Categories
যাপিত জীবন

আমার ডায়েট

ভোজন রসিক আমার সব ধরনের খাবার খেতে বেশ ভালো লাগে। খুব বেশি লবণ না হলে যে কোনো রান্না খেতে পারি। শুটকি, ভর্তা, ঝাল এই টাইপের খাবার হলে খাওয়া অনেক বেশি হয়ে যায়।ফলাফল শরীরের ওজন আদর্শ ওজনের চাইতে প্রায় ১০/১৫ কেজি বেশি। তিন বাচ্চার সময়কার ফ্যাট খুব একটা কমেনি। মাঝে মাঝে ডায়েট প্ল্যান নেই। কিন্তু খুব একটা ফলো করা হয় না। গুলুমুলু আমি খাবার একটু কম খেলে আম্মুর কষ্ট হয়, ভদ্রলোকের ও খারাপ লাগে।

স্ট্রিক্টলি ডায়েট করার চেষ্টায় ভাত কম রান্না করি মাঝে মাঝে। বাচ্চাদের খাওয়ানোর পর আমরা দুজন মিলে একবার খেতে পারব। ওভাবেই অল্প পরিমাণ রান্না করেছি। দ্বিতীয় বার যাতে আর ভাত নিতে না পারি।

দুঃখের বিষয় হল এরকম করলে মাঝরাতে খিদা লাগে। বিছানায় বসে মশারির ভেতরে খিদায় কুই কুই করতে থাকি। ভদ্রলোক তখন হাতের কাজ ফেলে একেকদিন একেকটা খাবার রেডি করে নিয়ে আসে। তার মতে, খেয়ে দেয়ে আরো গুলুমুলু হও!!! তবু সুস্থ থাকো।

আমার আর ডায়েট করা হয় না। 🙄

Categories
যাপিত জীবন

চিন্তা কথন

নুবাঈদকে ঘুম পাড়ানোর সময় একটা ব্যাপার ঘটে। সে যতই ক্লান্ত থাকুক না কেন, ঘুমাবে না নিজে নিজে। ঘুমে পড়ে যাচ্ছে, তবু জোর করে চোখ খুলে রাখবে। তাকে ঘুম পাড়াতে হলে মা অথবা বাবাকে প্রয়োজন হয়। কোলে নিয়ে হাটতে হবে অথবা শুতে হবে। গায়ে চাপড় দিয়ে দিয়ে ঘুম পাড়াতে হবে।আমরাও তার চাহিদা অনুযায়ী তাকে ঘুম পাড়াই।
একই রকম বিষয় বৃদ্ধ মানুষদের ক্ষেত্রেও ঘটে। তারাও একা থাকতে চায় না। একা খেতে ঘুমাতে পছন্দ করেনা। সার্বক্ষণিক কারো না কারো সঙ্গ চায়।

ভাবছি বাচ্চাদেরকে আমরা যত সহজে সব সময় সব কাজে সহায়তা, সহযোগিতা করি, বয়স্ক মানুষদের বেলায় একই রকম আচরণ কেন করি না!!!

অথচ আমরা বুঝি, বৃদ্ধ মানুষরা বয়সের সাথে সাথে শিশুদের মত হয়ে যান।

(ছবিতে নানার সাথে নাতি- নাতনি❤️❤️)

Categories
অভিজ্ঞতা যাপিত জীবন

কয়েক ছত্র

সাগরের পানিতে পা দু’খানি ভিজিয়ে করি মন শান্ত,
গোধূলি লগনে হাতে হাত রেখে ঘু্রি
নাই গ্লানি, নাই ক্লেশ, নাই যে সীমান্ত!!

