Categories
যাপিত জীবন

মাহে রমজান ২০২১

আমাদের ছোট্ট ডিমের কর্মকাণ্ড…..
নামাজের বিছানায় কেউ দাঁড়ালেই হলো!!!
তখন তাকে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়। পায়ের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যাওয়া, শুয়ে পড়া, বাবার গায়ে চড়া,চুল-দাড়ি টানা, মায়ের হিজাব ধরে ঝুলতে থাকা , হিজাবের ভেতরে ঢুকে যাওয়া, টেনে খুলে ফেলা ইত্যাদি।

তার সরব পদচারণায় সে পুরো বাসার সবাইকে তটস্থ রাখে। আর সতর্ক না থাকলে মাথায় আলু ফোলাবে!!!

একটি ছোট ডিম ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ❤️❤️❤️

Categories
যাপিত জীবন

বেবি লিটার বক্স


বাসায় পোষা বিড়াল থাকলে তাদের জন্য লিটার বক্স রাখা হয়, টয়লেট সারার কাজে। নির্দিষ্ট একটা বক্সে তারা তাদের প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করে আসে।

আমার বাসায় এই মুহূর্তে বিড়াল নাই, তাই ক্যাট লিটার বক্স ও নাই। কিন্তু জামা রাখার বক্স এখন বেবি লিটার বক্স এ পরিণত হয়েছে।

নুবাঈদ পাঁচ মাস বয়সেই পটিতে অভ্যস্ত।
তার বয়স যখন দশ মাসের মতো তখন ঠান্ডা শুরু হয়েছে । তাই সে আর পটিতে বসতে চাইতো না । এখন ঠান্ডা চলে গেছে, তবুও সে আর পটিতে বসে না।

নুবাঈদের বাসার জামাগুলো একটা বক্সে রাখা থাকে আর কাথাগুলো আরেকটা বক্সে। ইদানিং সে দেখি বক্সে ঢুকে বসে থাকে । কিছুক্ষণ পর দেখি বক্সে রাখা তার জামা প্যান্টগুলো ভিজে আছে। প্রথম দিন কিছু বললাম না। পরের দিন দেখলাম তার যখন পটি আসলো সোজা সে গিয়ে বক্সে ঢুকে পরল। আমি তখন বিছানায়। বক্স থেকে সে দেখি উঁকি মেরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবভঙ্গি সুবিধার মনে না হওয়াতে তাকে বক্স থেকে তুলে টান দিলাম। দেখলাম পটি কর্ম সম্পাদন করা মাত্র শুরু করেছে। কাকতালীয় ঘটনা ভেবে সেটাও ইগনোর করলাম।

ওমা এখন দেখি সে সুযোগ পেলেই তার পি পটি আসলে জামাকাপড়ের বক্সে চলে যায়। নর্মালি সে ডায়াপার বেবি। এখন একটু বড় হওয়াতে শুধু রাতে ঘুমানোর সময় ডায়াপার পরাই। অন্য সময় গুলোতে খেয়াল করে করে তার কর্ম সারাই। ভুল করেও যদি তার দিকে এটেনশন কম দেয়া হয়, তখনই এই ধরনের ঘটনার শুরু করে। প্রায় প্রতিদিনই ধোয়া জামা কাপড় গুলো আবার ধোয়া লাগে।

মাম্মাকে ব্যস্ত না রাখলে তাহাদের ভালো লাগে না 🙄

Categories
যাপিত জীবন

ডাব্বু মাথা

ডাব্বু মাথা চার আনা, চাবি দিলে ঘুরেনা/
আট আনা দিলে নষ্ট, ডাব্বু মাত্রার কষ্ট।

ছোটবেলায় কত যে শুনেছি, আর বলেছি!!! কত যে অপমান মনে হোত এই ছড়া শোনাটা! কত যে মন খারাপ হোত!! 😓
অন্য দিকে কেউ বেল মাথা হলে তাকে এটি শুনিয়ে বিমল আনন্দ পাওয়া যেত 😎😎😁
এখন কার পিচ্চি দের সারাদিন পেম্পারিং করা লাগে। ডাব্বু হলেও বলতে হয়- তুমি সুইট, কিউট!!!

