিয়ে যখন নতুন একটা রেসিপি সফলভাবে বানাতে পারি তখন যেমন খুশি লাগে, তেমনি ভাবে যখন কোন একটা বিশেষ কাজে সফল হই, নিজেই যখন কোন কিছু বানিয়ে ফেলি সেটা নিজের জামা হোক, খাবার বা কোন কিছুর ডিজাইন অথবা কোন জটিল পরিকল্পনা- সফল হলে মনটা খুশিতে ভরে ওঠে।

দিন রাত ২৪ ঘন্টা মোটামুটি আমরা এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য নানা রকম কাজ করতে থাকি। এসব যাই কিছু করি না কেন তার জন্য একটি সুস্থ শরীর এবং সুস্থ মন দরকার হয়। শরীর যখন অসুস্থ হয় তখন এই পরিকল্পনা, কাজকর্ম, সফলতা, সংসার সন্তান কোন কিছুই আর ভালো লাগেনা। জগত সংসারের কোনো কিছুই তখন আর মাথায় কাজ করে না। মাথায় শুধু একটা বিষয় ঘোরে, কখন সুস্থ হব? আল্লাহ আমাকে সুস্থ করে দেন।

অসুস্থ অবস্থায় দুনিয়াবী চিন্তা মাথায় তেমন একটা আসেনা। তখন দু একটা বিষয় শুধু মাথায় কাজ করে। আমি মরে গেলে অমুক-তমুক এর কি হবে অথবা আমার অসুস্থতার জন্য আমার পুরো পরিবারের অনেক পেরেশানি যাচ্ছে। এই দুটো বিষয় খুব কষ্টদায়ক। বিশেষ করে মরে গেলে সন্তানদের কি হবে, এই চিন্তা করলে দুনিয়াদারি সব খন্ড বিখন্ড হয়ে যায়।

মা-বাবার অল্টারনেটিভ পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারে না। এটা চিন্তা করলেই দুনিয়াটা কেঁপে উঠে। এসব কথা যখন আমার তাহাদের বাবার সাথে শেয়ার করি, সে তখন বলে, মরে গেলে তো দুনিয়ার সাথে তোমার সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। কে কেমন থাকবে এই চিন্তা কবরে তোমার কোন কাজে আসবে না। বরং তুমি পৃথিবীতে কি এমন করে যাচ্ছ যাতে পরকালে ভালো থাকতে পারবে, সেটা নিয়ে চিন্তা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এভাবে আসলে ভাবি না। এভাবে ভাবতে ভয় লাগে। অন্ধকার একটা রুমে থাকতে পারি না একা একা। সেখানে অন্ধকার কবরে একা একা থাকবো শতশত পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে। কি হবে তখন? ওই পর্যন্ত আর ভাবতে পারিনা।

আসলে সুস্থতা আল্লাহ তা’আলা অশেষ বড় একটা নেয়ামত, যার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে শেষ করা যাবেনা। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকলে সুস্থ শরীরের গুরুত্ব ও মর্যাদা বোঝা যায়। আমাদের করোণা আক্রান্ত বন্দী জীবনে যেটা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গিয়েছে।

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হে আমার উম্মত! পাঁচটি সম্পদ হারানোর আগে তার মর্যাদা দাও। আর তা হলো-

(১) মারা যাওয়ার আগেই তোমার জীবনের প্রতি মুহূর্তকে কাজে লাগাও।
(২) বৃদ্ধ হওয়ার আগে যৌবনকে কাজে লাগাও।
(৩) দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতার মূল্য দাও।
(৪) অসুস্থতা আসার আগে সুস্থতাকে মর্যাদা দাও।
(৫) ব্যস্ততার আগে অবসরকে মর্যাদা দাও।’
(মুসতাদরেকে হাকেম)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ পাকের দু’টি বিশেষ নেয়ামত সম্পর্কে খুবই অমনোযোগী। একটি হলো স্বাস্থ্য আর অপরটি হলো অবসর।’ (বুখারি ও তিরমিজি)।