Categories
যাপিত জীবন

পিঠা

শীতের সকালে পিঠা ছাড়া শীতকালটা যেন জমে না। আমাদের ছোটবেলায় সকালবেলা ঘুম ভাঙতো পিঠার ঘ্রাণে। আম্মু নানা রকমের শীতের পিঠা প্রতিবছরই বানাতেন। দাদুর বাড়ি, নানু বাড়ি বেড়াতে গেলেও রকমারি পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যেত।

এখন কে আমাকে এত পিঠা বানিয়ে খাওয়াবে!! ব্যস্ত জীবনে সবকিছু শর্টকাট খুঁজতে খুঁজতে পিঠার জন্য ও এখন শর্টকাট লাগে,যে কেউ বানিয়ে দিবে অর্ডার করলে।( করেছি ইতিমধ্যেই)

তবু শীতের সকালে বাচ্চাদের নিজের হাতের পিঠে বানিয়ে খাওয়ানো একটা অন্যরকম আনন্দ।
ছুটির দিনের প্রথম সকাল তাই পিঠা দিয়েই শুরু হলো। নাওঈদের ভাষায়, ‘এতাতো আমার পতন্দ অই গেতে।’

ডিম চিতল পিঠা সাথে সাতক্ষীরা থেকে আনা মজার ঝোলা গুড়।

Categories
যাপিত জীবন

বাবুই পাখি কথন

নুবাঈদ এখনো হাটতে শিখেনি। নিজে নিজে দাঁড়ানো ও শিখেনি। কিন্তু সে জানালা বাইতে শিখে গেছে ‌। মাশাআল্লাহ, বারাকাল্লাহু ফিকুম।

সে ওয়াকারে চড়ে এটা-সেটা টানাটানি করতে থাকে। জিনিসপত্র টান দিয়ে ফেলে দেয় । ফিল্টারের পানি ছেড়ে দেয়। হামাগুড়ি দিয়ে বিভিন্ন টাইপের দরজা খুলে ফেলে , বিভিন্ন জিনিসপত্র মুখে ঢুকিয়ে ফেলে। এখন আবার জানালা বাইতে শুরু করেছে।

তাকে নিয়ে আমাদের ব্যস্ততা দেখে নায়রাহ বলছে, আমিতো হামাগুড়ি দিতাম না , এক জায়গায় বসে থাকতাম, ভদ্র বাচ্চা ছিলাম।😁

আমি-ওরে তুই তো অলস বাচ্চা ছিলি। তাইতো হামাগুড়ি দিস নাই। 😂

আর ছেলে বাবু গুলো বুঝি ছোটবেলা থেকেই এমন ডানপিটে হয়!!🥰🥰

Categories
যাপিত জীবন

বৈকালিক ভ্রমন

কয়েকদিনের ঠান্ডা জ্বরে নুবাঈদ কাহিল হয়ে গেছে। ঠান্ডা আর বমি এখনো বন্ধ হয়নি। তাই বাসায় সারাদিন কোলে থাকে নতুবা বিছানায় থাকে। মাটিতে ছেড়ে দেই না। সে মাটিতে হামাগুড়ি দেওয়া খুব মিস করছে। খুব বিরক্ত হয় কোলে থাকতে। পিছলে কোল থেকে নেমে যায়।
এদিকে বিকেল হলে সে বুঝতে পারে , এখন বাহিরে যাওয়ার সময়।বাসায় যেহেতু ভাই বোনের সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না তার মানে তাকেও এখন বের হতে হবে। সে তখন কোলে থাকে না, বিছানায় থাকে না। অস্থির হয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে তাঁকে নিয়ে নামতে হয় বিকেল বেলা একটু সময়ের জন্য।

ভাবলাম দেখি বাসায় যেহেতু মাটিতে ছাড়তে পারছিনা মাঠের মধ্যে ছেড়ে দেই। প্যাকেট করে তাই তাকে ঘাসের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছি আজ। সে ব্যাপক খুশি ‌। কোল থেকে নেমে সাথে সাথে ঘাসের উপর শুয়ে পড়েছে।