নায়রাহ তার ৫ বছর বয়সকালে এখন ২য় বারের মতো ডাব্বু হলো। ভিডিও করে নানু , দাদুর বাড়ি ডাব্বু দেখিয়ে কত যে কম্প্লিমেন্ট পেল!!!

কি আর করা, আমিই এদের শোনাই, ডাব্বু মাথা চার আনা!!😎😎
কিন্তু ওরা মাইন্ড করে না!!🥴

Categories
যাপিত জীবন

নুবাঈদ কান্ড

নুবাঈদ দু’ চারদিন পর পরই ডাইনিং টেবিল থেকে অথবা রান্নাঘরে গিয়ে কিছু না কিছু ফেলে দেয়। ভাত, তরকারি পাতিল , পানির জগ , দুধ চিনির বয়াম , ফলের ঝুড়ি বা যেকোনো কিছু হাতের নাগালে পাওয়া মাত্র টান দেয়।🥴

আজ দেখি ডাইনিং টেবিলের চারপাশে চক্রাকারে ঘুরছে। কোন জিনিসটা হাতের নাগালে পাবে তারপর সেটা টান দিয়ে ফেলবে এবং মুখে দিয়ে টেস্ট করে দেখবে। অবশেষে একটা লবনের প্যাকেট এ সে হাত দিতে পারল।🙄

কেউ আমিন না বলে যাবেন না। 😑

Categories
যাপিত জীবন

ছানাপোনাদের পার্টি



কোন এক দিন কথাপ্রসঙ্গে আলাপ করেছিলাম ওয়ান ডিস পার্টি নিয়ে। ভেবেছিলাম রোজা শুরু হওয়ার আগে বাচ্চাদের নিয়ে কিছু একটা আয়োজন করব। পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়াতে সেটা মাথা থেকে বাদ দিয়েছিলাম। কিন্তু পুত্রকন্যার মাথায় কোন ভাবে বিষয়টা ঢুকে গেছে যে তারা ওয়ান ডিশ পার্টি করবে।

গতকাল খেলাধুলা শেষ করে এসে তারা জানালো যে পরের দিন পার্টি করবে, সবাই আসবে। বিষয়টাকে খুব একটা পাত্তা দেইনি। আজ সকাল থেকে তারা ভাই-বোন ঘোষণা করছে ওয়ান ডিস পার্টি হবে, কে কে আসবে , কোন জামা পরবে ইত্যাদি । দুপুরে গোসলের পর ভালো করে কনফার্মেশন নিতে বললাম বন্ধু-বান্ধবদের থেকে। তারা নিজ দায়িত্বে সবার বাসায় বাসায় গিয়ে ওয়ান ডিস পার্টির কথা বলে আসলো।

কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া বাচ্চাকাচ্চাদের এসমস্ত আবদার মেটানো একটু কষ্টকর। যেহেতু পুত্র কন্যা নিজেরা পরিকল্পনা করে কিছু একটা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে তাই কষ্ট হলেও আর বাধা দেইনি। সকালের নাস্তা , দুপুরের খাবার, এর মাঝে ক্লাস- সবকিছু শেষ করে দুপুরের পর আবার তাদের নাস্তার আয়োজন করলাম। দু’তিন পদ খাবার রেডি করে ছানা পোনা সমেত ছাদে গেলাম। ততক্ষনে বেশ কিছু বাচ্চাকাচ্চা এক জায়গায় জড়ো হয়েছে।

