Categories
যাপিত জীবন

শুক্রবার দিন: সাপ্তাহিক ঈদের দিন



আমাদের ছোটবেলায় সারা সপ্তাহ তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করে থাকতাম কখন শুক্রবার আসবে। এই দিনে বাসায় মোটামুটি ভালো-মন্দ খাবার রান্না করা হোত। সবচাইতে মজার বিষয় ছিল শুক্রবারে দুপুরবেলা বিটিভিতে পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি সবাই মিলে দেখতাম। পিওর বিনোদন😁। দুপুরে খাবার পর আম্মু বাদাম ভেজে দিতো। ভাইয়া, আমি, আব্বু আমারা সবাই মিলে বাদাম খেতে খেতে সিনেমা দেখতাম। পুরা সপ্তাহে আব্বু ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে দুপুর বেলা বাসায় থাকত না। শুক্রবারে দুপুর বেলা বাসায় থাকতো, আমাদের সময় দিতো, একসাথে বসে সিনেমা দেখতাম অথবা কোন কোন মাসে বেড়াতে নিয়ে যেতো। তাই শুক্রবার আমাদের জন্য খুব আকাঙ্ক্ষিত একটি আনন্দময় দিন ছিল।

শুক্রবার এখনো আমার জন্য অনেক আগ্রহের একটা দিন। সারা সপ্তাহে কাজের পর যেই না বৃহস্পতিবার রাত আসে কেমন একটা আরাম আরাম ভাব হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। এটা ভেবেই কেমন এক আলস্যে ভরা সময় কাটানো শুরু করে দেই। বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দুজনে মিলে কি পড়ব বা কি মুভি দেখব ঠিক করি। এবং ছোটপুত্রকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে নিজেও ঘুমিয়ে পড়ি।🙄

শুক্রবার এর কথা মনে করে বেশ কিছু কাজ জমিয়ে রাখি। ঘরের বিভিন্ন জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, পুরাতন জামা কাপড় বাদ দেয়া, কিছু স্পেসিফিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা, লেখালেখি করা, বান্ডিল বান্ডিল জমে থাকা খাতা শুক্রবারে বসে দেখবো বলে রেখে দেই। মোটকথা শুক্রবারে করবো বলে অনেক চিন্তাভাবনা করে কিছু কাজ আলাদা করে রাখি।

ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো এসব কাজের কোনটাই খুব বেশি একটা শুক্রবারে করা হয় না। ভোরবেলাতে যেহেতু অফিস থাকে না, তাই ছোট পুত্র যতক্ষণ জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে চায় ততক্ষণ তার সাথে শুয়ে থাকি। বেশ বেলা করে বিছানা ছাড়ি তার সাথে। অফিস ছুটির পাশাপাশি মনে মনেও যেন বাসার কাজ থেকে ছুটি নেই। ঘর সংসারের কাজে মন বসে না। স্লো মোশনে নড়াচড়া করি।

উদাসীন গৃহিণীর মনোভাব লক্ষ্য করে তাদের বাবা মাঝে মাঝে তাই শুক্রবারে সকালের নাস্তা বা দুপুরের খাবার বাহির থেকে অর্ডার করে ফেলে। মাঝে মাঝে আবার সদলবলে বাহিরে কোথাও খেতে চলে যাই। 🥰

ঘর সংসারের যাবতীয় কাজ একপাশে রেখে দেখা যায় শুক্রবার জুড়ে শুধু ঘুমাতেই ভালো লাগছে। সারা সপ্তাহের ক্লান্তি এই দু একটা দিনে যেন পুষিয়ে নিতে চাই। অফিস ছুটি থাকলে কি হবে ঘর সংসারের চারবেলা রান্নাবান্না থেকে তো ছুটি নেই। সাংসারিক কাজ, বাচ্চাদের দেখাশোনা, রান্নাবান্না যথানিয়মে এসব কাজ চলতে থাকে। একদিন ঘরের কাজকর্ম বন্ধ থাকলে পুরো বাসা রিফিউজি ক্যাম্পে পরিণত হয়। তাই ঘরকে ঘরের মতো রাখাও আসলে বড় একটা প্রশান্তির কাজ।

শুক্রবারে চেষ্টা করি খাবারের মেনুতে স্পেশাল আইটেম রাখতে। বাচ্চারা নিজের হাতে খেতে চেষ্টা করে তখন। ঐদিন দুপুরে দরজা খুলে যখনি পুত্র এবং তার বাবা মসজিদে যায় তখন চারপাশ থেকে বিভিন্ন ধরনের রান্নার সুবাস পাওয়া যায়। পোলাও, খিচুড়ি, বিরিয়ানি, রোস্ট ইত্যাদি নানা রকম বাহারি খাবার। ভালোই লাগে। আনন্দের একটা অনুভুতি হয়। শুক্রবার দিন আমাদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন, সেটাই খুব করে মনে হয়।