Categories
যাপিত জীবন

মোটিভেশনাল স্পীকার

বড় পুত্রের সামনের মাসে ইনশাল্লাহ পাচ বছর হবে। স্কুলে ভর্তি হয়ে আছে। অনলাইন ক্লাসে কোন মজা পায় না, তাই ক্লাস করতে খুব একটা আগ্রহ দেখায় না ‌ আসলে মজা পায় না বলা ঠিক না, মোবাইল স্ক্রিনে এত ছোট ছোট বোর্ড , লিখা , মিস দের দেখা , বন্ধুদের দেখা- এগুলো আসলে খুব একটা বুঝতে পারেনা।

লেখালেখি করতে কোন রকম আগ্রহ পায় না । সপ্তাহে বা পনের দিনে একবার ধরে বসালে দুচার লাইন লিখে। পর্যাপ্ত সময় এবং সুযোগের অভাবে আমিও নিয়মিত দেখাশোনা করতে পারিনা। চিন্তা করে দেখলাম প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট তাদের পেছনে সময় দেওয়া উচিত। সন্ধ্যা থেকে তাই তাদের নিয়ে বসে আছি। দেখা গেল, পড়ার টেবিলে আমি একাই বসে আছি। তারা ভাই বোন একটু পর পর বিভিন্ন কাজে উঠে যায়।

শেষ পর্যন্ত মোটিভেশনাল স্পিকার হওয়ার চেষ্টায় আছি।
মোটিভেশন: এশার আযান দিলো মাত্র। জামাত শুরু হয় আযান দেয়ার প্রায় বিশ পঁচিশ মিনিট পরে। পুত্র আমার সাথে সাথে দরজা খুলে বেরিয়ে যাচ্ছে। দৌড় দিয়ে তাকে ধরলাম। লিখা দিলাম, এগুলো লিখে শেষ করলে একটু পরে আমি পাঠিয়ে দিব মসজিদে-কথা দিলাম।(বাসার নিচেই মসজিদ। এতো দিন বাবা/নানার সাথেই গিয়েছে। আজ একা যেতে হচ্ছে।) অবশেষে নাওঈদ লিখতে বসল।

Categories
যাপিত জীবন

খুশি মনে কোরবানি

ছোটবেলায় কোরবানি ঈদের সময় আব্বুকে দেখতাম ঈদের আগের দিন দাদুর বাড়িতে চলে যেতো। ঈদের দিন কোরবান শেষে সন্ধ্যা বা রাতে গোশত নিয়ে ফিরে আসতো। তখন আমাদের গরু দাদার বাড়িতে কোরবান দেয়া হতো। নিজেদের গরু দেখতে পেতাম না। তাই প্রতিবেশীদের কেনা গরু দেখেই আমরা আনন্দ নিতাম। আমাদের গরু নাই কেন , এই টাইপের দুঃখবোধ এ আক্রান্ত হইনি কখনো। ঈদের দিন সকালে প্রতিবেশীদের কারো না কারো বাসা থেকে হয়তো গোস্ত চলে আসতো। আর আমাদের গোস্ত আসতো রাতে। সেই আমাদের বাসায় এখন এক গরু কোরবানি দেয়া হয়।

পরিচিত একজনের কাছে তাদের ছোটোবেলায় কথা শুনছিলাম। অনেকদিন তাদের কোরবান দেয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাই ঈদের দিন তারা দরজা বন্ধ করে বসে থাকতো। তাদের এখন ঈদের দিন নরমাল ফ্রিজ,ডিপ ফ্রিজ ভর্তি হয়ে যায় কোরবানীর গরুর গোশতে। সময়ের সাথে সাথে আমাদের সামর্থ্যের পরিবর্তন ঘটে।

কোরবানির বিষয় টা পুরোটাই সামর্থ্যের উপর। কারো জন্যই বোঝা নয়। কুরবানী দিতে না পারলে মন খারাপের কিছু নাই বরং সেই দিন অন্যের মেহমান হওয়া যায়। কোরবানি মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা গোস্ত ডিস্ট্রিবিউশন এর মাধ্যমে অনেকের মেহমানদারী করার উপলক্ষ তৈরী করে দিয়েছেন। এতে কারো নিজেকে বড় মনে করার সুযোগ নাই গোস্ত দিতে পারার জন্য, কারো নিজেকে ছোট মনে করার কোনো সুযোগ নাই না দিতে পারার জন্য।

