Categories
যাপিত জীবন

খুশি মনে কোরবানি

ছোটবেলায় কোরবানি ঈদের সময় আব্বুকে দেখতাম ঈদের আগের দিন দাদুর বাড়িতে চলে যেতো। ঈদের দিন কোরবান শেষে সন্ধ্যা বা রাতে গোশত নিয়ে ফিরে আসতো। তখন আমাদের গরু দাদার বাড়িতে কোরবান দেয়া হতো। নিজেদের গরু দেখতে পেতাম না। তাই প্রতিবেশীদের কেনা গরু দেখেই আমরা আনন্দ নিতাম। আমাদের গরু নাই কেন , এই টাইপের দুঃখবোধ এ আক্রান্ত হইনি কখনো। ঈদের দিন সকালে প্রতিবেশীদের কারো না কারো বাসা থেকে হয়তো গোস্ত চলে আসতো। আর আমাদের গোস্ত আসতো রাতে। সেই আমাদের বাসায় এখন এক গরু কোরবানি দেয়া হয়।

পরিচিত একজনের কাছে তাদের ছোটোবেলায় কথা শুনছিলাম। অনেকদিন তাদের কোরবান দেয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাই ঈদের দিন তারা দরজা বন্ধ করে বসে থাকতো। তাদের এখন ঈদের দিন নরমাল ফ্রিজ,ডিপ ফ্রিজ ভর্তি হয়ে যায় কোরবানীর গরুর গোশতে। সময়ের সাথে সাথে আমাদের সামর্থ্যের পরিবর্তন ঘটে।

কোরবানির বিষয় টা পুরোটাই সামর্থ্যের উপর। কারো জন্যই বোঝা নয়। কুরবানী দিতে না পারলে মন খারাপের কিছু নাই বরং সেই দিন অন্যের মেহমান হওয়া যায়। কোরবানি মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা গোস্ত ডিস্ট্রিবিউশন এর মাধ্যমে অনেকের মেহমানদারী করার উপলক্ষ তৈরী করে দিয়েছেন। এতে কারো নিজেকে বড় মনে করার সুযোগ নাই গোস্ত দিতে পারার জন্য, কারো নিজেকে ছোট মনে করার কোনো সুযোগ নাই না দিতে পারার জন্য।

কোরবানির গোশতে এইজন্যই তিনটি ভাগ রাখা হয়েছে। নিজের জন্য , আত্মীয়র জন্য এবং দরিদ্র ও অন্যান্য মানুষদের দেওয়ার জন্য। এই আদান-প্রদানটাই কোরবানির সৌন্দর্য।

গতবছর আমি কোরবান দিতে পারিনি। ঈদের আগে তাই চার- পাঁচ কেজি গরুর গোশত কিনে রেখেছিলাম। খাসির গোশত ও ফ্রিজে ছিল একই পরিমাণে। ঈদে মন খারাপ করার কোন সুযোগই ছিল না। রান্নাবান্না করে পাড়া-প্রতিবেশিদের দিয়েছিলাম। বাসায় অতিথি দাওয়াত করেছিলাম। আমিও দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। আমার তিন বড় আপা (সহকর্মী) কোরবানির গোশত পাঠিয়েছিল আমার জন্য। আর আম্মু গোস্ত রেখে দিয়েছিল।

যেহেতু করোনা কালীন কারণে চট্টগ্রামে পরিবারের কাছে যেতে পারিনি, তাই অন্য রকম ঈদ কাটিয়েছিলাম নিজের সংসারে। কোরবানি না দিতে পারার জন্য ঈদের আনন্দ এতো টুকু নষ্ট করিনি।

এবারো ঈদের আগে আগেই আমরা আর্থিক কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। তাই কোরবানি করা ফরজ ছিলো না। তবুও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে খুশি মনেই কোরবানি করেছি।

সারাবছর ব্যাপক আকারে দান সাদাকা করা হয়না। কোরবানির মাধ্যমে কিছুটা হলেও কাউকে দেয়ার চেষ্টা করা যায়। মনের কার্পন্যতা কাটানো যায়।

আমরা যেনো শুধু মাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু কোরবানি করি। নিজের বড়ত্বের জন্য, সমাজকে দেখানোর জন্য যাতে আমরা এটা না করি। নিজেকে বড় বা ছোট যেন মনে না করি। কোরবানি করাটা যেন আমাদের জন্য বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়।

কোরবানি আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় আমল। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, কোরবানির ঈদের দিন মানুষের সব নেক আমলের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো কোরবানি করা। কিয়ামতের ময়দানে জবেহকৃত জন্তু তার শিং, লোম, খুরসহ এসে হাজির হবে। নিশ্চয়ই কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে তা কবুল হয়ে যায়। অতএব, তোমরা খুশি মনে আনন্দচিত্তে কোরবানি করো। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৬)