রান্নার সময় মনে হয় যে, ঘরের খাদেমা, বুয়া, গেটের দারোয়ান, গার্ড তারাও খাবারের ঘ্রাণ পাচ্ছে। তারা প্রতি সপ্তাহে বা প্রায় প্রতিদিন এভাবে ভালো ভালো মুখরোচক খাবার খেতে পারে?? তাদের সাথে ও তো আমাদের খাবার গুলো শেয়ার করা উচিত।

আমাদের ছোটবেলায়, যখনই দুপুরবেলা কোন ভিখারি আসতো, সব সময় আম্মুকে দেখতাম পেট ভরে তাদের খেতে দিতো। অন্যসময় আসলে তাদেরকে দুমুঠো চাল দিতাম, মাঝে মাঝে টাকা দিতাম, কিন্তু খাবারের সময় আসলে অবশ্যই আম্মু তাদেরকে খেতে দিতো। ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকার সুবাদে অনেক দিন ধরে বাসাবাড়িতে কোন ভিখারি আসেনা। কাউকে দান করা, খেতে দেওয়া, এ বিষয়টা বাচ্চারা দেখে না। খাবার শেয়ার করা, কাউকে খেতে দেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো বোঝানোর জন্য বাচ্চাদের হাতে তাই খাবার বক্স করে নিচে পাঠিয়ে দেই। ওরাও আগ্রহ ভরে খাবার দিয়ে আসে। শুক্রবারে আনন্দ আমরা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।

মজার বিষয় হলো, নাস্তা খাবার যেটাই টুকটাক বানাই, আশেপাশে পাড়া-প্রতিবেশীকে দেয়ার চেষ্টা করি। তবে সব সময় তো পরিমাণে অনেক কিছু বানানো সম্ভব হয় না চারপাশে দেয়ার মতো। বাচ্চারা এত কিছু বোঝো না। কোন কিছু বানাতে দেখলে তারা বলে কোন বাসায় দিয়ে আসব, মা? 😊

আলসেমি দিয়ে শুরু হওয়া দিনটা, কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর হয়ে শেষ হয়। আলহামদুলিল্লাহ।

Categories
যাপিত জীবন

//সন্তানদের বিয়ে ভাবনা//



ছেলে মেয়েরা যখন আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, তখন বন্ধুবান্ধব, টিভি, নাটক, সিনেমা এবং চারপাশ দেখে আস্তে আস্তে তাদের বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতে থাকে। একসাথে পড়াশোনা করার সুবাদে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি তাদের ক্রাশ, ভাললাগা এগুলো তৈরি হয়। যেহেতু তাদের বিয়ে (সামাজিক সম্পর্ক) হতে অনেক সময় লেগে যায়, প্রায় পঁচিশ ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, সেক্ষেত্রে তাদের যে স্বাভাবিক চাহিদা সেটা মেটাতে তারা প্রেম-ভালোবাসা সহ আরো যা যা করা দরকার সব করতে থাকে। বড়লোক, মধ্যবিত্ত, গরিব সব শ্রেণীতে এই চাহিদাটা একই রকম।

আজ সকালে বুয়ার সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে জানতে পারলাম , খুব কম বয়সে (১৩/১৪) তার সম্পর্ক করে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে দুই/তিন বছরের সম্পর্ক। শ্বশুরবাড়িতে বিষয়টা মেনে নেয়নি। ছেলে এত কম বয়সে কেন বিয়ে করবে (১৮/১৯)?? বোনদেরকে বিয়ে দিবে, ঘরবাড়ি করবে, ৩৫-৪০ বছর হলে না হয় বিয়ে করবে!!। তাই ছেলেটি যখন বউকে নিয়ে তার বাড়িতে গেল, নববধূকে চুলের মুঠি ধরে ঘর থেকে টেনে বের করে দিয়েছিল ছেলের বড় বোন।😓
বিয়ের মত একটা সম্পর্ককে মেনে নিতে আমাদের কত কষ্ট। কিন্তু বিয়ের আগে দুই, চার, দশ বছর প্রেম পিরিতি, ভালোবাসা করতে থাকো। এটা নিয়ে কারো কোন সমস্যা নাই।

আবার ভাব ভালোবাসা করে বিয়ে করেছে, এমন মেয়েকে সম্মান করার, আদর করার কোন মানেই হয়না। মেয়ে যতই তার নিজের শ্রমের টাকা দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে খরচ করুক, পরিবারে সব সময় দিক, তারপরও কখনই তারা সন্তুষ্ট হয় না। বরং যদিও অর্থ সামর্থ্য দিক থেকে, সৌন্দর্যের দিক থেকে মেয়েটি কোন অংশে ছেলের চাইতে কম না। তবুও সম্পর্কের বিয়ে হলে শ্বশুরবাড়িতে কোনরকম মূল্যায়ন করা যাবে না। বরং মারাত্মক রকমের নির্যাতন সইতে হচ্ছে এবং হয়েছে।।

জিজ্ঞাসা করলাম এত অল্প বয়সে সম্পর্ক করার কারণ কি ছিল? খামাখা শ্বশুরবাড়ি তো সম্মান পাচ্ছেন না, শ্বশুরবাড়ির কারণে জামাই ও নির্যাতন করতো!!! জামাইয়ের আয় অপর্যাপ্ত হওয়ায়, তাকে আবার মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করতে হয়। এরকম সম্পর্ক করে ফায়দাটা কি হইলো?