কোরবানির গোশতে এইজন্যই তিনটি ভাগ রাখা হয়েছে। নিজের জন্য , আত্মীয়র জন্য এবং দরিদ্র ও অন্যান্য মানুষদের দেওয়ার জন্য। এই আদান-প্রদানটাই কোরবানির সৌন্দর্য।

গতবছর আমি কোরবান দিতে পারিনি। ঈদের আগে তাই চার- পাঁচ কেজি গরুর গোশত কিনে রেখেছিলাম। খাসির গোশত ও ফ্রিজে ছিল একই পরিমাণে। ঈদে মন খারাপ করার কোন সুযোগই ছিল না। রান্নাবান্না করে পাড়া-প্রতিবেশিদের দিয়েছিলাম। বাসায় অতিথি দাওয়াত করেছিলাম। আমিও দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। আমার তিন বড় আপা (সহকর্মী) কোরবানির গোশত পাঠিয়েছিল আমার জন্য। আর আম্মু গোস্ত রেখে দিয়েছিল।

যেহেতু করোনা কালীন কারণে চট্টগ্রামে পরিবারের কাছে যেতে পারিনি, তাই অন্য রকম ঈদ কাটিয়েছিলাম নিজের সংসারে। কোরবানি না দিতে পারার জন্য ঈদের আনন্দ এতো টুকু নষ্ট করিনি।

এবারো ঈদের আগে আগেই আমরা আর্থিক কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। তাই কোরবানি করা ফরজ ছিলো না। তবুও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে খুশি মনেই কোরবানি করেছি।

সারাবছর ব্যাপক আকারে দান সাদাকা করা হয়না। কোরবানির মাধ্যমে কিছুটা হলেও কাউকে দেয়ার চেষ্টা করা যায়। মনের কার্পন্যতা কাটানো যায়।

আমরা যেনো শুধু মাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু কোরবানি করি। নিজের বড়ত্বের জন্য, সমাজকে দেখানোর জন্য যাতে আমরা এটা না করি। নিজেকে বড় বা ছোট যেন মনে না করি। কোরবানি করাটা যেন আমাদের জন্য বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়।

কোরবানি আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় আমল। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, কোরবানির ঈদের দিন মানুষের সব নেক আমলের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো কোরবানি করা। কিয়ামতের ময়দানে জবেহকৃত জন্তু তার শিং, লোম, খুরসহ এসে হাজির হবে। নিশ্চয়ই কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে তা কবুল হয়ে যায়। অতএব, তোমরা খুশি মনে আনন্দচিত্তে কোরবানি করো। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৬)

কোরবানি জাহান্নামের প্রতিবন্ধক। আবদুল্লাহ ইবনে হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি খুশি মনে সওয়াবের আশায় কোরবানি করবে, ওই কোরবানির জবেহকৃত পশু কোরবানিদাতার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে।’ (আল মুজামুল কাবির, হাদিস : ২৬৭০)

Categories
যাপিত জীবন

বিচিত্র জীবন

যা করতে চাই

অনেকদিন ধরে আয়োজন করে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয়না। বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করে। খোলা আকাশের নিচে ছাদের উপরে বসে দুপা ঝুলিয়ে মুচমুচ করে কিছু চাবাতে ইচ্ছে করে। প্রাণের বান্ধুদের সাথে হা হা হি হি করতে মন চায়। শুধুই তার সাথে রিক্সায় চড়ে ঘুরতে পরান আনচান করে। শপিং এ গিয়ে দুহাত ভর্তি করে কেনাকাটা করা দরকার। ইত্যাদি সহ আরো কতো কিছু……