কোরবানি জাহান্নামের প্রতিবন্ধক। আবদুল্লাহ ইবনে হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি খুশি মনে সওয়াবের আশায় কোরবানি করবে, ওই কোরবানির জবেহকৃত পশু কোরবানিদাতার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে।’ (আল মুজামুল কাবির, হাদিস : ২৬৭০)

Categories
যাপিত জীবন

বিচিত্র জীবন

যা করতে চাই

অনেকদিন ধরে আয়োজন করে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয়না। বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করে। খোলা আকাশের নিচে ছাদের উপরে বসে দুপা ঝুলিয়ে মুচমুচ করে কিছু চাবাতে ইচ্ছে করে। প্রাণের বান্ধুদের সাথে হা হা হি হি করতে মন চায়। শুধুই তার সাথে রিক্সায় চড়ে ঘুরতে পরান আনচান করে। শপিং এ গিয়ে দুহাত ভর্তি করে কেনাকাটা করা দরকার। ইত্যাদি সহ আরো কতো কিছু……

আমি আসলে যা করি,
সকালে নাস্তা বানাই, ক্লাস নেই, ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে ছানাপোনা,খানাদানা সামলাই। আবার দুপুরের রান্না, আবার তাদের গোসল, খানাদানা, ঘুম পাড়ানো। এক ফাঁকে সে এবং তারা সহ বুড়িগঙ্গার তীরে হেঁটে আসা, সাথে বাজার করে আনা। আবার নাস্তা বানানো, খানাদানা। আবার রাতের খাবার।
আর এই পুরো সময় নুবাঈদের সার্ভিস প্রোভাইডার এর ক্লান্তিকর কাজ তো আছেই, সাথে চুল টানা, কামড়, খামচি ফ্রি।

যা করা বাকি…..
অনেক গুলো প্রশ্ন তৈরি করা বাকি। ডেডলাইন আর দু’দিন পর। শরনার্থী শিবিরের মতো এলোমেলো ঘর ঠিক করা বাকি। নিজস্ব কিছু কাজ, পড়াশোনা হয়না অনেক দিন ধরে। বড় পুত্র কন্যার সাথে সময় নিয়ে বসা যাচ্ছে না। তারা রূপনগর এর রাজকন্যা আর পুলিশ ম্যান হয়ে মনের আনন্দে দিন পার করছে। কঠিন শাসন করা দরকার।

দু একটা চটকানা সপ্তাহে একবার দিব ভাবছি প্রয়োজন মতো। কিন্তু তাদের বাবা চিৎকার করে একটা ধমক দিলে আমারি চোখে পানি চলে আসে!!!

জীবন বড়ই বিচিত্র।

Categories
যাপিত জীবন

স্মৃতিময় খাবার: ভর্তা

ঝাল ঝাল ভর্তা সব সময়ে খুব ভালো লাগে। সেটা যদি হয় কাঁঠাল বিচি আর শুটকির ভর্তা তবে তো কথাই নেই। এই ভর্তা খাওয়ার জন্য খুব মন চাইতো প্রেগনেন্সি কালীন সময়ে। তখন নিজের হাতের কোন রান্নাই খেতে পারতাম না। মনে মনে চাইতাম কেউ যদি একটু কিছু রেঁধে দিতো আমায়। আম্মু থাকতো আমার থেকে অনেক দূরে অন্য শহরে। তাই প্রতিদিন প্রতিদিন কে আর ভর্তা-ভাজি, ছোট মাছ রেঁধে খাওয়াবে??!!!

সহকর্মীরা টের পেয়ে টুকটাক খাবার প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ নিয়ে আসতো। আর কোন দিন মিস হলে, তাহাকে অফিস ফেরত পথে হোটেল থেকে নিয়ে আসতে বলতাম। রাত দশটায় হোটেল গুলোতে ভর্তা, শুটকি টাইপের খাবার গুলো শেষ হয়ে যেত। তাই কখনো সে আনতে পারত, কখনো খালি হাতে আসতে হতো। কি যে খারাপ লাগত তখন!! আন্টি, জেঠিআম্মার পাঠানো খাবারগুলোও ঐ সময় খুব আনন্দ নিয়ে খেয়েছিলাম।

এই ধরনের খাবার গুলো এখনো খুব ভালো লাগে। তাই নিজে বানালেও যেমন অসুস্থতার সময় কার কথা মনে পড়ে যায়, তেমনি এখনো যখন কেউ যত্ন করে কিছু রেঁধে পাঠায় আমার জন্য, ভালবাসায় কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে যায়।

শারীরিক অসুস্থতার সময় কাছের মানুষ, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব সবাই যদি একটু সচেতন হয়, যে এই সময় হবু মায়ের একটু যত্ন নেই, কিছু দিতে না পারি অন্তত হাসিমুখে দুটো কথা বলি, তাহলে এত হাহাকার নিয়ে থাকতে হতো না কোন মাকে।