বলল, টিভি- সিনেমাতে প্রেম- পিরিতি, ভাব- ভালোবাসা দেখেছি, আশেপাশের বন্ধু-বান্ধবীরা ও করেছে। তাই সেও করেছে। এখন যত অত্যাচার-নির্যাতনই হোক না কেন, এখানেই ঘর সংসার করতে হবে। নিজে মানুষের বাসায় কাজ করছে, প্রয়োজন পড়লে বাপের বাড়ি থেকে টাকা পয়সায় এনে সংসার চালাচ্ছে। তবু ও এভাবেই টিকে থাকতে হবে।
এই চিত্রটি অনেকের কাছে পরিচিত বলে মনে হচ্ছে না??

এইসব কারণে দেখা যায়, সম্পর্কে থাকার পরেও অনেকেই পরিবারের কাছে তথ্য গোপন করে, অনেকেই বলে এরেঞ্জ মেরেজ, অনেকেই বিষয়টা লুকাতে চায়। কেননা বিবাহ বহির্ভূত ভালবাসার মধ্যে একটা হারাম বিষয় জড়িত আছে এবং কোন দায়বদ্ধতা নেই। তাই এসব সম্পর্ক কারোটা টিকে, কারোটা টিকেনা। কারো সম্পর্ক সময়ে-অসময়ে পরিবর্তিত হতে থাকে।

যদিও এখনকার সামাজিক প্রেক্ষাপটে পরিবার থেকেই হয়তো বলে দেওয়া হয়, বুঝে শুনে সম্পর্ক করলে সেখানে বিয়ে-শাদী দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তবুও বিয়েকে সহজ করা হয় না।

মেয়েদের ১৪-১৮ বছর , ছেলেদের ১৮-২২ বছর বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। এই সময়ে নানান রকমের ভুল পথে পা দেয়, আবেগে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় এবং অনেকে আজীবনের জন্য ভুল সম্পর্কে জড়িয়ে যায়।
আজই একজনের কথা শুনলাম ১৬ বছর বয়সী, যে তার ( বিবাহিত এবং দুই বাচ্চার জন্ক) গৃহ শিক্ষকের সাথে পালিয়ে গিয়ে হোটেলে দুই রাত থেকে আবার বাপ মায়ের কাছে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

অবস্থাদৃষ্টে যেটা মনে হল, ছেলেমেয়েদেরকে ভালো করে বোঝা উচিত। যদি মনে হয় তারা বিয়ে করতে চাইছে তবে তাদেরকে মা-বাবার সাহায্য করা উচিত। কোনরকম অঘটন ঘটার আগে মা-বাবার উচিত তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া।

মেয়েদের ক্ষেত্রে সম্পর্ক করে বিয়ে শাদী করলে শ্বশুরবাড়িতে খুব একটা সম্মান পাওয়া যায় না। জান দিয়ে ফেললেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাজে কথা, বাজে ব্যবহার করতে ছাড়ে না। যতই সুন্দর, জ্ঞানীগুণী, শিক্ষা-দীক্ষায়, বংশ মর্যাদায় অতুলনীয় হোক না কেন।
(অনেক ভাগ্যবান, ভাগ্যবতী আছে যারা নিজের পছন্দের বিয়েতেও অনেক ভালো আছে শ্বশুরবাড়ির সম্মান নিয়ে। আবার অনেক পারিবারিক বিয়ের মধ্যেও অনেক অশান্তি আছে। এগুলো ব্যতিক্রম)

দেখা যাবে আজ থেকে দশ পনের বছর পর ছেলে মেয়েরা নিজেদের জন্য জীবন সাথী হিসেবে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে বেছে নিলেই বরং আমরা নিশ্চিন্তে থাকবো। যে হারে মেন্টাল এবং সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডার ভুগছে এখনকার জেনারেশন!! সেটা বিবেচনা করলে ভালোয় ভালোয় ১৮-২০ বছরের মধ্যে ছেলে মেয়েদেরকে বিয়ে শাদী দিতে পারলে নিশ্চিন্ত বোধ করব বলে মনে হচ্ছে।

প্রেম- ভালোবাসা সহজ না করে, বিয়েকে সহজ করা উচিত।

Categories
যাপিত জীবন

ভাই বোন: আলাপন

আমি আর ভাইয়া সব সময় এক টেবিলে পড়তে বসতাম। নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি, মারামারি, কাটাকাটি যাই থাকুক না কেন দিন শেষে একসাথে পড়তে বসলে আবার গুটুর গুটুর করে গল্প-স্বল্প করতাম। সারাদিন কি করেছি, কি খেয়েছি, বন্ধুদের সাথে কি কি ক্রাইম করা হয়েছে ইত্যাদি (ক্রাইম মানে গল্পের বই পড়া, আদান প্রদান করা, যেটা আপাত দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ ছিল বাসায়)। যদিও পড়াশোনার সময় আলাপচারিতায় আম্মু এসে ঝটিকা অভিযান চালাতো, গল্পের বই পড়লে বাজেয়াপ্ত করত। তাই বেশ রয়ে সয়ে আমাদের আলাপচারিতা চালাতে হতো। ভাই বোন নিজেদের মধ্যে গল্প-স্বল্প না করলে কি হয়!!! এটা কি আর আম্মুরা বুঝে??!!