আমি আসলে যা করি,
সকালে নাস্তা বানাই, ক্লাস নেই, ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে ছানাপোনা,খানাদানা সামলাই। আবার দুপুরের রান্না, আবার তাদের গোসল, খানাদানা, ঘুম পাড়ানো। এক ফাঁকে সে এবং তারা সহ বুড়িগঙ্গার তীরে হেঁটে আসা, সাথে বাজার করে আনা। আবার নাস্তা বানানো, খানাদানা। আবার রাতের খাবার।
আর এই পুরো সময় নুবাঈদের সার্ভিস প্রোভাইডার এর ক্লান্তিকর কাজ তো আছেই, সাথে চুল টানা, কামড়, খামচি ফ্রি।

যা করা বাকি…..
অনেক গুলো প্রশ্ন তৈরি করা বাকি। ডেডলাইন আর দু’দিন পর। শরনার্থী শিবিরের মতো এলোমেলো ঘর ঠিক করা বাকি। নিজস্ব কিছু কাজ, পড়াশোনা হয়না অনেক দিন ধরে। বড় পুত্র কন্যার সাথে সময় নিয়ে বসা যাচ্ছে না। তারা রূপনগর এর রাজকন্যা আর পুলিশ ম্যান হয়ে মনের আনন্দে দিন পার করছে। কঠিন শাসন করা দরকার।

দু একটা চটকানা সপ্তাহে একবার দিব ভাবছি প্রয়োজন মতো। কিন্তু তাদের বাবা চিৎকার করে একটা ধমক দিলে আমারি চোখে পানি চলে আসে!!!

জীবন বড়ই বিচিত্র।

Categories
যাপিত জীবন

স্মৃতিময় খাবার: ভর্তা

ঝাল ঝাল ভর্তা সব সময়ে খুব ভালো লাগে। সেটা যদি হয় কাঁঠাল বিচি আর শুটকির ভর্তা তবে তো কথাই নেই। এই ভর্তা খাওয়ার জন্য খুব মন চাইতো প্রেগনেন্সি কালীন সময়ে। তখন নিজের হাতের কোন রান্নাই খেতে পারতাম না। মনে মনে চাইতাম কেউ যদি একটু কিছু রেঁধে দিতো আমায়। আম্মু থাকতো আমার থেকে অনেক দূরে অন্য শহরে। তাই প্রতিদিন প্রতিদিন কে আর ভর্তা-ভাজি, ছোট মাছ রেঁধে খাওয়াবে??!!!

সহকর্মীরা টের পেয়ে টুকটাক খাবার প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ নিয়ে আসতো। আর কোন দিন মিস হলে, তাহাকে অফিস ফেরত পথে হোটেল থেকে নিয়ে আসতে বলতাম। রাত দশটায় হোটেল গুলোতে ভর্তা, শুটকি টাইপের খাবার গুলো শেষ হয়ে যেত। তাই কখনো সে আনতে পারত, কখনো খালি হাতে আসতে হতো। কি যে খারাপ লাগত তখন!! আন্টি, জেঠিআম্মার পাঠানো খাবারগুলোও ঐ সময় খুব আনন্দ নিয়ে খেয়েছিলাম।

এই ধরনের খাবার গুলো এখনো খুব ভালো লাগে। তাই নিজে বানালেও যেমন অসুস্থতার সময় কার কথা মনে পড়ে যায়, তেমনি এখনো যখন কেউ যত্ন করে কিছু রেঁধে পাঠায় আমার জন্য, ভালবাসায় কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে যায়।

শারীরিক অসুস্থতার সময় কাছের মানুষ, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব সবাই যদি একটু সচেতন হয়, যে এই সময় হবু মায়ের একটু যত্ন নেই, কিছু দিতে না পারি অন্তত হাসিমুখে দুটো কথা বলি, তাহলে এত হাহাকার নিয়ে থাকতে হতো না কোন মাকে।