আসলে প্রেগনেন্সি যাত্রার সময়কার ভালোবাসাটুকু অথবা মন খারাপ গুলো সবই বেশ মনে থাকে। সময়টা যেহেতু বেশ সেনসিটিভ , তাই ওই সময়কার সবগুলো ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব মনে গেঁথে থাকে। বাবু হবে শুনলে কার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল, কে কেমন ধরনের আচরণ করেছিল, কে আমন্ত্রণ না করে এড়িয়ে গিয়েছিল , কারা খবর নেয় নি…… সব মনে থাকে। এমনো হয়েছে অসুস্থ সময়কার শেষদিকে বাসায় এসে বেড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাবু হয়েছে কিনা , কি বাবু হয়েছে এই খবর টুকু পর্যন্ত নেয়ার সময় তাদের হয়নি। অনেকের কাছে আবার এতজন বাবুর খবর খুব বিরক্তিকর ছিল, এই যুগে এত ছেলে মেয়ে হয় নাকি মানুষের!! অথবা আমার অমুক তমুক আত্মীয়-স্বজনের এখনো ছেলে মেয়ে হয় নাই, তোমার কেন হচ্ছে!!!! কত রকম প্রতিক্রিয়া, পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখলাম!!!

তবে সবকিছু ছাপিয়ে প্রিয় মানুষগুলোর ভালোবাসা, যত্ন যখন পাই এবং দেই তখন আর এতটা খারাপ লাগে না। এখনো কিছু প্রিয় মানুষ ভালোবাসা নিয়ে ছোট ছোট বক্স ভর্তি করে খাবার-দাবার দিয়ে যায়। এত ভালো লাগে তখন 🥰🥰🥰। আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। এই মানুষগুলোর জন্য মন থেকে অনেক ভালোবাসা এবং দোয়া। আজীবন এমনই থাকুক সবাই।

স্বার্থহীনভাবে যখন কোন কিছু আদান-প্রদান হয় তখন সেই ভালোবাসা, আন্তরিকতা যুগ যুগ রয়ে যায়। কোন কারণে অকারণে এই সম্পর্ক গুলো ভেঙ্গে যায় না। যেখানে স্বার্থ থাকে সেখানেই সম্পর্কের উঠানামা থাকে।

আল্লাহ ভালো রাখুক সব ভালো মনের মানুষগুলোকে❤️❤️।

( দুদিন আগে ভর্তা গুলো বানিয়েছিলাম। প্রিয় আপাকে দেওয়ার জন্য যেইনা লিফটে উঠছিলাম, লিফ্ট খোলার পর দেখি তিনিও বক্স ভরে আমার জন্য ভালোবাসা নিয়ে আসছেন ❤️❤️❤️)

Categories
যাপিত জীবন

স্বপ্নভঙ্গের বেদনা এবং….

ছোটবেলা থেকেই মেয়েটির একরাশ স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছে যে, সে বড় হয়ে আর্কিটেক্ট হবে। তার খুব আশা-আকাঙ্ক্ষা , স্বপ্ন এটা নিয়ে। নিজেকে সে সেভাবেই গড়ে তুলেছে।

পড়াশোনায় তার ফলাফল বেশ ভালো। তাই তার লক্ষ্যের দিকে আত্মবিশ্বাসও বেশ মজবুত। এইচএসসি পরীক্ষা তে ভাল ফলাফলের পর যখন সে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং আশানুরূপ কোথাও চান্স পায়নি, তখন থেকেই তার স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়া শুরু করে। অবশেষে সে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি তে অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী হওয়ার সুযোগ পায়। বেশ ভালো একটা সাবজেক্টে ভর্তি হয়েও তার হীনমন্যতা কোনভাবেই দূর হয় না। সে তো নিজেকে মনে করেছে যে, সে ভবিষ্যতের একজন ইঞ্জিনিয়ার/আর্কিটেক্ট হবে। তার লক্ষ্যের সাথে এই পড়াশোনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ফলাফলে প্রথম বর্ষে থাকাকালীন সময়ে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়।

বেশ কিছু সময় ধরে তার চিকিৎসা চলতে থাকে। পড়াশোনায় একটা ইয়ার লস করে পরের বছর আবার সেই একই সাবজেক্টে ভর্তি হয়। আবারও একই দশা। এডজাস্ট করতে পারছে না। ভবিষ্যৎ আর্কিটেক্ট অর্থনীতি পড়ে কি করবে!!!