আসন্ন রমাদান নিয়ে তাদের সাথে টুকটাক আলাপ আলোচনা করলাম। মা-বাবাকে কিভাবে বাসার কাজে সাহায্য করা যায় , রোজার আদব , সাদাকা ইত্যাদি কিছু বেসিক বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বললাম। এরপর ৪০ হাদিস এর গল্প বইটি থেকে একটা গল্প পড়ে শোনালাম। বাচ্চারা বেশ মজা পেয়েছে। ওরা আসলে অনেক কিছু জানতে চায়, বুঝতে চায়। জানার জন্য ওদের উপযুক্ত পরিবেশ , পরিস্থিতি ও পরিচর্যা দরকার।

এরপর তারা খাবার-দাবার খেলো একসাথে সবাই মিলে। তারপর কিছুক্ষণ খেলাধুলা চলল। নায়রাহ ড্রইং খাতা, রং নিয়ে গিয়েছিল। আঁকা আঁকি চলল আরো কিছু ক্ষন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, যে যার বাসায় ফিরে গেলো।

অপরিকল্পিত ভাবে ছোট আয়োজন। বাচ্চার নিজেরা পরিকল্পনা করেছে একসাথে বসে খাবে, খেলবে। ঝামেলা হলেও বাধা দেইনি যে তারা এখন থেকেই সবাইকে নিয়ে ভাবছে, কিছু আয়োজন করার চেষ্টা করছে। ভুলভাল কি করেছে, বুঝিয়ে দিলাম।

তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম আমরা যখন বুড়া হবো তখন আমাদের বুড়ো বন্ধুদের নিয়ে এরকম পার্টি করতে চাইলে তারা আমাদের কিছু বানিয়ে দিবে কিনা। তারা একমত হয়েছে, বড় হলে আমাদের বুড়ো দের পার্টি আয়োজন করবে।
বারাকাল্লাহু ফিকী।

(ক্লান্ত হয়ে কয়েক মিনিটের জন্য চোখটা একটু বন্ধ করেছিলাম। এর মাঝে ছোট পুত্র চেয়ার বেয়ে টেবিলে উঠেছে। আবার টেবিল থেকে নামতে গিয়ে ধপাস করে পড়ে গিয়েছে।)

Categories
যাপিত জীবন

মায়াবতী মা

আমার মায়াবতী মা



প্রতিটি মেয়েই জন্ম থেকেই অনেক মায়াবতী। সেটা বোঝা যায় যখন তারা খুব ছোট থেকেই তাদের পুতুলের মা হয়ে যায়, পুতুলকে খাওয়ায়, ঘুম পাড়ায়। এই মায়ার অংশ হিসেবে কোন কিছুকে বা কাউকে তারা আদর যত্ন করতে খুব ভালবাসে।

আমার বেলায় আমার ছোট বোনটি ছিল আমার জ্যান্ত পুতুল। আদরের ভান্ডার আমাদের। বিয়ের পর খালি বাসায় এই আদরের জিনিস এর অভাব পূরণ করতে নিয়ে এলাম টোনা টুনিকে।(এক জোড়া খরগোশ)
এরপর মনে হলো আরো আদরের কিছু দরকার। নিয়ে এলাম তিনটি বিড়াল ছানা, কুইন, টাইগার আর রাজা।

নায়রাহ আসার অসুস্থতায় সব গুলো কে দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর এক এক করে তিনটি আদরের খনি এলো, আলহামদুলিল্লাহ। একা হাতে তাদের সামলাতে হয়। (তাদের বাবা ও টুকটাক সাহায্য করে)। অনেক কিছু মনে মতো করা যায়না। কাজকর্ম অসম্পূর্ণ থাকে। মাঝে মাঝে হিমসিম খাই। বিরক্ত লাগে।