আসলে প্রেগনেন্সি যাত্রার সময়কার ভালোবাসাটুকু অথবা মন খারাপ গুলো সবই বেশ মনে থাকে। সময়টা যেহেতু বেশ সেনসিটিভ , তাই ওই সময়কার সবগুলো ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব মনে গেঁথে থাকে। বাবু হবে শুনলে কার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল, কে কেমন ধরনের আচরণ করেছিল, কে আমন্ত্রণ না করে এড়িয়ে গিয়েছিল , কারা খবর নেয় নি…… সব মনে থাকে। এমনো হয়েছে অসুস্থ সময়কার শেষদিকে বাসায় এসে বেড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাবু হয়েছে কিনা , কি বাবু হয়েছে এই খবর টুকু পর্যন্ত নেয়ার সময় তাদের হয়নি। অনেকের কাছে আবার এতজন বাবুর খবর খুব বিরক্তিকর ছিল, এই যুগে এত ছেলে মেয়ে হয় নাকি মানুষের!! অথবা আমার অমুক তমুক আত্মীয়-স্বজনের এখনো ছেলে মেয়ে হয় নাই, তোমার কেন হচ্ছে!!!! কত রকম প্রতিক্রিয়া, পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখলাম!!!

তবে সবকিছু ছাপিয়ে প্রিয় মানুষগুলোর ভালোবাসা, যত্ন যখন পাই এবং দেই তখন আর এতটা খারাপ লাগে না। এখনো কিছু প্রিয় মানুষ ভালোবাসা নিয়ে ছোট ছোট বক্স ভর্তি করে খাবার-দাবার দিয়ে যায়। এত ভালো লাগে তখন 🥰🥰🥰। আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। এই মানুষগুলোর জন্য মন থেকে অনেক ভালোবাসা এবং দোয়া। আজীবন এমনই থাকুক সবাই।

স্বার্থহীনভাবে যখন কোন কিছু আদান-প্রদান হয় তখন সেই ভালোবাসা, আন্তরিকতা যুগ যুগ রয়ে যায়। কোন কারণে অকারণে এই সম্পর্ক গুলো ভেঙ্গে যায় না। যেখানে স্বার্থ থাকে সেখানেই সম্পর্কের উঠানামা থাকে।

আল্লাহ ভালো রাখুক সব ভালো মনের মানুষগুলোকে❤️❤️।

( দুদিন আগে ভর্তা গুলো বানিয়েছিলাম। প্রিয় আপাকে দেওয়ার জন্য যেইনা লিফটে উঠছিলাম, লিফ্ট খোলার পর দেখি তিনিও বক্স ভরে আমার জন্য ভালোবাসা নিয়ে আসছেন ❤️❤️❤️)

Categories
যাপিত জীবন

স্বপ্নভঙ্গের বেদনা এবং….

ছোটবেলা থেকেই মেয়েটির একরাশ স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছে যে, সে বড় হয়ে আর্কিটেক্ট হবে। তার খুব আশা-আকাঙ্ক্ষা , স্বপ্ন এটা নিয়ে। নিজেকে সে সেভাবেই গড়ে তুলেছে।

পড়াশোনায় তার ফলাফল বেশ ভালো। তাই তার লক্ষ্যের দিকে আত্মবিশ্বাসও বেশ মজবুত। এইচএসসি পরীক্ষা তে ভাল ফলাফলের পর যখন সে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং আশানুরূপ কোথাও চান্স পায়নি, তখন থেকেই তার স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়া শুরু করে। অবশেষে সে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি তে অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী হওয়ার সুযোগ পায়। বেশ ভালো একটা সাবজেক্টে ভর্তি হয়েও তার হীনমন্যতা কোনভাবেই দূর হয় না। সে তো নিজেকে মনে করেছে যে, সে ভবিষ্যতের একজন ইঞ্জিনিয়ার/আর্কিটেক্ট হবে। তার লক্ষ্যের সাথে এই পড়াশোনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ফলাফলে প্রথম বর্ষে থাকাকালীন সময়ে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়।

বেশ কিছু সময় ধরে তার চিকিৎসা চলতে থাকে। পড়াশোনায় একটা ইয়ার লস করে পরের বছর আবার সেই একই সাবজেক্টে ভর্তি হয়। আবারও একই দশা। এডজাস্ট করতে পারছে না। ভবিষ্যৎ আর্কিটেক্ট অর্থনীতি পড়ে কি করবে!!!

