Categories
অভিজ্ঞতা যাপিত জীবন

পরকালীন যাত্রা ও কিছু উপলব্ধি



কিছুদিন আগে আমার ছোট জ্যাঠামিয়া পরকালের পথে যাত্রা করেছেন। সন্ধ্যায় জেঠিআম্মার সাথে যখন ফোনে কথা হচ্ছিল তিনি স্মৃতিচারণ করে কাঁদছিলেন। বেশ মন খারাপ করছিল। আমরা সবাই একদিন এভাবে পরপারের দিকে যাত্রা করবো। চিরন্তন, কিন্তু সহজ একটি সত্য। যারা চলে গেছে, কেমন আছে তারা? তাদের নিজস্ব আমল তো বন্ধ। বংশধারার দোয়ার মাধ্যমে তাদের কবর কি আলোকিত হচ্ছে??

আমার ছোট জ্যাঠামিয়া বেশ সুদর্শন একজন মানুষ ছিলেন। মুরুব্বি মানুষ হিসেবে হয়তো খুব কাছাকাছি কখনো যাইনি, কিন্তু শ্রদ্ধা ও সম্মানের সম্পর্ক বেশ ছিল।
গত বছর অক্টোবর মাসে আমার মেজো ফুপু মারা গিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম শহরে রক্ত সম্পর্কের এই একজন ফুপুই ছিলেন। সেই হিসেবে মেজো ফুপুর সাথে ও আমার বেশ আন্তরিক ভালোবাসার একটা সম্পর্ক ছিল।

তিন বছর আগে আমার নানা ভাইয়া মারা গেছেন। খুব সহজ-সরল ভালো মানুষ ছিলেন। বংশের বড় নাতনি হিসেবে যত ধরনের আদর, ভালবাসা পাওয়া সম্ভব সবকিছু তার কাছ থেকে পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

এর আগে মারা গেলেন আমার বড় জ্যাঠামিয়া, তার ও আগে জেঠিআম্মা। অনেকদিন পর পর দেখা হতো। সম্মান করতাম বেশ, আব্বু দের সবাআআর বড় ভাই-ভাবী।

তার আগে মারা গেল আমার বড় ফুপা এবং ফুপু। বড় ফুপু আমাকে অসম্ভব আদর করতেন, ভালোবাসতেন। গ্রাম থেকে আসলে তিনি বরই এবং টমেটোর আমসত্ত্ব নিয়ে আসতে কখনোই ভুলতেন না। তার কাছে থেকে কত যে পান খেয়েছি, ঠোঁট লাল করেছি।

মেজ খালু মারা গেছেন খালাতো ভাইকে অনেক ছোট রেখে। চট্টগ্রামের চাকরির সুবাদে দু’এক শুক্রবার পরপরই তিনি বাসায় আসতেন। আদর করতে বেশ।

আমার তিতু কাকা মারা গেছে অনেক আগে, তখন আমি নাইনে পড়ি। এত কষ্ট পেয়ে মারা গেছেন, মনে পড়লে আজও খারাপ লাগে। আমাদের শৈশব জুড়ে কাকা অনেক দিন কাছে ছিলেন।

আপনজনদের মধ্যে একদম প্রথম মৃত্যু ছিল মেজ জ্যাঠামিয়ার।সবাই মালানা সাব বলতো (মাওলানা সাহেব)। তখন আমি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। মনে পড়ে গ্রাম থেকে আসার সময় তিনি সব সময় অনেক কিছু আনতেন, পাশাপাশি চিপস নিয়ে আসতেন আমার আর ভাইয়ার জন্য। মনে হতো বস্তা ভরা ভালোবাসা আসতো গ্রাম থেকে।

দাদা ভাই মারা গেছে আমার জন্মের আগে। আমি হওয়ার পাঁচ দিন পরে দাদু মারা গেছেন। তাদের সম্পর্কে শুধু শুনেছি , দেখিনি কখনো। তবুও রক্তের টানে তাদের অনেক অনুভব করি। এছাড়া অদেখা মামা, খালাদের ও অনেক মনে করি, যারা অনেক ছোটবেলায় মারা গিয়েছেন। আর মনে পড়ে আব্বু আম্মুর প্রথম সন্তান, আমার অদেখা বড় ভাইয়ের কথা। তাদের গল্প আম্মুর কাছে কেবল শুনতাম।

দিন শেষে এদের প্রত্যেকের জন্য মনের টান, মায়া অনুভব করি। রোজার মাসে আমার প্রত্যেক মৃত স্বজনদের জন্য প্রাণভরে দোয়া করি যাতে আল্লাহ তাদের কোন ধরনের কবরের আজাব না দেন, তাদের মাফ করেন, তাদের জান্নাত নসিব করেন, তাদের কবরকে আলোকিত করে দেন , তাদের কবর যেন প্রশস্ত করে দেন।

তারা এখন দুনিয়াতে নেই। রেখে গেছেন তাদের সন্তান সন্ততি, বংশধারা। আমাদের অগ্রজদের জন্য আমরা সবসময় দোয়া করে যাব, তাদের আমলনামা যাতে কখনো বন্ধ না হয়ে যায়। তাদের কবর যেন সবসময় আমলনামায় সচল থাকে।

অন্ধকার বড় ভয় পাই। একদিন আমাকেও এই অন্ধকার কবরে যেতে হবে, মনে হলেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। একটা তেলাপোকা দেখলেই চিৎকার করে উঠি। সেখানে কবরে নামা মাত্র পোকামাকড়ের খাদ্যে পরিণত হবো!!!!

আমার মৃত্যুর পর আমার আত্মীয়, সন্তানেরা আমার আযাব মাফের দোয়া কি করবে??জানি না সাদকায়ে জারিয়া রেখে যেতে পারবো কিনা!!! তবে প্রাণ ভরে দোয়া করলাম, আমার পূর্ববর্তী সহ সকল নেককার ঈমানদারদের জন্য। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমাদের হেদায়েত দান করুন। আমিন।