পরে জাতীয় ইউনিভার্সিটির আন্ডারে তাকে বিকমে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়, বাসার পাশেই একটি কলেজে। বাবা-মার ইচ্ছা মেয়ে সুস্থ থাকুক, পড়াশোনার দরকার নাই। কোন রকম একটা সার্টিফিকেট পেলেই হবে, না হলেও সমস্যা নাই। কিন্তু তার তো স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সে তো কোনভাবেই কারো সাথে, কোন কিছুর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। ছোটবেলা থেকেই পরিবার – সমাজ তার স্বপ্নের ভিত এতই মজবুত ভাবে গড়ে তুলেছিল যে সেটা পূরণ না হওয়াতে সে গ্লাসের মত মর্মর করে ভেঙে গিয়েছে।

সেই মেয়েটি আজ পরলোকের পথে যাত্রা করেছে। গত তিন-চার বছর ধরে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত থাকার পর, আড়াই মাস আগে তার পাকস্থলীর ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং আজ সে তার রবের কাছে চলে গিয়েছে।

গত তিন-চার বছর তার সময়টা খুব অদ্ভুত এলোমেলো কেটেছে। কোথাও সে শান্তি খুঁজে পায়নি। বন্ধুবান্ধবরা তার সাথে দেখা করতে যায়, সে বান্ধবীদের বাসায় যাওয়া আসা করে, পড়াশোনা করার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কিছুতেই সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে নি।

আমরা এভাবে কেন স্বপ্ন দেখি? আমাদেরকে ছোটবেলা থেকে শেখানো হয় তোমাকে এটা হতেই হবে, তোমাকে পারতেই হবে, তোমাকে কি কম খাওয়াই, কম খরচ করি তোমার পেছনে? এই যে এভাবে যখন আমাদের স্বপ্ন, উদ্দেশ্য, জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে দেওয়া হয়; যখন আমরা সেটা পূরণ করতে পারি না তখনই হতাশায় ভেঙে পড়ি। যারা সৌভাগ্যবান তারা হয়ত স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পরেও নতুন স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু নতুন করে নতুন স্বপ্ন নিয়ে সবাই এগিয়ে যেতে পারে না।

দুনিয়াতে কিছু একটা পাওয়ার ইচ্ছা, কিছু একটা হতে পারার আকাঙ্ক্ষা- এটাই কেন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়? যেখানে দুনিয়ার জীবনটা খুবই সামান্য , খুবই ক্ষণিকের- যার উদাহরণ সমুদ্রের বিশাল জলরাশির মধ্যে আংগুল ডোবানোর পর, আঙ্গুলে উঠে আসা এক ফোঁটা পানির মতন!! সেই দুনিয়ার জীবনের লক্ষ্য পূরণ না হলে আমরা কেনো নিজেদের তিলে তিলে শেষ করে দেই?? আমাদের দুনিয়ার জীবনের সফল হবার আকাঙ্খা যেন আমাদের প্রাচুর্য, যশ-খ্যাতি ইত্যাদির জন্য নির্ভর করে!!!(যদিও সবাই একই রকম ভাবে চিন্তা করেনা)

“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদিগকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে, যতক্ষণ না তোমরা সমাধিসমূহ দেখতে পাও (তোমাদের মৃত্যু হয়)। এটি কখনো সংগত নয়! অচিরেই তোমরা জানতে পারবে। আবারও বলি, এটি মোটেই সমীচীন নয়; তা তোমরা অনতিবিলম্বে জানতে পারবে। না, তোমাদের নিশ্চিত জ্ঞান থাকলে অবশ্যই তোমরা মোহগ্রস্ত হতে না। তোমরা (সময়ের প্রতি উদাসীন কর্মে অবহেলাকারীরা) অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে (তাতে প্রবেশ করবে)। পুনশ্চ! অবশ্যই অতি অবশ্যই তোমরা জাহান্নাম চাক্ষুষ দেখে (তাতে প্রবেশ করে তার শাস্তি ভোগ করে) প্রত্যয় লাভ করবে। অতঃপর অবশ্যই সেদিন তোমাদিগকে প্রদত্ত সব নিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।’’ (সুরা ১০২ তাকাছুর, আয়াত: ১-৮)।

আমরা যদি অতি অল্পেই কৃতজ্ঞ হতে পারি, যা পাই তাতে যদি সন্তুষ্ট থাকি এবং আমাদের জীবনের লক্ষ্য যদি পরকালীন উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য হয়, তবে পাওয়া না পাওয়ার তীব্র হাহাকার অনেকখানি কমে যাবে। শুধুমাত্র অল্প কিছু অপূর্ণতা থেকে জীবনটাকে ধুকেধুকে শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা তখন আর আমাদের মাথায় আসবে না, ইনশাআল্লাহ।

।।অনেক মানসিক কষ্ট এবং শারীরিক কষ্ট নিয়ে মিমি নামের বোনটি (আমার ছোট বোনের বান্ধবী) আজ আল্লাহর কাছে চলে গেছে। আল্লাহ তার গুনাহ খাতা মাফ করে দিন। তাকে জান্নাতের জন্য কবুল করে নিন। আমীন।।