নমুনা: দুপুরবেলা গোসলের পর নুবাঈদ ক্রমাগত হাই তুলতে থাকে। তখন ঝড়ো গতিতে আমার কাজকর্ম চলে। এই অবস্থায় সবকিছু বন্ধ রেখে তাকে সার্ভিস দেওয়ার জন্য কোলে নিয়ে শুই। বাপ একটু ঘুমা। আমিও কাজে যাই। ওমা, সে সার্ভিস নেয়া শেষ করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়, হাসাহাসি করে , পর্দা ধরে ঝাকাঝাকি করে , তখন আর ঘুমায় না। মাঝখান থেকে আমার গুরুত্বপূর্ণ তিরিশ মিনিট নাই হয়ে যায়। সব কাজে দেরী হয়ে যায়।

সন্ধ্যার পর নায়রাহ, নাওঈদকে নিয়ে একটু পড়াতে বসার চেষ্টা করি। ছোট পুত্র তখন কম্পিউটারের তার ধরে টানাটানি করার চেষ্টা করে, রান্না ঘরে চলে যায় , ফিল্টারের পানি ছেড়ে দিবে, চুলার বাটন ঘোরানো শুরু করবে. বিছানা বেয়ে পড়ার টেবিলে উঠে যাবে।….. এক দুই পা হেঁটে বাকিটা হামাগুড়ি দিয়ে এ ধরনের কর্মগুলি চালাতে থাকে। তখন মনে হয় কিসের হোমস্কুলিং আর কিসের আরলী চাইল্ডহুড ডেভলপমেন্ট!!! সব বন্ধ করে ছোট জনকে পাহারা দেই। ( যারা এতো কাজের মাঝেও সব সন্তানদের সময় দিতে পারেন তাদের আমার সুপার ওমেন মনে হয়। আল্লাহ আমাদের মায়েদের সময়ের বারাকাহ দিক)

অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সময় সুযোগ পেলেই রুমে ঢুকে যায় , বইটা নিয়ে ছিড়ে ফেলে, চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে বুবু ভাষায় কথাবার্তা বলতে থাকে।
আরো আরো অনেক ঘটনা। এতো কাজ, এতো ক্লান্তি, এত্তো কিছুর পরও তাদের জন্য আমাদের মায়েদের কতো মায়া লাগে। তাদের হাসিমুখ দেখলে নিমিষেই সব ক্লান্তি চলে যায়। বাচ্চারা একটু একটু বড় হয়, স্বাবলম্বী হয় আর মায়ের কোল থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।( চার বছর বয়সী বড় পুত্রকে অনুরোধ করে আদর করা লাগে। ওর নাকি লজ্জা লাগে!!!) তবু ও মায়েদের বুক ভরা ভালোবাসা, মায়া কোনটাই কমে না।

মেয়েদের মধ্যে সব সময় মাতৃত্ব ভাব প্রবল ভাবে থাকে। ছয় বছর বয়সী মেয়েকে দেখি সে তা সাধ্যমতো ভাইদের খেয়াল রাখার চেষ্টা করে। ঘর গোছায়। নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করে, যাতে তার মায়ের কাজ সহজ হয় ( বারাকাল্লাহু ফিকুমা)।

অনেকের ক্ষেত্রে এই মাতৃত্ব হলো পরাধীনতার শৃঙ্খল, ক্যারিয়ারের জন্য বাধা। তাদের কথা আলাদা। কিন্তু আর দশটা সাধারণ মেয়েদের জন্য মাতৃত্বের আকাংখা, মায়া খুব স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়। তারা ছোটবেলায় পুতুলকে আদর করে, বিড়ালকে আদর কর, বড় হলে ছেলে মেয়ে, বুড়ো হল নাতি নাতি নাতনি, নিঃসঙ্গ হলে পোষা প্রাণী বা অন্য কোন আপনজন, কাউকে না কাউকে সে আদর করবেই, মায়া দেখাবেই। আল্লাহ মেয়েদের হৃদয় ভর্তি করে মায়া দিয়েছেন।

তাই এই মায়াময় সময়ের লোভে তারা যুগে যুগে কালে কালে অনেক কষ্টকর, অপছন্দনীয় বিষয়ের সাথে আপোষ করে যায়।