Categories
যাপিত জীবন

রোজনামচা – এ মাদার অফ থ্রি লিটল বার্ডস

রোজনামচা – এ মাদার অফ থ্রি লিটল বার্ডস

বাবার বাড়ি থেকে বেশ অনেকদিন থেকে বেড়িয়ে আরাম করে আসলাম। এখন নিজের সংসারে মোটামুটি যুদ্ধরত অবস্থায় আছি।🙄

চট্টগ্রাম থেকে আসার পর থেকে নায়রার বেশ জ্বর। তিন দিন দেখার পর ডাক্তারের কাছে নিলাম । এন্টিবায়োটিক কোর্স শুরু হলো। জ্বর কমার পর শুরু হলো তার দাঁতের মাড়ি ফুলে ওঠা । দুদিন পর সেটাও একটু কমলো। এখন ব্রাশ করলে দাঁত দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। এরপর খেলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে রক্তাক্ত হয়ে বাসায় ফিরে আসলো । পরদিন আবারও দৌড়াতে গিয়ে সাইকেলের সাথে ধাক্কা খেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা পেয়ে আসলো ।

খেলতে গিয়ে নাওঈদ ও এমন ধুমধাম পড়ে গিয়ে ব্যথা পায়। ওরা এই বয়সে দুজন মিলে এতবার পড়েছে, আমি মনে হয় আমার এই বুড়া বয়সেও এতবার পড়ে গিয়ে ব্যথা পাইনি। চলতে-ফিরতে পড়ে গিয়ে ব্যথা পাওয়াতে তারা এখন বিশেষজ্ঞ।
বোনের জ্বর ভালো হয়েছে । এখন নাওঈদের জ্বর শুরু হল। গলা ব্যথা, জ্বর, বমি। ওষুধ চলছে । ওষুধ খাওয়ালে একটু কমে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার আসে। আবার তিন দিন অপেক্ষা।😓

নুবাইদ হামাগুড়ি দেওয়া শিখেছে। পুরা বাসা হামা দিয়ে হেঁটে বেড়াতে চায়। কোলে থাকে না, পিছলে নেমে যায় । ওয়াকারে থাকে না, কাঁদতে থাকে। কন্ট্রোল হারিয়ে প্রায় প্রতিদিন ধুমধাম পড়ে আর মাথার সামনে-পিছনে ব্যথা পায় । দরজায় আঙুল ঢুকিয়ে নিজেই চাপ দিয়ে ব্যথা পায়। এটা সেটা যা পায় তাই মুখে দেয়। মনে হয় চেক করে দেখে টক-মিষ্টি নাকি ঝাল ? জুতা-স্যান্ডেল পেলে সাথে সাথে মুখে দিয়ে ফেলবে। কাজটা সে খুব দ্রুতগতিতে করে। কারণ সে বুঝতে পেরেছে জুতা-স্যান্ডেল দেখলে তার হাত থেকে আমরা সেটা কেড়ে নিয়ে যাই। তাই সে জুতার নিচের অংশ এত দ্রুত মুখে দেয়, যেন দেরি হলে গুনাহ হয়ে যাবে। ফলাফল তার পেট খারাপ । দিনে পাঁচ-সাতবার পটি করে। দেখা যায় পরিষ্কার করে নতুন ডায়াপার পরানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আবার পটি করে ফেলে।

এছাড়া মাটিতে হামা দিয়ে বেড়ানো দুই হাত প্রায় সময় মুখে থাকে। যেন আঙ্গুলগুলো থেকে জুস , শরবত, ড্রিংকস একটার পর একটা বের হতে থাকে । হয় ডান হাতের আংগুল নতুবা বাম হাতের আঙ্গুল তার মুখেই থাকে। এর ফলে দেখা যায় প্রায় দিনই সে মুখে আঙ্গুল দিয়ে বমি করছে। আর সারাদিন আমাদের পিছু পিছু ঘুরতে থাকে। হয় মা নতুবা বাবা কারো না কারো পিছু পিছু থাকতেই হবে। ক্লাস করার সময় সে প্রায় রুমে চলে আসে এবং তার নিজস্ব ভাষায় কোলে নেওয়ার জন্য চেঁচামেচি করতে থাকে।