পরে জাতীয় ইউনিভার্সিটির আন্ডারে তাকে বিকমে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়, বাসার পাশেই একটি কলেজে। বাবা-মার ইচ্ছা মেয়ে সুস্থ থাকুক, পড়াশোনার দরকার নাই। কোন রকম একটা সার্টিফিকেট পেলেই হবে, না হলেও সমস্যা নাই। কিন্তু তার তো স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সে তো কোনভাবেই কারো সাথে, কোন কিছুর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। ছোটবেলা থেকেই পরিবার – সমাজ তার স্বপ্নের ভিত এতই মজবুত ভাবে গড়ে তুলেছিল যে সেটা পূরণ না হওয়াতে সে গ্লাসের মত মর্মর করে ভেঙে গিয়েছে।

সেই মেয়েটি আজ পরলোকের পথে যাত্রা করেছে। গত তিন-চার বছর ধরে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত থাকার পর, আড়াই মাস আগে তার পাকস্থলীর ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং আজ সে তার রবের কাছে চলে গিয়েছে।

গত তিন-চার বছর তার সময়টা খুব অদ্ভুত এলোমেলো কেটেছে। কোথাও সে শান্তি খুঁজে পায়নি। বন্ধুবান্ধবরা তার সাথে দেখা করতে যায়, সে বান্ধবীদের বাসায় যাওয়া আসা করে, পড়াশোনা করার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কিছুতেই সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে নি।

আমরা এভাবে কেন স্বপ্ন দেখি? আমাদেরকে ছোটবেলা থেকে শেখানো হয় তোমাকে এটা হতেই হবে, তোমাকে পারতেই হবে, তোমাকে কি কম খাওয়াই, কম খরচ করি তোমার পেছনে? এই যে এভাবে যখন আমাদের স্বপ্ন, উদ্দেশ্য, জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে দেওয়া হয়; যখন আমরা সেটা পূরণ করতে পারি না তখনই হতাশায় ভেঙে পড়ি। যারা সৌভাগ্যবান তারা হয়ত স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পরেও নতুন স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু নতুন করে নতুন স্বপ্ন নিয়ে সবাই এগিয়ে যেতে পারে না।

দুনিয়াতে কিছু একটা পাওয়ার ইচ্ছা, কিছু একটা হতে পারার আকাঙ্ক্ষা- এটাই কেন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়? যেখানে দুনিয়ার জীবনটা খুবই সামান্য , খুবই ক্ষণিকের- যার উদাহরণ সমুদ্রের বিশাল জলরাশির মধ্যে আংগুল ডোবানোর পর, আঙ্গুলে উঠে আসা এক ফোঁটা পানির মতন!! সেই দুনিয়ার জীবনের লক্ষ্য পূরণ না হলে আমরা কেনো নিজেদের তিলে তিলে শেষ করে দেই?? আমাদের দুনিয়ার জীবনের সফল হবার আকাঙ্খা যেন আমাদের প্রাচুর্য, যশ-খ্যাতি ইত্যাদির জন্য নির্ভর করে!!!(যদিও সবাই একই রকম ভাবে চিন্তা করেনা)

“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদিগকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে, যতক্ষণ না তোমরা সমাধিসমূহ দেখতে পাও (তোমাদের মৃত্যু হয়)। এটি কখনো সংগত নয়! অচিরেই তোমরা জানতে পারবে। আবারও বলি, এটি মোটেই সমীচীন নয়; তা তোমরা অনতিবিলম্বে জানতে পারবে। না, তোমাদের নিশ্চিত জ্ঞান থাকলে অবশ্যই তোমরা মোহগ্রস্ত হতে না। তোমরা (সময়ের প্রতি উদাসীন কর্মে অবহেলাকারীরা) অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে (তাতে প্রবেশ করবে)। পুনশ্চ! অবশ্যই অতি অবশ্যই তোমরা জাহান্নাম চাক্ষুষ দেখে (তাতে প্রবেশ করে তার শাস্তি ভোগ করে) প্রত্যয় লাভ করবে। অতঃপর অবশ্যই সেদিন তোমাদিগকে প্রদত্ত সব নিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।’’ (সুরা ১০২ তাকাছুর, আয়াত: ১-৮)।