জগতের সব মায়াবতী দের অনেক অনেক ভালোবাসা।❤️❤️❤️❤️

Categories
যাপিত জীবন

রক্ষণশীল ভালোবাসা

সন্তানদের আমরা খুব ভালোবাসি। এই ভালোবাসা থেকেই আমরা রক্ষণশীল আচরণ করি।এটা করো না, সেটা ধরো না, ওখানে যেও না ইত্যাদি ইত্যাদি। বাচ্চারা খেলতে চায়, বেড়াতে চায়, বন্ধুত্ব করতে চায়। কিন্তু নিজেদের অলসতার জন্য অথবা নিজেদের ব্যস্ততার কারণে আমরা হয়তো ওদের কে বেড়াতে বাহিরে নিয়ে যেতে পারি না। আবার আমরা ওদেরকে একাকী ছেড়ে ও দিতে পারি না কেননা সমাজের চারপাশে শকুন, হায়নারা ঘুরে বেড়ায়। একাকী বাচ্চা পেলেই খুবলে খুবলে খেয়ে ফেলবে। অথচ ওদের দৌঁড়ে ঘুরে বেড়ানো শৈশব খুব জরুরী। বাচ্চাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য সবুজ মাঠ-ঘাটের বিকল্প আছে বলে আমার জানা নেই।

বাসার কাছাকাছি মাঠগুলোতে, পার্কগুলোতে যদি আমরা ওদের নিতে পারি, বাচ্চাদের একসাথে খেলার ব্যবস্থা করতে পারি, ওদেরকে ওদের ভুবনে কিছুক্ষণের জন্য ছেড়ে দিতে পারি- তখন উপলব্ধি করা যায় ওরা কতটা আনন্দ পায়।

ওদের ভুবনে ওদের ছেড়ে দিলে হয়তো তারা পড়ে গিয়ে ব্যথা পাবে, অন্য বাচ্চাদের সাথে হয়তো মারামারি করে ব্যাথা পেতে পারে অথবা খেলায় হেরে গিয়ে মন খারাপ করতে পারে।কিন্তু এই সমস্ত বিষয় ই তার বেড়ে ওঠার এক একটি ধাপ। ওদের সুন্দর বেড়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ বা সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য ওদের প্রস্তুত করা উচিত।

আমার ছোট পুত্র তেরো মাস বয়সে এখনো হাটা শিখে উঠতে পারেনি। সেদিন দেখি মুখে বেশ রক্ত, ঠোঁট ফেটে গেছে। তার মানে ধুমধাম করে পড়ে কোন এক জায়গায় বাড়ি খেয়েছে।রক্তাক্ত মুখ দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বাসায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কাঁদেও নাই তাই টেরও পাইনি আমরা।
অন্যদিন চুলা জ্বালিয়ে ম্যাচের কাঠি টা চুলের নিচে ছুড়ে মারলাম কিন্তু সেটা বেশি দূর যায়নি হয়তো। ছোট পুত্র কোন এক ফাকে পায়ের নিচ দিয়ে এসে দাঁড়িয়েছিল। সে চট করে আধা জ্বলন্ত ম্যাচের কাঠিটা মুখে ঢুকিয়ে দিল। আবার দেখলাম সাথে সাথে সেটা ফেলে দিয়েছে। কোন সাড়াশব্দ করল না। তাই আমি আর গুরুত্ব দিলামনা। ভাবলাম অন্য একটা কাঠি হয়তো সে ধরেছে। পরের দিন দেখলাম ঠোঁটের পাশে দাগ হয়ে গেছে। তার মানে সেই জ্বলন্ত কাঠিতে তার ঠোঁটের পাশে একটু পুড়ে গিয়েছিলো।

আর বড় পুত্র-কন্যা তো দু এক দিন পর পরই পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় আসে। মিনিট পাঁচেক থেকে চোখ মুছে আবার তারা খেলতে চলে যায়।