এখন ঘটনা হইলো ছানাপোনার মা হয়ে অনেক বছর পর দেখি, আমর দুই পুত্রকন্যা পাশাপাশি টেবিলে পড়তে বসে। তারাও পড়তে বসে গুটুর গুটুর আলাপ করতে থাকে। প্রায় পাঁচ বছর বয়সী পুত্র এবং সাড়ে ছয় বছর বয়সী কন্যার নিজেদের কি এত কথা থাকে, সেটাই তো বুঝি না। তারপরও এসে এসে বাগড়া দেই। তাদের ছোট ভাই ও বেশ ঝামেলা করে এই সময়।

তাদের গল্প-স্বল্প এর যন্ত্রনায় তারা দিনে একটা ঘন্টাও বসে পড়াশোনা করতে পারেনা। আমিও বেশি একটা চাপা চাপি করতে পারিনা। নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। আমার মনে হয় এই গুটুর গুটুর আলাপ ও তাদের সুন্দর সম্পর্ক ও বেড়ে ওঠার একটা অংশ।

মাঝে মাঝে তাই ওদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। কে আগে লেখা শেষ করতে পারবে বা পড়া শেষ করতে পারবে, এই টাইপের। অবশ্যই সব সময় নায়রাহ আগে শেষ করে। কিন্তু পাশাপাশি নাওঈদেরও লিখাটা বা পড়া একটুখানি হয়ে যায়। আর দুধভাত নুবাঈদ আশেপাশেই থাকে, বই ছিঁড়তে, পেন্সিল, রাবার হারাতে ইত্যাদি ইত্যাদি।

#happyparenting

Categories
যাপিত জীবন

School

Whether it’s a sunny day
Or a rainy day….
I missed my school
In the morning ray.
I love to play,
With the muddy clay.
I love to sing,
Hearing the bell ring.
I missed my teachers and friends
I have waited to see them,
That has no end.
Now offline class has started
5 star rated.
My joys have no bound
Hope to enjoy it, safe and sound.

Naairah(my 6.5 years old) is very much happy to be at school again. She wants to come every single day.
So I just tried to describe her feelings….

Written by
Inu kobi 😊

Categories
যাপিত জীবন

মহামারী এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রা

করোনা মহামারী আমাদের চলমান জীবনে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। কম বেশি সবার জীবনে প্রভাব পড়েছে। মানুষজন আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে তার পরিবারের আপনজনকে হারিয়েছে, কেউ তার চাকুরী হারিয়েছে, কারো ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। বেশিরভাগ বাচ্চাদের পড়াশোনা অনিয়মিত হয়ে গেছে- স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি বন্ধ থাকার কারণে। বাচ্চাদের ডিভাইসের প্রতি আসক্তি বেড়েছে। এভাবে একেকজনের জীবনে একেক রকম করে করোনা তার ছাপ রেখে যাচ্ছে।

এই মহামারী আমার জীবনযাত্রাতেও বেশ প্রভাব ফেলেছে এবং তা ইতিবাচকভাবে। করোনা আক্রান্ত হয়ে শারীরিক সক্ষমতা বেশ নড়বড়ে হয়ে গেছে। এটা ছাড়া করোনা কেমন প্রভাব ফেলেছে আমার জীবনে??
সেটাই ভাবছিলাম গত ক’দিন ধরে।

একটা সময় প্রায় প্রতি দু এক মাস পর পর বোরকা, আবায়া, কুর্তি এসব কিনতে খুব ভালো লাগতো। শখ বলতে এই একটা জিনিসই ছিল। অন্য তেমন কিছু কেনাকাটা করতে কখনো খুব বেশি আগ্রহ ছিল না। ছাত্রজীবনে নিজে নিজেই বোরকা ডিজাইন করে বানাতাম। সময়ের সাথে সাথে ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে, আবার অনলাইনেও পছন্দমত বোরকা গুলো সহজলভ্য হয়েছে। তাই অনলাইনে মোটামুটি পছন্দ হওয়া মাত্রই অর্ডার করে ফেলতাম। এই শখ পুরনে কখনোই আবার কারো উপর নির্ভরশীল হইনি। একান্তই নিজের শখ, তাই নিজেই সেটা পূরণ করার চেষ্টা করেছি। একটা সময় দেখা গেল পুরনো বোরকা গুলো পরা হচ্ছে না, ছানাপোনার মা হওয়াতে অনেক শখের বোরকা গুলো কোনটা আবার গায়ে লাগছে না, কোনোটা হয়ত খুব বেশি পছন্দ, তাই অকেশনালি দু এক বার পরে যত্ন করে তুলে রেখে দিয়েছি। এভাবে দেখা গেল আমার আলমারির ভর্তি বোরকা। অনেকগুলো দিয়ে দিয়েছি এদিকে সেদিকে, তবুও আলমারিতে প্রচুর রয়ে গেছে। ইউনিভার্সিটিতে পরা আবায়াগুলো পরে এখোনো অফিসে যাই। একটাও নষ্ট হয়ে যায় নাই, ছিড়ে ও যায় নাই। তাই নতুন কিনলে পুরনোগুলোর সাথে আরো বোরকা যোগ হতেই থাকে।