Categories
যাপিত জীবন

বুক রিভিউ- ফেরা ২

‘ফেরা দুই’ বইটা একটু একটু করে পড়ে শেষ করলাম। দুই হিন্দু বোনের ইসলাম পালন করা নিয়ে এক রোমাঞ্চকর সংগ্রামের গল্প।

‘ফেরা’ যখন পড়েছিলাম সিহিন্তা আর নায়লা’পুর জীবনের গল্প, তখন যে অনুভূতি কাজ করেছিল, মোটামুটি একই রকম অনুভূতি কাজ করেছে এই বইটি পড়ার সময়।

বইয়ের পাতায় পাতায় আয়েশা ও মারিয়াম (মনিকা ও নীলম) এর চিন্তা-চেতনা, ভালোলাগা, ভালোবাসা, জানার আগ্রহ, ইসলাম গ্রহণ এবং তা পালন করা নিয়ে সংগ্রামের রোমাঞ্চকর বর্ণনা।

পড়তে পড়তে শুধু একটি কথাই বারবার মনে হচ্ছিলো, আমরা মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে ইসলামকে জীবন বিধান হিসেবে মানতে খুব হেলাফেলা করি। মনে করি, বাপ- দাদার ধর্ম, মুসলিম একটা নাম ও আছে। তাই সোজা জান্নাতে চলে যাবো!! যা কিছু করি না কেন, বুড়ো বয়সে একটু হজ্জ করে নিলেই হবে।

আমরা আমাদের ফরয ইবাদত গুলো সম্পর্কে যেমন জানিনা, তেমনি ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা এটা সম্পর্কে ও আমাদের ধারণা খুবই কম। সেখানে এই মানুষগুলো যখন নিজে থেকে চিন্তা করে খুঁজে খুঁজে ইসলামের পথে আসে, কষ্ট করে,ত্যাগ করে- তাদের পরীক্ষা আর আমাদের পরীক্ষা , তাদের হিসাব আর আমাদের হিসাব কখনোই কি এক হবে??

সবাইকে বইটি পড়ার আমন্ত্রণ । একটু হলেও ঈমানকে ঝাঁকুনি দিয়ে যাবে। ❤️❤️

বই পড়ার পেছনের গল্প:
ছানাপোনা ঘুমানোর পর বই , খাতা, ল্যাপটপ নিয়ে মশারির ভিতর কাজ শুরু করি। রাত জেগে স্লাইড রেডি করি, মি টাইম কাটাই, খাই আর পড়ি!! ল্যাপটপ খাটের নিচে শরিয়ে রাখলেও, বইগুলো মাথার কাছে রাখতাম। সকালে আমার আগে নুবাঈদের ঘুম ভাঙ্গে। আর আমার ঘুম ভাঙ্গে বই ছেড়ার শব্দে। 🥴

তার মধ্যে ফেরা বইটি পড়ে শেষ করতে পারাটা এবং বই ছেঁড়া থেকে রক্ষা করতে পারাটা একটি মহা আনন্দের বিষয়। আর বই পড়তে হলে মুখ ও সমান তালে চালাতে হয়। মানসিক ব্যাপার 🙄

চকলেট দুই টাই গিফট। একটা ভাইয়া পাঠিয়েছে আরেকটা, Sakina’s Kitchenet থেকে 🥰

Categories
যাপিত জীবন

মাঝরাতে বিনোদন

বড় পুত্র সন্ধ্যার পরে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। প্রায় দু তিন ঘন্টার একটা ঘুম। রাত দশটার দিকে সেই ঘুম ভাঙল।
এদিকে রাত বারোটার মধ্যে যখন সবাই শুয়ে পড়েছে , তার তো আর কোনভাবেই ঘুম আসেনা। তবুও সন্ধ্যায় ঘুমানোর অপরাধে বেচারা বিছানা ছাড়তে পারছেনা।

রাতে দুনিয়ার কাজ বাকি থাকে, তাই কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে উঠে পড়লাম। রাত দুইটা বাজে উঠে দেখি বড় পুত্রের চোখে ঘুম নাই। তার বাবা বলল কি করবা করো এখন।
আনন্দিত হয়ে সে বিছানা থেকে বেরিয়ে আসল।🥳🥳
ভদ্রলোক তখন লিখতে বসে গেল। যে লেখা এক লাইন দুই লাইন লিখলে তার হাত ব্যথা হয়ে যায় , দুই দিনেও লিখে শেষ করতে পারে না, সেটা এখন চুপিচুপি পুরস্কার পাবার আশায় এবং ঘুম না আসার দুঃখে চটপট লিখে ফেলল।

