Categories
অভিজ্ঞতা

হসপিটাল ডাইরি ৩


তৃতীয় দিন
পহেলা জানুয়ারি, ২০২০।
বেশ সকালের দিকে নার্স এসে বলল, বাবুকে শিশু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। ওর বাবা বাবুকে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে প্রথম টিকা দিল। এরপর ডিউটি ডাক্তার দেখতে আসলো আমাকে, সাথে বেশ কয়েকজন ইন্টার্ন ডাক্তার। আমার ফাইল দেখে ডাক্তারের প্রথম প্রশ্ন ছিল ৩৭ সপ্তাহে সিজার করেছে কেন? অপারেশন থিয়েটারে অন্য যে ডাক্তার ছিল সেও একই কোশ্চেন করেছিল !! তাকে বলেছিলাম যে আমার কার্ডে ডাক্তার হাসপাতাল ভর্তি র সময় উল্লেখ করে দিয়েছিল। তাই এসেছি। ডিউটি ডাক্তার অবাক হয়ে আমার ফাইল উল্টাচ্ছিল , কেননা আমার কোন জটিলতা নাই । কিন্তু ৩৭ সপ্তাহে সিজার করেছে। কারণ হিসেবে বলা হলো ৩য় সিজার। আর একটা ব্যান্ডেজ খুলে দিল। বলে গেল যাতে অবশ্যই স্থায়ী জন্মবিরতিকরন পদ্ধতি গ্রহণ করি। আর আমার ডাক্তার আমাকে বুঝিয়ে বলছিল যে এবারের কাটা আগের জায়গায় দেয়া হয়নি । আগের দুটো কাটা একই জায়গাতে ছিল। তাই তৃতীয়বার হওয়াতে এবার তার একটু উপরে পেট কেটেছে!
তারা যাবার কিছুক্ষণ পর ক্যাথেটার খুলে দিল। সেদিন দুপুরবেলা থেকে হালকা খাবার দাবার দেয়া শুরু করলো। জাউ ভাত খেলাম দুপুরে। রাতে নরমাল খাওয়া। দুই বেলা দুধ খেতে দিত । রাতের খাবার আটটায় খেতাম তাই আমার এগারোটা বারোটার দিকে আবার ক্ষুধা লাগত। তখন স্যুপ খেতাম যেটা বাইরে থেকে কিনে আনা লাগতো।
বাবুকে দেখতে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-স্বজন আসতো। ওদিকে বাসায় রেখে আসা বাচ্চাদের জন্য খারাপ লাগা শুরু হল । ওরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। তাই যাতে ২ তারিখে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয় সেজন্য চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ডাক্তাররা রাজি হয়নি।