বিষয়টা হলো বাচ্চাদের দুরন্তপনাগুলো আমাদের অনুমোদন করতে হবে, পাশাপাশি ওদের দিকে বেশ ভালোভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে তারা কোনো ধরনের আঘাত না পায় আবার তাদের আনন্দের কোন ঘাটতি ও যাতে না হয়।

সতর্কতা- আমাদের ভাড়াটিয়া আন্টির পিঠাপিঠি তিনটা বাচ্চা ছিল। তিনটা বাচ্চাই সারাদিন সমানে চিৎকার-চেঁচামেচি , মারামারি, খেলাধুলা করতো। তেমনি কোন একদিন আন্টি কাজ করছিল আর রান্নাঘর থেকে একটা আওয়াজ আসছিল।আন্টি প্রথমে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি । কারণ ওরা তো সারাদিন নানারকম সাউন্ড করতেই থাকে।যখন টানা দুই মিনিট ধরে সাউন্ড টা হচ্ছিল তখন তিনি রান্নাঘরে গিয়ে দেখেন ছোট ছেলেটি কারেন্টের শক খেয়ে ঝুলে আছে। রান্নাঘরের রেক বেয়ে উঠে হাতের চামচটা সকেট এর মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। ফলাফলে কারেন্ট শক বেশ কিছুক্ষণ ধরে এবং বাচ্চাটির মৃত্যু। 😓

বাবা মা হিসেবে সন্তানদের ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা যেমন মেনে চলা উচিত ঠিক তেমনি ভাবে চেষ্টা করা উচিত যাতে ওদের স্বাভাবিক শৈশব কোনভাবে ব্যাহত না হয়।
সব শিশুদের জন্য ভালোবাসা। ❤️❤️❤️❤️

Categories
যাপিত জীবন

আজকের দিনটা ভালো ছিল

প্রায় প্রতি শুক্রবারে নাওঈদ তার বাবার সাথে মসজিদে যায়। এই সময়টা তার জন্য বেশ উত্তেজনা কর। বেশ অনেকখানি হেঁটে গিয়ে দূরের মসজিদে যায়, আবার হেঁটে আসতে হয়। আজ ক্লান্ত হয়ে ডাব কিনে দেয়ার আবদার করেছে। ডাবের পানি খেয়ে বোনের জন্য ডাবের শাস ও নিয়ে আসছে।

বাসায় আসার সময় তাদের বাবা কোল্ড ড্রিংকস নিয়ে আসছে। শুক্রবার দিনে সব সময় ভালো মন্দ কিছু না কিছু রান্না হয় অথবা হোটেল থেকে বিরানি , তেহারি টাইপের কিছু কিনে আনা হয়। সাথে কোল্ড ড্রিংকস তাই থাকতেই হয়।

বাচ্চাদের দাদা আসা উপলক্ষে আজ কিছু স্পেশাল ডিশ রান্না হয়েছে। ভাই বোন খেয়েদেয়ে আনন্দিত হয়ে নাওঈদ নায়রাকে বলছে, আপি, আজকের দিনটা বেশ ভালো গেল তাই না।!!??

বিকেলে দাদা সহ ঘুরতে গিয়ে হাবিজাবি কিনে নিয়ে আসছে। সন্ধ্যা য় দেখি আবার গাল ভরা হাসি দিয়ে গল্প করছে, আজকের দিনটা ভালো ছিল ❤️❤️❤️

আমরা শুনে খুব মজা পেলাম। কি সুন্দর, অল্পতে ওদের দিন ভালো চলে যায়। পেট ঠান্ডা তো দুনিয়া ঠান্ডা….