আমরা যদি অতি অল্পেই কৃতজ্ঞ হতে পারি, যা পাই তাতে যদি সন্তুষ্ট থাকি এবং আমাদের জীবনের লক্ষ্য যদি পরকালীন উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য হয়, তবে পাওয়া না পাওয়ার তীব্র হাহাকার অনেকখানি কমে যাবে। শুধুমাত্র অল্প কিছু অপূর্ণতা থেকে জীবনটাকে ধুকেধুকে শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা তখন আর আমাদের মাথায় আসবে না, ইনশাআল্লাহ।

।।অনেক মানসিক কষ্ট এবং শারীরিক কষ্ট নিয়ে মিমি নামের বোনটি (আমার ছোট বোনের বান্ধবী) আজ আল্লাহর কাছে চলে গেছে। আল্লাহ তার গুনাহ খাতা মাফ করে দিন। তাকে জান্নাতের জন্য কবুল করে নিন। আমীন।।

Categories
যাপিত জীবন

হোমস্কুলিং: ভাই-বোন



সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝে বাচ্চাদেরকে প্রতিদিন নিয়ে পড়তে বসার সময় হয় না। নায়রাহ মোটামুটি একা একাই টুকটুক করে স্কুলে গিয়ে অক্ষর শিখে ফেলেছিল। নাওঈদের স্কুল জীবনের শুরুতেই করোনার জন্য বন্ধ হওয়ায় স্কুলে গিয়ে শেখাটা তার আর হয়ে ওঠেনি।

এদিকে নুবাঈদ এর যন্ত্রনায় ওদের কে নিয়ে পড়তে বসার সুযোগ খুব কমই হয়ে উঠে। দেখা যায় পড়তে বসলেই সে ওদের বই ছিড়ে ফেলে, পেন্সিল নিয়ে টানাটানি করে, কোলে ওঠার জন্য কাঁদে , ঠুস ঠাস করে পড়ে যায় , আরো নানা কিছু।

অন্যদিকে আমারও অনেক ব্যস্ততা থাকে, ক্লান্তি থাকে। ফলাফলে নাওঈদের অক্ষর জ্ঞান খুব আস্তে আগাচ্ছে। মুখে বলে তো আর সবকিছু শেখানো যায় না। ছোট বাচ্চাদেরকে নিয়ে হাতে কলমে মায়েদের নিজেদেরই বসা লাগে। এছাড়া ওকে পড়ার কথা বললেই দেখি ওর ঘুম আসে , ক্লান্ত থাকে ইত্যাদি বলে খুব বেশি পড়তে চায়না। আমিও আর জোর করি না।

ভাইয়ের এই দুরবস্থা দেখে, বোনকে দেখলাম ভাইকে শেখানোর জন্য চেষ্টা করছে ‌। তার নিজের মতো করে।🥰🥰

ছেলে আমার শিখুক বা না শিখুক, মেয়ে যে তার ছোট ভাইকে শেখানোর জন্য একটুখানি চেষ্টা করেছে এতেই আমি খুশি। সারাদিন ঝগড়াঝাটি, মারামারি চলতে থাকে , পাশাপাশি যদি এভাবে ভালোবাসা, সহযোগিতা , সহমর্মিতা থাকে তাহলে ওরা এমনই থাকুক সবসময়।❤️❤️

বারাকাল্লাহু ফিহুমা।

#আমারটিয়াময়নাবাবুইপাখি

Categories
যাপিত জীবন

বুক রিভিউ- ফেরা ২

‘ফেরা দুই’ বইটা একটু একটু করে পড়ে শেষ করলাম। দুই হিন্দু বোনের ইসলাম পালন করা নিয়ে এক রোমাঞ্চকর সংগ্রামের গল্প।

‘ফেরা’ যখন পড়েছিলাম সিহিন্তা আর নায়লা’পুর জীবনের গল্প, তখন যে অনুভূতি কাজ করেছিল, মোটামুটি একই রকম অনুভূতি কাজ করেছে এই বইটি পড়ার সময়।

বইয়ের পাতায় পাতায় আয়েশা ও মারিয়াম (মনিকা ও নীলম) এর চিন্তা-চেতনা, ভালোলাগা, ভালোবাসা, জানার আগ্রহ, ইসলাম গ্রহণ এবং তা পালন করা নিয়ে সংগ্রামের রোমাঞ্চকর বর্ণনা।