করোনা যখন শুরু হয়েছে তখন বাসা থেকে মোটামুটি প্রায় একবছর বের হওয়া বন্ধ ছিল। রেস্ট্রিকটেড এরিয়াতে থাকার কারণে খুব প্রয়োজনীয় কারণে ও মাঝেমাঝে বের হতে পারিনি। তখন উপলব্ধি হলো আমার আসলে এত বেশি বাহিরে যাবার পোশাকের প্রয়োজন নাই। এরপর থেকে আত্মসংযমী চেষ্টায় আছি। এখোনো অনেক অনেক আবায়া, বোরকা দেখি আর পছন্দ করি। অপচয় হবে ভেবে এখন আর কোন কিছুই কেনা হয় না খুব একটা, আলহামদুলিল্লাহ। মনের কেনাকাটাই আসল কেনাকাটা 😑। করোনা আমাকে কিছুটা মিতব্যয়ী হতে সাহায্য করেছে।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে দু একবার কোথাও না কোথাও বেড়াতে বের হোতাম। হোক সেটা কোন পার্ক, বেড়ানোর জায়গা, আত্মীয়স্বজনের বাসায় যাওয়া ইত্যাদি। করোনাকালীন সময়ে পুরো এক বছর কোথাও যাওয়া হয়নি। এই সময় চারটি ঈদ ঢাকার বাসায় একা করেছি। সৌভাগ্যক্রমে শেষ কুরবানী ঈদ আব্বু আম্মু ভাই বোনের সাথে একত্রে পালন করেছি ।

যখন একা একা মানুষ জন ছাড়া ঈদগুলো করেছিলাম, তখন মনে হত যেন প্রবাসে আছি। কেউ আসছে না আমাদের বাসায়, আমরা কারো বাসায় যাচ্ছি না। কোন আপন জনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ নাই। ঠিক যেন সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে পরিবার পরিজন ছেড়ে বসবাস করছি রাজধানীতে। করোনাকালীন সময়ে প্রবাস জীবনে একাকী থাকার যে অনুভূতি সেটা বেশ ভালোই অনুভব করেছি।।

লকডাউনের সময়ে পিলখানার ভিতরে বুয়া আসা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। আর সাহায্যকারী মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দিবে তাই সেও চলে গিয়েছিল। পিঠাপিঠি তিন বাচ্চা, পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস এবং সংসারের কাজ করতে করতে পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। বাচ্চাদের বাবা অনেক সাহায্য করেছে। কিন্তু তবুও মায়ের কাজ তো অন্য কেউ করা সম্ভব না।

সারাদিন কাজ করতে করতে নিজেকে রোবট মনে হতো। কিছুক্ষণ পর পর শুয়ে থাকতে হতো হাত,পা, কোমর ব্যথার জন্য। একটু পর পর বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজ শুরু করতাম শর্টকাটে যতখানি পারা যায়। কাজ সহজ করার জন্য যতরকম গেজেট ব্যবহার করা যায় চেষ্টা করেছি তা ব্যবহার করতে। তবু ঘরের সব কাজ করতে করতে নিজেকে মানুষ মনে হতো না, মনে হতো ‘আই এম গ্রুট’ ওই কথা বলতে পারা গাছের মত হয়ে গেছি।

প্রবাসে আমাদের আত্মীয় স্বজন,বোন , ভাবি যারা আছে তারা কিন্তু ঠিকই বাচ্চাকাচ্চা লালন-পালন একা হাতেই করছে কোন সাহায্যকারী ছাড়া। যদিও তাদের জীবনযাত্রা হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের চাইতে বেশ সহজ। তবু তারাও একা হাতে সংসার করছে।

আমাদের দেশে কোন সাহায্যকারী ছাড়া কাজ করাটা বেশ কষ্টকর এবং অনেক ক্ষেত্রে যেন অসম্ভব মনে হয়। আমার কাছে এখন আর কোন কিছুই অসম্ভব না, আলহামদুলিল্লাহ। সারাদিন সংসারের সব কাজ করে, সারারাত আবার অফিসের কাজ করতে হোত। সবকিছু সামলে নিয়েছি, এখনো সামলাচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ। গত দু’মাস আগে ছুটা কাজের জন্য একজন সাহায্যকারী রাখতে পেরেছি বাসা পাল্টানোর সুবাদে, তাই কাজ এখন কিছুটা সহজ হয়েছে আগের চাইতে।
উপলব্ধি হলো সাহায্যকারী বুয়া ছাড়া কাজ করা কষ্টকর, তবে অসম্ভব না।

