Categories
যাপিত জীবন

পোস্ট করোনাকালিন চিন্তা

জগত সংসার নিয়ে আমাদের অনেক চিন্তা ভাবনা থাকে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, সংসার বাচ্চাকাচ্চা, সম্পদ, খ্যাতি – সবকিছু নিয়ে কমবেশি আমাদের চিন্তা কাজ করে। সেই অনুযায়ী ছোটবেলা থেকেই আমরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের কাজকর্ম করে থাকি। অনেক রকম ত্যাগ স্বীকার করি যাতে লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। যখন একটা করে লক্ষ্য অর্জিত হয় তখন কতইনা ভালো লাগা কাজ করে। হোক সেটা ছোট অর্জন অথবা বড় অর্জন।

রান্না করতে গিয়ে যখন নতুন একটা রেসিপি সফলভাবে বানাতে পারি তখন যেমন খুশি লাগে, তেমনি ভাবে যখন কোন একটা বিশেষ কাজে সফল হই, নিজেই যখন কোন কিছু বানিয়ে ফেলি সেটা নিজের জামা হোক, খাবার বা কোন কিছুর ডিজাইন অথবা কোন জটিল পরিকল্পনা- সফল হলে মনটা খুশিতে ভরে ওঠে।

দিন রাত ২৪ ঘন্টা মোটামুটি আমরা এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য নানা রকম কাজ করতে থাকি। এসব যাই কিছু করি না কেন তার জন্য একটি সুস্থ শরীর এবং সুস্থ মন দরকার হয়। শরীর যখন অসুস্থ হয় তখন এই পরিকল্পনা, কাজকর্ম, সফলতা, সংসার সন্তান কোন কিছুই আর ভালো লাগেনা। জগত সংসারের কোনো কিছুই তখন আর মাথায় কাজ করে না। মাথায় শুধু একটা বিষয় ঘোরে, কখন সুস্থ হব? আল্লাহ আমাকে সুস্থ করে দেন।

অসুস্থ অবস্থায় দুনিয়াবী চিন্তা মাথায় তেমন একটা আসেনা। তখন দু একটা বিষয় শুধু মাথায় কাজ করে। আমি মরে গেলে অমুক-তমুক এর কি হবে অথবা আমার অসুস্থতার জন্য আমার পুরো পরিবারের অনেক পেরেশানি যাচ্ছে। এই দুটো বিষয় খুব কষ্টদায়ক। বিশেষ করে মরে গেলে সন্তানদের কি হবে, এই চিন্তা করলে দুনিয়াদারি সব খন্ড বিখন্ড হয়ে যায়।

মা-বাবার অল্টারনেটিভ পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারে না। এটা চিন্তা করলেই দুনিয়াটা কেঁপে উঠে। এসব কথা যখন আমার তাহাদের বাবার সাথে শেয়ার করি, সে তখন বলে, মরে গেলে তো দুনিয়ার সাথে তোমার সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। কে কেমন থাকবে এই চিন্তা কবরে তোমার কোন কাজে আসবে না। বরং তুমি পৃথিবীতে কি এমন করে যাচ্ছ যাতে পরকালে ভালো থাকতে পারবে, সেটা নিয়ে চিন্তা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এভাবে আসলে ভাবি না। এভাবে ভাবতে ভয় লাগে। অন্ধকার একটা রুমে থাকতে পারি না একা একা। সেখানে অন্ধকার কবরে একা একা থাকবো শতশত পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে। কি হবে তখন? ওই পর্যন্ত আর ভাবতে পারিনা।

আসলে সুস্থতা আল্লাহ তা’আলা অশেষ বড় একটা নেয়ামত, যার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে শেষ করা যাবেনা। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকলে সুস্থ শরীরের গুরুত্ব ও মর্যাদা বোঝা যায়। আমাদের করোণা আক্রান্ত বন্দী জীবনে যেটা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গিয়েছে।

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হে আমার উম্মত! পাঁচটি সম্পদ হারানোর আগে তার মর্যাদা দাও। আর তা হলো-

(১) মারা যাওয়ার আগেই তোমার জীবনের প্রতি মুহূর্তকে কাজে লাগাও।
(২) বৃদ্ধ হওয়ার আগে যৌবনকে কাজে লাগাও।
(৩) দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতার মূল্য দাও।
(৪) অসুস্থতা আসার আগে সুস্থতাকে মর্যাদা দাও।
(৫) ব্যস্ততার আগে অবসরকে মর্যাদা দাও।’
(মুসতাদরেকে হাকেম)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ পাকের দু’টি বিশেষ নেয়ামত সম্পর্কে খুবই অমনোযোগী। একটি হলো স্বাস্থ্য আর অপরটি হলো অবসর।’ (বুখারি ও তিরমিজি)।