বড় মানুষদের দিন ভালো যাওয়ার জন্য কত কিছু লাগে। ওমুক কি বলল, তমুক কি শোনালো, এটা কেন পেলাম না, সেটা কেন দিলাম না? আরো কতো কি!! অথচ আমাদের বেশিরভাগ কাজকর্ম পেট সংক্রান্ত। পেট সংক্রান্ত কাজের জন্যই আমরা জীবিকা অর্জনের নিয়তে ব্যস্ত থাকি। তাই পেট মোটামুটি ঠান্ডা থাকলে আমাদের আনন্দিত থাকার কথা ছিল। মাজলোর থিওরি ফলো না করলে আমরা সহজেই আনন্দিত হতে পারতাম হয়তো।

বাচ্চাদের মত সহজ থাকতে পারলে আনন্দিত হওয়াটা কঠিন কিছু না।

Categories
যাপিত জীবন

আমার বাবুই পাখির দুষ্টুমি

সকালের নাস্তার দৌড়াদৌড়ি কমাতে আগের রাতে দু’তিন দিনের রুটি পরোটা একসাথে বানিয়ে ফ্রোজেন করে রাখি। ছোট্ট ছানাটা সারাদিন পিছে আঠার মতো লেগে থাকে। তাই রান্নাঘরের কাজ যথেষ্ট সংক্ষেপে করার চেষ্টা করি।😔

রুটি বানানো সংক্ষেপে করার জন্য গত সাড়ে চার বছর আগে থেকে রুটি মেকারটা ব্যবহার করছি। মূলত সাহায্যকারী মেয়েদের রুটি বানাতে যাতে কম সময় লাগে সে জন্যই কিনেছিলাম। এখন যেহেতু নিজেকেই বানানো লাগে তাই রুটি মেকার টা ব্যবহার করতেই হয়।

রুটি বানানোর সময়, নুবাইদ ভদ্রলোকের মত হাত ঢুকায় দেয়, রুটি ধরে টান দেয়, স্ক্রু ঘুরাতে থাকে , ফিল্টারের পানি ছেড়ে দেয়, পা চেপে ধরে বসে থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি। ছোট বাচ্চাদের রান্নাঘর এত ভালো লাগে কেন? 🤔🤔

কখনো বটি নিয়ে কাটাকাটি করছি , হঠাৎ দেখি পিছনে কেউ একজন গলা জড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে পিঠের উপর। চুলায় তরকারি নাড়ছি , পায়ের নিচে থেকে হামাগুড়ি দিয়ে এসে কেউ একজন চুলার নব ঘোরানো শুরু করে। নিচে রাখা হাড়ি পাতিল টানাটানি করে। তরকারির পাতিল উল্টে ফেলে দেয়। 😭😭

ওয়ার্নিং দিলাম আর ক বছর যাক। তিন ভাইবোন মিলে রান্না বান্না সব করা লাগবে। তখন আমি আর রান্নাঘরে ঢুকবো না।
নিজেকে নিজের সান্ত্বনা দেয়া। 🙄

Categories
যাপিত জীবন

এলেবেলে চিন্তা

আমার একটা কেমন যেন ধরনের অভ্যাস আছে। যখন কোন কিছু খুব পছন্দ হয়, খুব ভালো লাগে তখন সেটা ব্যবহার না করে , না খেয়ে রেখে দেই।ফলাফলে দেখা যায় খাবার জিনিস হলে নষ্ট হয়ে যায়, বাচ্চাদের জামাকাপড় হলে ছোট হয়ে যায়, ব্যাগ – জুতা টাইপ জিনিস এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