আগে বিউটি পার্লারে যাওয়া হতো, শখের বশে। বছরে হয়তো এক দুবার। গত প্রায় দুই বছরে একবারও যাওয়া হয়নি। তার মানে এটা কোন মৌলিক কাজের মধ্যে পড়ে না। পার্লারে না যাওয়াতে জীবন-যাত্রার কোন ধরনের পরিবর্তন হয় নাই। ঘরের রাজার কাছে ঘরের রানি হয়েই আছি। পার্লার বিউটিফিকেশন এ ঘরের রাজার তেমন কিছু যায় আসে না। তথৈবচ।

নুবাঈদের তখন আটাশ দিন বয়স যখন আমি অফিসে জয়েন করেছিলাম ২৮ জানুয়ারি, ২০২০। আগের দুবার মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে ফেলার কারণে নুবাঈদের সময় আর কোনো ছুটি পাইনি। কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কারণে এবং কলেজ প্রাঙ্গণে বাসা হওয়ার কারণে অফিস কনটিনিউ করতে পেরেছিলাম। এরপর মার্চ ১৭ থেকে অফিস বন্ধ। অনলাইনে ক্লাস করেছি, তবু এতো ছোট পুত্রকে রেখে অল্প সময়ের জন্য ও অফিস করা লাগেনি। বরং সে তার মাকে সবচেয়ে বেশি পেয়েছে। এখন সুপার গ্লুর মতো আটকে থাকে মায়ের সাথে সারাদিন। দেখতে দেখতে প্রায় দু বছর বয়স হয়ে যাচ্ছে তার। ( মোবাইলে ব্যস্ত মম্মা, এই সুযোগে একটা গ্লাস ভেঙ্গে ফেলেছে 🥴)

হোম অফিসের কাজে আমরা বাবা-মা দুজনই বাসায় থাকাতে, বাচ্চাদের দেখাশোনা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়নি।

এই সময়ে পৃথিবীতে অনেক কিছু ঘটে গেছে ইতিবাচক ও নেতিবাচক। সামনে তাই ঘটুক তা যেন উম্মাহর জন্য কল্যাণকর হয়। সবার জীবনে যেন ইতিবাচক পরিবর্তন হয়।

মহামারী, লকডাউন, করোনা আক্রান্ত, বন্দী জীবন….. আলহামদুলিল্লাহ বেঁচে আছি, ভালো আছি। আবার কলেজ শুরু হতে যাচ্ছে। দৈনন্দিন কাজকর্মে আবার পরিবর্তন আসবে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে, আশায় দিন গুনছি।

(আমার অতি পছন্দের মালাই চা। দিনে দুইবার খাওয়ার অভ্যাসটা এখনো ছাড়তে পারছিনা😑 লকডাউন ইফেক্ট)

Categories
যাপিত জীবন

নুবাঈদের আলু

নুবাঈদ সারাদিন সুপার গ্লুর মতো লেগে থাকে। তাই অফিসিয়াল কাজ গুলো রাতে সে ঘুমানোর পর করা লাগে। তাদের বাবাকেও প্রায় রাত জেগে কাজ করা লাগে।

এদিকে নুবাঈদ একা বিছানায় এই মাথা ঐ মাথা ঘুরতে থাকে। আমরা একটু পর পর গিয়ে দেখে আসি। তার পজিশন ঠিক করে দেই। যেহেতু তার মম্মাকে খুঁজে পাচ্ছেনা, সে ঘুমের মধ্যেই নড়ে, উঠে বসে থাকে, কাঁদে…. এভাবে বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আলু ফোলায়।
দুইদিন আগে পড়ে গিয়ে কপাল ফুলিয়েছে। আজো একই জায়গায় বাড়ি খেয়ে ডাবল আলু বানিয়ে রেখেছে।
ভাবছি এই বয়সে সারাক্ষণ মায়ের গায়ের সাথে লেগে থাকার কী আপ্রাণ চেষ্টা টাই না করে বাচ্চারা। বড় হতে হতে ততটাই আবার দূরে সরে যাবে। তখন মায়ের গায়ের সাথে লেগে থাকতে লজ্জা পাবে। ভাবতেই মনটা কেমন যেন করে ওঠে। বড় পুত্র নাওঈদকে জোর করে ধরে আদর করতে হয়। ওর নাকি লজ্জা লাগে!!!

ছোট পুত্র ও হয়ত কদিন পর ভাইয়ের মতো লজ্জা পেতে থাকবে…….