এইতো গেল তাদের কথা। এবার আসি কাজের কথায় । সকালের নুবাঈদের নাস্তা রেডি করে ক্লাস শুরু করি। এর পর একটা ক্লাস শেষ হলে তারপর অন্যদের নাস্তা রেডি করতে করতে আবার আরেকটা ক্লাসের সময় হয়ে যায়। এভাবে কখনও দুইটা ক্লাস কখনো তিনটা ক্লাস থাকে । দেখা যায় সকালের নাস্তা আগের দিন রাতে রুটি পরোটা বানিয়ে বক্স করে রাখি, দুদিনের জন্য। অথবা ফ্রোজেন পরোটা ও কিনে রাখি দু চার দিন পর পর শর্টকাট খাবার হিসেবে। এদিকে প্রায় চার ধরনের ক্লাস নিতে হয়, চার ধরনের ক্লাসের জন্য আলাদা করে স্লাইড রেডি করা লাগে। সেজন্য আবার মাঝরাতে বসতে হয় বাচ্চারা ঘুমিয়ে যাবার পর।

ক্লাস শেষে বিছানা গোছানোর কাজ, বাজার করা , কাপড় ধোঁয়া ইত্যাদি কাজ চলতে থাকে । বড় দুজন এখনও বিছানায় ভেজায়। তাই প্রতিদিন সকালে প্রচুর কাপড় জমে যায়। মিনিমাম দুইবার করে দুইজনে প্রায় চার বারে অনেকগুলো কাথা জামা প্যান্ট নোংরা করে। তাদের এখন আর ডায়াপার পরানোর যায় না, তাদের সাইজ নাই। তাই অভ্যাস করাতে হচ্ছে। কিন্তু এখনো এই বদ অভ্যাস ঠিক হয়নি। এই শীতে কাপড়ের পরিমাণ আরও বাড়বে , বাড়ছে। কেননা গায়ে কাঁথা চাদর-কম্বল ইত্যাদিও দেয়া লাগছে সেগুলোসহ নষ্ট হয়।কাপড় গুলো আবার পাঁচতলার ছাদে উঠে দিয়ে আসতে হয়। বারান্দায় রোদ না আসার ফলে কাপড় গুলো দু’দিনেও শুকায় না। কাপড় দেয়া এবং ছাদ থেকে আনা এটাও একটা বড় কাজ। এরপর চলে রান্না, বাচ্চাদের গোসল ,ঘর পরিষ্কার করা ইত্যাদি। এসব করতে করতে নিজের খাওয়া , গোসল শেষ হতে হতে সাড়ে তিনটা , চারটা বেজে যায়। ফরজ ইবাদত গুলা খুব টেনে খিচে কোনরকমে করা হয়।😔

বিকালে বাচ্চারা খেলতে নামে। একটু পরে তারা ফিরে এসে জিজ্ঞেস করে , নাস্তা কি খাবে? ততক্ষণে দেখা যায় শরীর চলছে না। কিন্তু কোন না কোন কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। হয়তো সিংক ভর্তি থালা-বাসন পড়ে আছে অথবা বিছানা ভর্তি এলোমেলো কাপড় । এর মাঝে সন্ধ্যার জন্য হালকা বা ভারী কিছু না কিছু নাস্তা তৈরি করা লাগে । ফাঁকে ফাঁকে নুবাঈদকে সার্ভিস দেয়ার বিষয়ে তো আছেই।

রেস্ট্রিক্টেড এরিয়াতে বাসা হওয়ার কারণে বুয়া সার্ভিস নিতে পারছিনা । যার কারণে একা হাতে সব বিষয় ম্যানেজ করা লাগছে। যদিও বাচ্চাদের বাবা বেশ হেল্প করে। বিশেষ করে বাচ্চাদের খাওয়া দাওয়ার পার্টটা সেই দেখাশুনা করে এবং টুকটাক সে যদি ছোট জনকে দেখে তখনই আমি কিছু না কিছু কাজ করতে পারি। কিন্তু ভদ্রলোকের ওতো কাজ করা লাগে!!