২০১৩ সালের আব্বু প্রথমবার হজে গিয়ে জমজমের পানি দিয়েছিল একটা ছোট মিনি বোতলে সহ অন্য বড় বোতলে। এত সুন্দর মিনি বোতল!!! পানি সহ বোতলটা রেখে দিয়েছি এখনো। মায়া লাগে, খেলে শেষ হয়ে যাবে!!! (এর মাঝে আরো অনেক বার পানি পেয়েছি, কিন্তু ঐ বোতল ধরিনি)
একটা খুব সুন্দর আতর গিফট দিয়েছিলেন এক প্রিয় আপু, বিয়ের উপহার হিসেবে। ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যাবে তাই রেখে দিয়েছি। মাঝে মাঝে বের করে নেড়ে চেড়ে দেখি।
আমার এক প্রিয় ছাত্রী ইতালি থেকে একটা টুনা ফিসের ক্যান দিয়েছিল সাথে আরো কিছু। খেলে শেষ হয়ে যাবে( চকলেট গুলো খেয়ে ফেলেছি)। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি আর কতদিন আছে এক্সপায়ার ডেট এর। টাইম শেষ হবার আগে খেয়ে নিবো নে।

নুবাঈদ হবার আগে আমার ছাত্রীরা এক বাকেট উপহার দিয়েছিল। সেখানে একটা কিউট জার কেক ছিল। কিউটনেসের কারণে কেকটা না খেয়ে জমিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। পরে খাবো বলে। কদিন পর নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মনে হলে এখনো দুঃখ লাগে।

আচার কিছু খেয়ে বাকিটা রেখে দেই । এত মজা, থাকুক আরো কিছুদিন। পরে দেখি ছত্রাক পড়ে গেছে।

বাচ্চাদের জন্য ভাইয়া কার্টন ভরে খেলনা পাঠিয়েছে দেশের বাইরে থেকে। রয়ে সয়ে অল্প অল্প করে ওদেরকে একেকটা বক্স বের করে দেই। তিন-চারটা বক্স জমিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। সেদিন নামিয়ে দেখলাম ব্যাটারি রাখার জায়গা গুলোতে জং ধরে গেছে। তাই এখন একসাথে চারটা খেলনা দিয়ে ওরা খেলছে।

আমাদের সম্পর্ক গুলো মনে হয় যেন এমনি। কাউকে আমরা বেশ ভালোবাসি গুরুত্ব দেই ফলাফলে অন্য কিছু সম্পর্ক আবার জং ধরে যায়। দেখা যায় আমরা ছেলেকে মেয়ের চাইতে বেশি প্রায়োরিটি দেই অথবা মেয়েকে ছেলের চাইতে। পয়সাওয়ালা আত্মীয়দের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, অপেক্ষাকৃত আর্থিকভাবে দুর্বল আত্মীয়দের মূল্যায়ন করা হয় না। শিক্ষাগত যোগ্যতা যার বেশি তাকে হয়তো বেশি মান্যগণ্য করা হচ্ছে, অপরদিকে আরেকজনকে হয়তো তেমন আচরণ করা হচ্ছে না। নতুন বন্ধু পেয়ে পুরাতন বন্ধুত্ব ভুলে যাই।
কাউকে আমরা বেশি ভালোবাসি, বেশি অগ্রাধিকার দেই । এটার জন্য আমাদের অন্যান্য সম্পর্ক গুলো হয়তো আমরা গুরুত্বহীন করে ফেলি। সম্পর্কের মধ্যে একটা ব্যালেন্স আসা জরুরি। তাহলেই মনে হয় আমরা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সহ মিলে মিশে ভালোভাবে থাকতে পারবো।কোন একটা বিশেষ কারণে কাউকে বেশি ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা যাতে এই বায়াসড আচরণটা না করি।

সম্পূর্ণ উপযোগিতা পাবার জন্য জিনিস পত্র ঠিকমতো ব্যবহার জরুরী, খাবার ঠিক সময়মতো খাওয়া জরুরী। তেমনি সব ধরনের সম্পর্কে পক্ষপাতী আচরণ এড়িয়ে যেতে পারলে সেই বন্ধনগুলো আরো মজবুত হবে। তাহলে আর সম্পর্ক গুলো ফেটে যাবে না, জং ধরবে না, নষ্ট হবে না।
সবাই ভালো থাকুক।