Categories
যাপিত জীবন

ঘোরাঘুরি

ভালো লাগে উড়তে
ঘোরাঘুরি করতে
ক্লান্ত এ প্রান ও মন
করে উঠে চনমন।
মাঠে, ঘাটে প্রান্তর
দিল খুশ অন্তর।
ছানাপোনা , হাক ডাক
উড়ে যায় পাখির ঝাঁক।
❤️❤️❤️

লিখেছেন- ইনু কবি

Categories
যাপিত জীবন

উপলব্ধি

ছোটবেলায় বেস্ট ফ্রেন্ড যখন অন্য কারো বেস্ট ফ্রেন্ড এ পরিণত হতো তখন খুব মন খারাপ হোত। প্রতি ক্লাসে বেস্ট ফ্রেন্ড নতুন করে বানাতে হত। যদিও এখন এই স্কুলের বন্ধুই বেস্ট ফ্রেন্ড। স্কুলে কিন্তু সে এমন ছিল না। তখন শুধু সহপাঠী ছিল। আস্তে আস্তে বন্ধু থেকে বোনের মতো আপন হয়েছে❤️❤️❤️❤️

এভাবে অনেককেই অনেক ভালো লাগে, ভালোবাসি। সেখানে স্বার্থ কখনোই থাকে না। তবুও মাঝে মাঝেই মন বেশ খারাপ হয়। অমুক তমুক আমাকে ভালোবাসে না, কেয়ার করেনা আগের মতো। অমুকের জীবনে তমুক আসার পর থেকে আমার প্রতি টান কমে গেছে!!! অমুক তমুকের সাথে প্রয়োজন মিটে গেছে তাই যোগাযোগও নাই। প্রয়োজন হলেই যোগাযোগ হয়!!
অদ্ভুত আবেগ আমাদের। আমরা পাল্টাই, প্রতিনিয়ত পাল্টাই। তাই আমাদের ভালোবাসার ও রূপ পাল্টায়। শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসলে সেটা কখনো পরিবর্তন হয় না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কখনো পরিবর্তন হন না। তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি সবসময় একইরকম।
কি দারুন উপলব্ধি…❤️❤️❤️

Categories
যাপিত জীবন

মাওলানা নাওঈদ

দুপুরে আজান দিলেই মসজিদে যাবার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বড় পুত্রের। নিজে নিজেই গোসল করে রেডি হয়ে মসজিদে চলে যায়। তার বাবা এখনো প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে যাচ্ছে না। তাই সে কারো জন্য অপেক্ষা না করে , কারো সাথে কোনো কথাবার্তা না বলে নিজে নিজেই প্রস্তুত হয়ে চলে যায়। টের ও পাই না কখন বাসা থেকে বের হয়!!! কি কাজে যেন বারান্দায় গিয়ে দেখলাম , তাকে মসজিদে দেখা যাচ্ছে। তাকে দেখে আমি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে খেতে ডাকলাম চিৎকার করে, এক্ষুনি বাসায় আসো।

তার মাস্কের ফিতা আবার ছিড়ে গেছে ওই সময়। তাই সে মাস্ক নিতে দৌড়ে আবার বাসায় আসলো। আমার ডাকে মসজিদ থেকে নামাজ শেষ না করে তো সে আসতোই না। বাসায় আসার পর হাসিতে গড়াগড়ি খেতে খেতে ছবি তুললাম। যদিও সে কোনভাবেই বুঝতে পারছিল না কেন এতো হাসাহাসি কেন হচ্ছে!!

মাস্ক নিয়ে আবার দৌড় দিতে লাগল। চিপে ধরে প্যান্ট পাল্টাতে পাল্টাতে বেচারার জোহরের জামাত শেষ হয়ে গেল। পরের জামাতে আর এই ভুল আর হয়নি।

আমাদের মাওলানা নাওঈদ আব্দুল্লাহ।

Categories
যাপিত জীবন

পিতা-কন্যা

আম্মু প্রায় একটা শ্লোক বলতো,
চোখ ব্যাটা হারামজাদা/
মার দিকে চায়।
বলতো, মেয়েদের সব সময় নিজেদেরকে প্রপার পর্দার সাথে থাকতে হবে। আরও বলতো, নিজের বাবা ভাইয়ের সামনে সব সময় ভালো করে কাপড় গায়ে রাখতে হয়। ছোটবেলায় যখন সিনেমাতে দেখতাম, বাবাকে মেয়েরা ভালোবেসে জড়িয়ে ধরে, নিজে নিজেই ভাবতাম আমি কি বাবাকে কম ভালোবাসি, নাকি আব্বু কম ভালোবাসে?? আমরা জড়াজড়ি করি না কেন? নাটক সিনেমায় সব জায়গায় মেয়েরা তাদের ভাইকে, বাবাকে অবলীলায় শুধু জড়িয়ে ধরে। আমার কেন জড়িয়ে ধরতে এত বাধো বাধো লাগে অথবা আমরা কেন এই জড়িয়ে ধরা কালচার পরিবারের মধ্যে দেখি নাই?? বড় হতে হতে আস্তে আস্তে এসব প্রশ্নের জবাব খুজে পেয়েছি।

আমার বাচ্চাদেরকে মোটামুটি একা হাতেই লালন-পালন করতে হয়েছে। মেয়ে হওয়ার পর যখন মাঝে মাঝে তার বাবা তার ডায়াপার পরিয়ে দিতো, আম্মু দেখলে বেশ বিরক্ত হতো। বলতো তোর আব্বুকে দিয়ে জীবনে কোনদিন তোদের প্যান্ট ও পরাতে দেইনি। তোরা কেন বাচ্চাদের বাবাকে দিয়ে পটি পরিষ্কার করাস?? অবাক হয়ে চিন্তা করতাম, মেয়ের নিজের বাবা, অসুবিধা কি??