(পুরষ্কার ছিল Sakina’s Kitchenet এর ইয়াম্মি চকলেট গুলো। ব্যাসিকালি এগুলো আমি রাতে বাচ্চারা ঘুমালে চুপিচুপি খাই। আজ পুত্র এবং তার বাবাকে ও দিতে হোল 😑)

আল্লাহুম্মা বারিক লাহা।

Categories
যাপিত জীবন

টিকা

সীমিত আকারে আজ বাজারে গিয়েছিলাম। সেখানে মাতৃসদনে দেখি , “আপনার শিশু কে টিকা দিন”, পতাকা উড়ছে। বাসায় এসে নুবাঈদকে নিয়ে আবার গেলাম। মার্চ মাসে দিতে না পেরে অবশেষে মে মাসে টিকা দিতে পারলাম। দুই পায়ে দুটি টিকা। তার বাবা কোলে নিয়ে বসে আছে । একবার করে এক পায়ে টিকা দিচ্ছে, নুবাইদ কাঁদছে। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে তার মা ও কাঁদছে। বাচ্চার একটু কান্না, একটু কষ্টেই সব মায়েদের চোখেই বুঝি এমন করে পানি আসে।
এই সন্তানগুলো বড় হয়ে বাবা-মার থেকে কত দূর দূরান্তে চলে যায়। বাবা মাকে কত কষ্ট দেয় । তবুও সন্তানের প্রতি মা বাবার ভালোবাসা শেষ হয়না।

অন্যদিকে ভালোবাসার নিরানব্বইভাগ আল্লাহ তার কাছে রেখে , বাকি এক ভাগ সৃষ্টিকুলের মাঝে বিতরণ করেছেন । তাতেই আমাদের এতো এতো ভালোবাসা। তাই দয়ালু রহমানুর রহিম এর কাছে রমজান মাসে প্রাণভরে দোয়া করি, আল্লাহ যেন সব মাকে বাবাকে ভালো রাখেন , তাদের সন্তানদের সুস্থ রাখেন । পৃথিবীটাকে সুস্থ করে দেন । পৃথিবীটাকে তার রহমত চাদর দিয়ে ঢেকে দেন ।এই প্রাণঘাতী আজাব দূর করে দেন । আমিন।

Categories
যাপিত জীবন

তন্তান

নাওঈদ বাবা তাড়াতাড়ি ক খ সব লিখে ফেলোতো।
সে আস্তে ধীরে লিখা শুরু করল। (বাংলা লিখতে সে পছন্দ করে না। অনেক সময় নিয়ে ক খ লিখা শিখাচ্ছি।)
ক-ঙ এক সপ্তাহে লিখলে আরো দুই সপ্তাহ পর চ ছ লিখে, এমন অবস্থা। আর লিখতে গেলে ঘুম আসে, নানা রকম ঘটনা, গল্প মনে আসে। তাই দুটি বর্ণ শিখতে দুই সপ্তাহ লেগে যায়।
যাক , কি আর করা….

লিখতে বসে বর্ণের সাথে শব্দ মিলাচ্ছে।
মা…. ক তে কই। ব তে বই…..

ঠিক আছে, আগে আমরা লিখা শেষ করি। পরে শব্দ মিলাবো…..

মাম্মাম….. ত তে তন্তান…..
কী????
ত তে তন্তান….
কি দিয়ে কী??🤔🤔
সন্তান??? 😅😅😅
ওরে পাগলা, স তে সন্তান 😄😄

আমিতো তেতাই বলছি, ত তে তন্তান
😂😂🤣🤣

ত বর্গীয় তন্তান কিছু দিন হোল সাহস, পাহাড়, মহান বলতে শিখেছে।

তার ভাষা ছিল– আমার অনেক সাগস। তাই আমরা পাগাড়ে বেড়াতে যাবো।
আল্লাহ মগান, আল্লাহ মগান ইত্যাদি।

এদিকে লু আর লেলো কালার তার খুব পছন্দ।

আশা করছি সাড়ে চার বছর বয়সী পুত্রের এসব মিষ্টি মধুর বাণী খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

রমজানের শেষ দশ দিন চলে আসলো। দোয়া চাই সবার কাছে। কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে মাফ করে দিবেন। সবাই সবার জন্য দোয়া করবেন। ঈমানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য দোয়া করবেন। উম্মাহর ঐক্য এবং শান্তির জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ আমাদের সকলের গুনাহ মাফ করুক, সবার নেক দোয়া কবুল করুক।
আমিন।

Categories
যাপিত জীবন

ছানা পোনা উপদ্রবে ব্যস্ত জীবন

জুতার নীচে লেগে থাকা ময়লা খেতে কতো যে মজা, তা বাচ্চাদের না দেখলে বোঝা যায় না। সু রেক থেকে একটার পর একটা ছোট, বড়, মাঝারি সাইজের জুতা টেনে বের করা হয় এবং জিভ দিয়ে জুতা নিচের অংশ চেটে চেটে পরিস্কার করা হয়(সুযোগ পেলেই)।