সারাদিন চার হাত-পায়ে দৌড়াতে থাকি। তবুও মনে হয় যেন কাজ শেষ হয় না ।যেদিকে তাকাই এলোমেলো লাগে সবকিছু। তবুও দিনশেষে বাচ্চাগুলোর হাসি মুখ দেখলে সব কিছু ভুলে যাই।
আর নিজেকে সান্ত্বনা দেই এই বলে যে ,
প্রতিটি কাজের বিনিময়ে রয়েছে পুরস্কার এবং বাচ্চাগুলো হলো আমার ইনভেস্টমেন্ট, সাদকায়ে জারিয়া । মরে গেলে যখন আমল করা বন্ধ হয়ে যাবে তখন যাতে তাদের পাঠানো ক্রমাগত দোয়া অন্ধকার কবর কে আলোকিত করতে পারে। সেই আশা এবং ভালোবাসা নিয়েই খুশি মনে দিনগুলো পার করছি। জানি বাচ্চারা বড় হয়ে গেলে আর কিছু দিন পরেই এই ক্লান্তিকর সময়গুলো শেষ হয়ে যাবে।🥰🥰🥰🥰

আমার সংসার- স্যোশাল সাইটে কেন লিখছি??
আমার মতো অনেকেই সংসার নিয়ে এমন কষ্টকর এবং ক্লান্তিকর সময় কাটাচ্ছেন। কাজের প্রেসারে ডিপ্রেসড হয়ে আছেন। তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি, শীঘ্রই এই সময় কেটে যাবে। তখন আর এত খারাপ লাগবেনা। প্রায় প্রত্যেক মায়েদের ক্ষেত্রে এই ধরনের কষ্টকর সময় ফেস করতে হয়। আমাদের দেশে ঘরে ঘরে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। মায়েরা শুধু নিজেদের শরীর ও মনের ব্যাপারে একটু যত্নবান হবেন। সবকিছু পজিটিভ ভাবে দেখার চেষ্টা করবেন। তাহলে এই কষ্ট গুলোর ওজন একটু কম মনে হবে।
পরিশেষে দোয়া চাই সবার কাছে, যাতে আমরা সুস্থ থাকি সবাই।
( দিনের বেলা যখন মনে ভাব এসেছিল তখন পোস্টৌ লিখা শুরু করে সাত আট দফায় মাঝ রাতে শেষ করলাম।)

ছবিটিতে দেখা যায়,ট্রেনে চড়ে বাসায় যাবার সময় কফি বানিয়ে আয়েশ করে বইটি পড়া শুরু করেছিলাম। এই প্রিয় কাজটি করার সময় এখন পাইনা বললেই চলে 😔
Categories
যাপিত জীবন

জাদুর বাক্স


বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকার খাবার এখান থেকে বের হয়। আমাকে চিন্তামুক্ত করে। প্রতিবার চট্টগ্রাম থেকে আসার সময় আম্মু এরকম অনেকগুলো বক্স দিয়ে দেয়। আস্তে আস্তে শেষ করি। এখনো বড় বক্সটাতে আম্মুর দেয়া খাবার আছে।

মেইন মিল গুলা রেডি থাকলে, চটপট করে শুধু ডাল, ভাজি করলেই হয়ে যায়। প্রতিদিন এতগুলো করে ক্লাস নিয়ে, ছানাপোনার পিছে দৌড়িয়ে কয়েক পদ খাবার রেডি করতে করতে বেলা শেষ হয়ে যায়। কখনো থালাবাসন ধোয়া বাকি পড়ে থাকে, কখনও ঘর পরিষ্কার করা বাকি থাকে, কখনো কাপড় ধোয়াটা
বাকি পড়ে থাকে।