সময়ে সময়ে পেপার পত্রিকায় অনেক খবর পড়েছি। ভাই বোন সম্পর্ক, মামা ভাগ্নি, চাচা ভাতিজি, নানা /দাদা -নাতনি, এখন বাবা- মেয়ে। এই ধরনের ধর্ষণের, নির্যাতনের ঘটনা গুলো এখনকার সময়ে নতুন হচ্ছে , বিষয়টা এমন না । সবসময় হয়ে আসছে। আগে হয়তো আমরা এত খবর পেতাম না । এখন খবরগুলো প্রকাশিত হয়।

এত ভীতিকর খবর গুলো যখন দেখি তখন আমি নিয়মিত দোয়া করি, পৃথিবীর সমস্ত মেয়েরা যাতে নিরাপদে থাকে। এই বিষয়ের জন্য আলাদা করে বিশেষ ভাবে দোয়া করি। মেয়ে বাচ্চা ছেলে বাচ্চা কারো কাছেই নিরাপদ না।

আপুরা, আপনারা বাচ্চাদের ব্যাপারে প্রচুর সর্তকতা অবলম্বন করার চেষ্টা করবেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরটি তে দেখা গিয়েছে মেয়ে দুটির মা যখন বাসার বাইরে কাজে যেত, তখনই তাদের বাবা মেয়েদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতে। আমরা যারা কর্মজীবী মা, প্লিজ প্লিজ বাচ্চাদের ব্যাপারে অনেক অনেক বেশি সর্তকতা অবলম্বন করার চেষ্টা করবেন। বাচ্চা যেখানে থাকবে সেখানে সিসি ক্যামেরা সহ যত ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির সবকিছু লাগানোর ব্যবস্থা করা, বাচ্চার দেখাশোনার জন্য অবশ্যই দাদি ,নানি ,খালা, বোন এ ধরনের মানুষের ব্যবস্থা করা। আমাদের একটুখানি অসতর্কতার জন্য আমাদের ছেলেমেয়েদের যদি কোন কিছু হয়ে যায় তাহলে নিজেদেরকে সারা জীবনের জন্য ক্ষমা করাটাই কষ্ট হয়ে যাবে। তাই কোন কিছু হবার আগেই সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করা জরুরী।
এছাড়া আরো একটা বিষয় আমার খুব মনে হয় সেটা হল বাচ্চা যখন খুব ছোট থাকে তখন হয় বাচ্চাকে ডায়াপার পরিয়ে রাখা উচিত অথবা ন্যাপি বা প্যান্ট পরিয়ে রাখা উচিত। বাচ্চা ঘন ঘন প্রস্রাব করে, এই জন্য অনেকে বাচ্চাকে নিয়মিত ন্যাংটু রেখে দেয়। এটা বাচ্চার কাছে থাকা তার আপন জন দের মধ্যে অনেক বিকৃত কামনার উদ্রেক ঘটায়। তাই বাচ্চাদেরকে কখনোই খালি রাখবেন না। প্যারেন্টিং গ্রুপ গুলোতে অনেক ঘটনা শোনা যায় যে, বাচ্চার লজ্জাস্থান ধরে মুরুব্বি মানুষ জন খেলা করে। মা দেখেও কিছু বলতে পারেনা।

তখন এই বিষয়টাই মনে হয়েছে যে বাচ্চাকে নেংটু রাখলে এই ধরনের বাজে ঘটনা যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে।

বোনেরা আমার , নিজেদের ব্যাপারে যেমন সতর্ক থাকার চেষ্টা করবেন ঠিক তেমনিভাবে নিজের ছেলে মেয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার চেষ্টা করবেন। এরপর আল্লাহ ভরসা। প্রতিনিয়ত তাদের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করে যেতে হবে।

ছোটবেলায় আম্মু সব সময় দোয়া করত বাচ্চারা যাতে মান সম্মানের সাথে বড় হতে পারে। তখন বুঝতে পারতাম না এটা কেমন দোয়া? বড় তো বাচ্চারা এমনি এমনি হয়। মান ইজ্জত এর সাথে বড় হওয়া- এটা কেন আলাদা করে দোয়া করতে হবে? এখন খুব ভাল করে বুঝি যে মা-বাবার দোয়া ছেলে-মেয়েদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ পৃথিবীর সমস্ত বাচ্চাদেরকে হিংস্র পুরুষদের হাত থেকে নিরাপদে রাখুক।

খবর লিংক কমেন্টে।

https://m.mzamin.com/article.php?mzamin=288627