বাসার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা পুঁতি, কাগজ, রং, পড়ে যাওয়া এবং পিঁপড়ে খাওয়া খাদ্যাংশ,যেকোন রকম ময়লা টুকরো দেখা মাত্র মুখে চালান করে ছোট পুত্র। ভাই বোনের রেখে দেওয়া রঙের বাক্স থেকে রং নিয়ে আনন্দ সহকারে খেতে থাকে, এক্সপ্রেশন দেখে মনে হয় যেন ললিপপ খাচ্ছে!!!😋 পোলাপান এরকম কেন???

অথচ নির্দিষ্ট তিন বেলা খাবারের পাশাপাশি অন্য কোন খাবার সে মুখেই দেয় না। খাবার ছাড়া যেকোনো জিনিস খাবার মনে করে মুখে ঢোকানোর বিষয়ে নুবাঈদ একজন বিশেষজ্ঞ।🙄

অন্যদিকে পাহাড়-পর্বত অতিক্রম করার ব্যাপারে দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা যায় তার মাঝে। খাটে, চেয়ার-টেবিলে, ওয়ারড্রব এর উপর, ডিপ ফ্রিজের উপরে যে কোন জায়গায় চোখের পলকে পারলে বেয়ে বেয়ে উঠে যায়।

তার জীবনের এই মুহূর্তে একটি অন্যতম লক্ষ্য হলো বাবার কম্পিউটার , কিবোর্ড, মাউস ইত্যাদির তার ধরে টানাটানি করা এবং মাল্টি প্লাগ যেখানে থাকে সেই জায়গায় হাত দেওয়া। ১০ সেকেন্ড ও যদি চোখের আড়াল হয়, নিমিষেই তাকে আমরা ঐ জায়গায় আবিষ্কার করি। (আল্লাহ হেফাজত করুক, এই বিষয়ে আমরা খুব ভয়ে থাকি)

পড়ে গিয়ে থুতনিতে রক্ত জমাট বেধে যায়, মুখে আচড় কেটে দাগ হয়ে যায়, আঙ্গুলে খোঁচা খেয়ে চামড়া উঠে যায় , আর মাথায় আলু ফোলা তো ডাল ভাত।🥴

দিন আর রাত এক হয়ে যায় তাকে পাহারা দিতে দিতে। দিনে পাহারা, রাতে কাজ এভাবেই চলছে।(এতো পাহারায় থেকেও স্ট্যাটাসখানা লিখার সময় টেবিলের সাথে মাথায় বাড়ি খেল 😐)

তবুও আমরা আনন্দিত সময় কাটাচ্ছি। পেটে খাবার থাকলে সবকিছুতেই আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়।

এই আনন্দের স্থায়িত্ব কতদিন থাকে সেটাই ভাবার বিষয়। এখনো খাবার-দাবার কিনে খেতে পারছি(সব কিছুর দাম আকাশছোঁয়া 😓)। সুস্থ ভাবে শ্বাস নিতে পারছি। আত্মীয় স্বজনেরা আলহামদুলিল্লাহ প্রায় সবাই ভালো আছে।
ফ্রি ফ্রি অক্সিজেন গ্রহণ করছি। এই অক্সিজেনের নেয়ামত, শুকরিয়া , কৃতজ্ঞতা আদায় করছি তো??🤔

#ছানাপোনাউপদ্রবেব্যস্তজীবন……

Categories
অভিজ্ঞতা যাপিত জীবন

পরকালীন যাত্রা ও কিছু উপলব্ধি



কিছুদিন আগে আমার ছোট জ্যাঠামিয়া পরকালের পথে যাত্রা করেছেন। সন্ধ্যায় জেঠিআম্মার সাথে যখন ফোনে কথা হচ্ছিল তিনি স্মৃতিচারণ করে কাঁদছিলেন। বেশ মন খারাপ করছিল। আমরা সবাই একদিন এভাবে পরপারের দিকে যাত্রা করবো। চিরন্তন, কিন্তু সহজ একটি সত্য। যারা চলে গেছে, কেমন আছে তারা? তাদের নিজস্ব আমল তো বন্ধ। বংশধারার দোয়ার মাধ্যমে তাদের কবর কি আলোকিত হচ্ছে??