রান্না একটি নিত্যদিনকার কাজ, করাই লাগে। কিন্তু এরকম জাদুর বাক্স যদি রেডি করা থাকে তাহলে একটা কাজ অন্তত সহজ হয়ে যায় । তাই আজ কয়েকটি বাক্স গুছিয়ে রাখলাম।

আমার জাদুর বাক্সগুলো।

Categories
যাপিত জীবন

নানা ভাইয়ের সাথে

নানা দাদাদের সাথে নাতি-নাতনিদের সম্পর্ক বুঝি খুব মিষ্টি হয়।💓💓💓


মনে পড়ে আমি আমার নানা ভাইয়ার চুল হীন মাথায় এবং দাঁড়িতে হাত বুলাতে খুব ভালোবাসতাম। নানা ভাইয়ের সাথে গল্প করে বেশ আনন্দ পেতাম। নানা ভাইয়াও আমাকে এতগুলো আদর করতেন। বংশের সবার বড় নাতনি বলে কথা। আল্লাহ আমার নানাকে বেহেশতের সর্বোচ্চ স্থানে জায়গা দিক, আমিন।

এদিকে আমার আব্বু তার নাতি নাতনীদের নিয়ে বেশ ঘোরাঘুরি করেছেন । তাদেরকে সময় দিয়েছেন। এটা সেটা কিনে ও দিচ্ছেন, যেগুলো বাচ্চাকালে আমরা কল্পনাও করতে পারতাম না 🙄


ছোটবেলায় আব্বু যখন বাইরে থেকে আসতো, দৌড়ে যেতাম হাতে করে কি এনেছে দেখার জন্য। সব সময় দেখতাম তার হাতে থাকত বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী ফল। চিপ্স, চকলেট, খেলনার জন্য বায়না করে বছরে একবার দুবার হয়তো সফল হতাম!! এদিকে সেই আব্বু যখন নানাভাই- দাদাভাই হলেন, তখন তিনি নাতি-নাতনিদের দুহাত ভরে এই সব জিনিসপত্র কিনে দিচ্ছেন!!! ভালোবাসার রকমফের 🥰🥰🥰


আব্বু ঘুরে বেড়াতে বেশ পছন্দ করেন। নাতি নাতনি দের নিয়ে তাই শিশু পার্ক থেকে ঘুরে এলেন। আমার ছানাপোনা গুলো এবার ব্যাপক আনন্দ নিয়ে ছুটি কাটালো, আলহামদুলিল্লাহ।

Categories
যাপিত জীবন

হলিডে ডায়েরি

নায়রাহ ও নাওঈদ যখন ঝগড়া ঝাটি, মারামারি করে তখন তাদেরকে আমি আর ওদের বাবা বলতাম , এমন করলে তোমাদেরকে দাদা বাড়ি বা নানা বাড়ি রেখে আসবো। কে কোন বাড়িতে থাকবে তোমরা নিজেরা ঠিক করো। আমরা শুধু নুবাঈদকে নিয়ে থাকবো। শেষ পর্যন্ত ওরা কোন বাসায় থাকতে রাজি হতো না এবং কিছুক্ষণের জন্য ঝগড়াঝাঁটি থামাতো।

এখন ছুটিতে বেড়াতে এসে তারা তো ব্যাপক আনন্দিত। তারা তাদের খাম্মির সাথে সাথে বিভিন্ন জায়গায় বেড়ানো শুরু করে দিয়েছে এবং এটা সেটা যা খুশি কিনে খাচ্ছে। তাই নাওঈদ আজ ঘোষণা দিল, সে আর ফিরে যাবে না নিজের বাড়িতে। খাম্মি‌র সাথে নানা বাড়ি থাকবে ।

আজ তারা জামালখানে ফিশ অ্যাকুরিয়াম পরিদর্শনে গিয়েছে । সেখান থেকে এসে ঘোষণাটি দিয়েছে।😊😊