পড়তে পড়তে শুধু একটি কথাই বারবার মনে হচ্ছিলো, আমরা মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে ইসলামকে জীবন বিধান হিসেবে মানতে খুব হেলাফেলা করি। মনে করি, বাপ- দাদার ধর্ম, মুসলিম একটা নাম ও আছে। তাই সোজা জান্নাতে চলে যাবো!! যা কিছু করি না কেন, বুড়ো বয়সে একটু হজ্জ করে নিলেই হবে।

আমরা আমাদের ফরয ইবাদত গুলো সম্পর্কে যেমন জানিনা, তেমনি ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা এটা সম্পর্কে ও আমাদের ধারণা খুবই কম। সেখানে এই মানুষগুলো যখন নিজে থেকে চিন্তা করে খুঁজে খুঁজে ইসলামের পথে আসে, কষ্ট করে,ত্যাগ করে- তাদের পরীক্ষা আর আমাদের পরীক্ষা , তাদের হিসাব আর আমাদের হিসাব কখনোই কি এক হবে??

সবাইকে বইটি পড়ার আমন্ত্রণ । একটু হলেও ঈমানকে ঝাঁকুনি দিয়ে যাবে। ❤️❤️

বই পড়ার পেছনের গল্প:
ছানাপোনা ঘুমানোর পর বই , খাতা, ল্যাপটপ নিয়ে মশারির ভিতর কাজ শুরু করি। রাত জেগে স্লাইড রেডি করি, মি টাইম কাটাই, খাই আর পড়ি!! ল্যাপটপ খাটের নিচে শরিয়ে রাখলেও, বইগুলো মাথার কাছে রাখতাম। সকালে আমার আগে নুবাঈদের ঘুম ভাঙ্গে। আর আমার ঘুম ভাঙ্গে বই ছেড়ার শব্দে। 🥴

তার মধ্যে ফেরা বইটি পড়ে শেষ করতে পারাটা এবং বই ছেঁড়া থেকে রক্ষা করতে পারাটা একটি মহা আনন্দের বিষয়। আর বই পড়তে হলে মুখ ও সমান তালে চালাতে হয়। মানসিক ব্যাপার 🙄

চকলেট দুই টাই গিফট। একটা ভাইয়া পাঠিয়েছে আরেকটা, Sakina’s Kitchenet থেকে 🥰

Categories
যাপিত জীবন

মাঝরাতে বিনোদন

বড় পুত্র সন্ধ্যার পরে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। প্রায় দু তিন ঘন্টার একটা ঘুম। রাত দশটার দিকে সেই ঘুম ভাঙল।
এদিকে রাত বারোটার মধ্যে যখন সবাই শুয়ে পড়েছে , তার তো আর কোনভাবেই ঘুম আসেনা। তবুও সন্ধ্যায় ঘুমানোর অপরাধে বেচারা বিছানা ছাড়তে পারছেনা।

রাতে দুনিয়ার কাজ বাকি থাকে, তাই কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে উঠে পড়লাম। রাত দুইটা বাজে উঠে দেখি বড় পুত্রের চোখে ঘুম নাই। তার বাবা বলল কি করবা করো এখন।
আনন্দিত হয়ে সে বিছানা থেকে বেরিয়ে আসল।🥳🥳
ভদ্রলোক তখন লিখতে বসে গেল। যে লেখা এক লাইন দুই লাইন লিখলে তার হাত ব্যথা হয়ে যায় , দুই দিনেও লিখে শেষ করতে পারে না, সেটা এখন চুপিচুপি পুরস্কার পাবার আশায় এবং ঘুম না আসার দুঃখে চটপট লিখে ফেলল।

(পুরষ্কার ছিল Sakina’s Kitchenet এর ইয়াম্মি চকলেট গুলো। ব্যাসিকালি এগুলো আমি রাতে বাচ্চারা ঘুমালে চুপিচুপি খাই। আজ পুত্র এবং তার বাবাকে ও দিতে হোল 😑)

আল্লাহুম্মা বারিক লাহা।