আমার ছোট জ্যাঠামিয়া বেশ সুদর্শন একজন মানুষ ছিলেন। মুরুব্বি মানুষ হিসেবে হয়তো খুব কাছাকাছি কখনো যাইনি, কিন্তু শ্রদ্ধা ও সম্মানের সম্পর্ক বেশ ছিল।
গত বছর অক্টোবর মাসে আমার মেজো ফুপু মারা গিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম শহরে রক্ত সম্পর্কের এই একজন ফুপুই ছিলেন। সেই হিসেবে মেজো ফুপুর সাথে ও আমার বেশ আন্তরিক ভালোবাসার একটা সম্পর্ক ছিল।

তিন বছর আগে আমার নানা ভাইয়া মারা গেছেন। খুব সহজ-সরল ভালো মানুষ ছিলেন। বংশের বড় নাতনি হিসেবে যত ধরনের আদর, ভালবাসা পাওয়া সম্ভব সবকিছু তার কাছ থেকে পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

এর আগে মারা গেলেন আমার বড় জ্যাঠামিয়া, তার ও আগে জেঠিআম্মা। অনেকদিন পর পর দেখা হতো। সম্মান করতাম বেশ, আব্বু দের সবাআআর বড় ভাই-ভাবী।

তার আগে মারা গেল আমার বড় ফুপা এবং ফুপু। বড় ফুপু আমাকে অসম্ভব আদর করতেন, ভালোবাসতেন। গ্রাম থেকে আসলে তিনি বরই এবং টমেটোর আমসত্ত্ব নিয়ে আসতে কখনোই ভুলতেন না। তার কাছে থেকে কত যে পান খেয়েছি, ঠোঁট লাল করেছি।

মেজ খালু মারা গেছেন খালাতো ভাইকে অনেক ছোট রেখে। চট্টগ্রামের চাকরির সুবাদে দু’এক শুক্রবার পরপরই তিনি বাসায় আসতেন। আদর করতে বেশ।

আমার তিতু কাকা মারা গেছে অনেক আগে, তখন আমি নাইনে পড়ি। এত কষ্ট পেয়ে মারা গেছেন, মনে পড়লে আজও খারাপ লাগে। আমাদের শৈশব জুড়ে কাকা অনেক দিন কাছে ছিলেন।

আপনজনদের মধ্যে একদম প্রথম মৃত্যু ছিল মেজ জ্যাঠামিয়ার।সবাই মালানা সাব বলতো (মাওলানা সাহেব)। তখন আমি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। মনে পড়ে গ্রাম থেকে আসার সময় তিনি সব সময় অনেক কিছু আনতেন, পাশাপাশি চিপস নিয়ে আসতেন আমার আর ভাইয়ার জন্য। মনে হতো বস্তা ভরা ভালোবাসা আসতো গ্রাম থেকে।

দাদা ভাই মারা গেছে আমার জন্মের আগে। আমি হওয়ার পাঁচ দিন পরে দাদু মারা গেছেন। তাদের সম্পর্কে শুধু শুনেছি , দেখিনি কখনো। তবুও রক্তের টানে তাদের অনেক অনুভব করি। এছাড়া অদেখা মামা, খালাদের ও অনেক মনে করি, যারা অনেক ছোটবেলায় মারা গিয়েছেন। আর মনে পড়ে আব্বু আম্মুর প্রথম সন্তান, আমার অদেখা বড় ভাইয়ের কথা। তাদের গল্প আম্মুর কাছে কেবল শুনতাম।

দিন শেষে এদের প্রত্যেকের জন্য মনের টান, মায়া অনুভব করি। রোজার মাসে আমার প্রত্যেক মৃত স্বজনদের জন্য প্রাণভরে দোয়া করি যাতে আল্লাহ তাদের কোন ধরনের কবরের আজাব না দেন, তাদের মাফ করেন, তাদের জান্নাত নসিব করেন, তাদের কবরকে আলোকিত করে দেন , তাদের কবর যেন প্রশস্ত করে দেন।

তারা এখন দুনিয়াতে নেই। রেখে গেছেন তাদের সন্তান সন্ততি, বংশধারা। আমাদের অগ্রজদের জন্য আমরা সবসময় দোয়া করে যাব, তাদের আমলনামা যাতে কখনো বন্ধ না হয়ে যায়। তাদের কবর যেন সবসময় আমলনামায় সচল থাকে।

অন্ধকার বড় ভয় পাই। একদিন আমাকেও এই অন্ধকার কবরে যেতে হবে, মনে হলেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। একটা তেলাপোকা দেখলেই চিৎকার করে উঠি। সেখানে কবরে নামা মাত্র পোকামাকড়ের খাদ্যে পরিণত হবো!!!!

আমার মৃত্যুর পর আমার আত্মীয়, সন্তানেরা আমার আযাব মাফের দোয়া কি করবে??জানি না সাদকায়ে জারিয়া রেখে যেতে পারবো কিনা!!! তবে প্রাণ ভরে দোয়া করলাম, আমার পূর্ববর্তী সহ সকল নেককার ঈমানদারদের জন্য। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমাদের হেদায়েত দান করুন। আমিন।