Categories
যাপিত জীবন

এলেবেলে চিন্তা

আমার একটা কেমন যেন ধরনের অভ্যাস আছে। যখন কোন কিছু খুব পছন্দ হয়, খুব ভালো লাগে তখন সেটা ব্যবহার না করে , না খেয়ে রেখে দেই।ফলাফলে দেখা যায় খাবার জিনিস হলে নষ্ট হয়ে যায়, বাচ্চাদের জামাকাপড় হলে ছোট হয়ে যায়, ব্যাগ – জুতা টাইপ জিনিস এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

২০১৩ সালের আব্বু প্রথমবার হজে গিয়ে জমজমের পানি দিয়েছিল একটা ছোট মিনি বোতলে সহ অন্য বড় বোতলে। এত সুন্দর মিনি বোতল!!! পানি সহ বোতলটা রেখে দিয়েছি এখনো। মায়া লাগে, খেলে শেষ হয়ে যাবে!!! (এর মাঝে আরো অনেক বার পানি পেয়েছি, কিন্তু ঐ বোতল ধরিনি)
একটা খুব সুন্দর আতর গিফট দিয়েছিলেন এক প্রিয় আপু, বিয়ের উপহার হিসেবে। ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যাবে তাই রেখে দিয়েছি। মাঝে মাঝে বের করে নেড়ে চেড়ে দেখি।
আমার এক প্রিয় ছাত্রী ইতালি থেকে একটা টুনা ফিসের ক্যান দিয়েছিল সাথে আরো কিছু। খেলে শেষ হয়ে যাবে( চকলেট গুলো খেয়ে ফেলেছি)। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি আর কতদিন আছে এক্সপায়ার ডেট এর। টাইম শেষ হবার আগে খেয়ে নিবো নে।

নুবাঈদ হবার আগে আমার ছাত্রীরা এক বাকেট উপহার দিয়েছিল। সেখানে একটা কিউট জার কেক ছিল। কিউটনেসের কারণে কেকটা না খেয়ে জমিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। পরে খাবো বলে। কদিন পর নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মনে হলে এখনো দুঃখ লাগে।

আচার কিছু খেয়ে বাকিটা রেখে দেই । এত মজা, থাকুক আরো কিছুদিন। পরে দেখি ছত্রাক পড়ে গেছে।

বাচ্চাদের জন্য ভাইয়া কার্টন ভরে খেলনা পাঠিয়েছে দেশের বাইরে থেকে। রয়ে সয়ে অল্প অল্প করে ওদেরকে একেকটা বক্স বের করে দেই। তিন-চারটা বক্স জমিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। সেদিন নামিয়ে দেখলাম ব্যাটারি রাখার জায়গা গুলোতে জং ধরে গেছে। তাই এখন একসাথে চারটা খেলনা দিয়ে ওরা খেলছে।

আমাদের সম্পর্ক গুলো মনে হয় যেন এমনি। কাউকে আমরা বেশ ভালোবাসি গুরুত্ব দেই ফলাফলে অন্য কিছু সম্পর্ক আবার জং ধরে যায়। দেখা যায় আমরা ছেলেকে মেয়ের চাইতে বেশি প্রায়োরিটি দেই অথবা মেয়েকে ছেলের চাইতে। পয়সাওয়ালা আত্মীয়দের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, অপেক্ষাকৃত আর্থিকভাবে দুর্বল আত্মীয়দের মূল্যায়ন করা হয় না। শিক্ষাগত যোগ্যতা যার বেশি তাকে হয়তো বেশি মান্যগণ্য করা হচ্ছে, অপরদিকে আরেকজনকে হয়তো তেমন আচরণ করা হচ্ছে না। নতুন বন্ধু পেয়ে পুরাতন বন্ধুত্ব ভুলে যাই।
কাউকে আমরা বেশি ভালোবাসি, বেশি অগ্রাধিকার দেই । এটার জন্য আমাদের অন্যান্য সম্পর্ক গুলো হয়তো আমরা গুরুত্বহীন করে ফেলি। সম্পর্কের মধ্যে একটা ব্যালেন্স আসা জরুরি। তাহলেই মনে হয় আমরা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সহ মিলে মিশে ভালোভাবে থাকতে পারবো।কোন একটা বিশেষ কারণে কাউকে বেশি ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা যাতে এই বায়াসড আচরণটা না করি।

সম্পূর্ণ উপযোগিতা পাবার জন্য জিনিস পত্র ঠিকমতো ব্যবহার জরুরী, খাবার ঠিক সময়মতো খাওয়া জরুরী। তেমনি সব ধরনের সম্পর্কে পক্ষপাতী আচরণ এড়িয়ে যেতে পারলে সেই বন্ধনগুলো আরো মজবুত হবে। তাহলে আর সম্পর্ক গুলো ফেটে যাবে না, জং ধরবে না, নষ্ট হবে না।
সবাই ভালো থাকুক।