Categories
যাপিত জীবন

তন্তান

নাওঈদ বাবা তাড়াতাড়ি ক খ সব লিখে ফেলোতো।
সে আস্তে ধীরে লিখা শুরু করল। (বাংলা লিখতে সে পছন্দ করে না। অনেক সময় নিয়ে ক খ লিখা শিখাচ্ছি।)
ক-ঙ এক সপ্তাহে লিখলে আরো দুই সপ্তাহ পর চ ছ লিখে, এমন অবস্থা। আর লিখতে গেলে ঘুম আসে, নানা রকম ঘটনা, গল্প মনে আসে। তাই দুটি বর্ণ শিখতে দুই সপ্তাহ লেগে যায়।
যাক , কি আর করা….

লিখতে বসে বর্ণের সাথে শব্দ মিলাচ্ছে।
মা…. ক তে কই। ব তে বই…..

ঠিক আছে, আগে আমরা লিখা শেষ করি। পরে শব্দ মিলাবো…..

মাম্মাম….. ত তে তন্তান…..
কী????
ত তে তন্তান….
কি দিয়ে কী??🤔🤔
সন্তান??? 😅😅😅
ওরে পাগলা, স তে সন্তান 😄😄

আমিতো তেতাই বলছি, ত তে তন্তান
😂😂🤣🤣

ত বর্গীয় তন্তান কিছু দিন হোল সাহস, পাহাড়, মহান বলতে শিখেছে।

তার ভাষা ছিল– আমার অনেক সাগস। তাই আমরা পাগাড়ে বেড়াতে যাবো।
আল্লাহ মগান, আল্লাহ মগান ইত্যাদি।

এদিকে লু আর লেলো কালার তার খুব পছন্দ।

আশা করছি সাড়ে চার বছর বয়সী পুত্রের এসব মিষ্টি মধুর বাণী খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

রমজানের শেষ দশ দিন চলে আসলো। দোয়া চাই সবার কাছে। কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে মাফ করে দিবেন। সবাই সবার জন্য দোয়া করবেন। ঈমানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য দোয়া করবেন। উম্মাহর ঐক্য এবং শান্তির জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ আমাদের সকলের গুনাহ মাফ করুক, সবার নেক দোয়া কবুল করুক।
আমিন।

Categories
যাপিত জীবন

ছানা পোনা উপদ্রবে ব্যস্ত জীবন

জুতার নীচে লেগে থাকা ময়লা খেতে কতো যে মজা, তা বাচ্চাদের না দেখলে বোঝা যায় না। সু রেক থেকে একটার পর একটা ছোট, বড়, মাঝারি সাইজের জুতা টেনে বের করা হয় এবং জিভ দিয়ে জুতা নিচের অংশ চেটে চেটে পরিস্কার করা হয়(সুযোগ পেলেই)।

বাসার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা পুঁতি, কাগজ, রং, পড়ে যাওয়া এবং পিঁপড়ে খাওয়া খাদ্যাংশ,যেকোন রকম ময়লা টুকরো দেখা মাত্র মুখে চালান করে ছোট পুত্র। ভাই বোনের রেখে দেওয়া রঙের বাক্স থেকে রং নিয়ে আনন্দ সহকারে খেতে থাকে, এক্সপ্রেশন দেখে মনে হয় যেন ললিপপ খাচ্ছে!!!😋 পোলাপান এরকম কেন???

অথচ নির্দিষ্ট তিন বেলা খাবারের পাশাপাশি অন্য কোন খাবার সে মুখেই দেয় না। খাবার ছাড়া যেকোনো জিনিস খাবার মনে করে মুখে ঢোকানোর বিষয়ে নুবাঈদ একজন বিশেষজ্ঞ।🙄

অন্যদিকে পাহাড়-পর্বত অতিক্রম করার ব্যাপারে দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা যায় তার মাঝে। খাটে, চেয়ার-টেবিলে, ওয়ারড্রব এর উপর, ডিপ ফ্রিজের উপরে যে কোন জায়গায় চোখের পলকে পারলে বেয়ে বেয়ে উঠে যায়।

তার জীবনের এই মুহূর্তে একটি অন্যতম লক্ষ্য হলো বাবার কম্পিউটার , কিবোর্ড, মাউস ইত্যাদির তার ধরে টানাটানি করা এবং মাল্টি প্লাগ যেখানে থাকে সেই জায়গায় হাত দেওয়া। ১০ সেকেন্ড ও যদি চোখের আড়াল হয়, নিমিষেই তাকে আমরা ঐ জায়গায় আবিষ্কার করি। (আল্লাহ হেফাজত করুক, এই বিষয়ে আমরা খুব ভয়ে থাকি)

পড়ে গিয়ে থুতনিতে রক্ত জমাট বেধে যায়, মুখে আচড় কেটে দাগ হয়ে যায়, আঙ্গুলে খোঁচা খেয়ে চামড়া উঠে যায় , আর মাথায় আলু ফোলা তো ডাল ভাত।🥴

দিন আর রাত এক হয়ে যায় তাকে পাহারা দিতে দিতে। দিনে পাহারা, রাতে কাজ এভাবেই চলছে।(এতো পাহারায় থেকেও স্ট্যাটাসখানা লিখার সময় টেবিলের সাথে মাথায় বাড়ি খেল 😐)

তবুও আমরা আনন্দিত সময় কাটাচ্ছি। পেটে খাবার থাকলে সবকিছুতেই আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়।

এই আনন্দের স্থায়িত্ব কতদিন থাকে সেটাই ভাবার বিষয়। এখনো খাবার-দাবার কিনে খেতে পারছি(সব কিছুর দাম আকাশছোঁয়া 😓)। সুস্থ ভাবে শ্বাস নিতে পারছি। আত্মীয় স্বজনেরা আলহামদুলিল্লাহ প্রায় সবাই ভালো আছে।
ফ্রি ফ্রি অক্সিজেন গ্রহণ করছি। এই অক্সিজেনের নেয়ামত, শুকরিয়া , কৃতজ্ঞতা আদায় করছি তো??🤔

#ছানাপোনাউপদ্রবেব্যস্তজীবন……

Categories
অভিজ্ঞতা যাপিত জীবন

পরকালীন যাত্রা ও কিছু উপলব্ধি



কিছুদিন আগে আমার ছোট জ্যাঠামিয়া পরকালের পথে যাত্রা করেছেন। সন্ধ্যায় জেঠিআম্মার সাথে যখন ফোনে কথা হচ্ছিল তিনি স্মৃতিচারণ করে কাঁদছিলেন। বেশ মন খারাপ করছিল। আমরা সবাই একদিন এভাবে পরপারের দিকে যাত্রা করবো। চিরন্তন, কিন্তু সহজ একটি সত্য। যারা চলে গেছে, কেমন আছে তারা? তাদের নিজস্ব আমল তো বন্ধ। বংশধারার দোয়ার মাধ্যমে তাদের কবর কি আলোকিত হচ্ছে??

আমার ছোট জ্যাঠামিয়া বেশ সুদর্শন একজন মানুষ ছিলেন। মুরুব্বি মানুষ হিসেবে হয়তো খুব কাছাকাছি কখনো যাইনি, কিন্তু শ্রদ্ধা ও সম্মানের সম্পর্ক বেশ ছিল।
গত বছর অক্টোবর মাসে আমার মেজো ফুপু মারা গিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম শহরে রক্ত সম্পর্কের এই একজন ফুপুই ছিলেন। সেই হিসেবে মেজো ফুপুর সাথে ও আমার বেশ আন্তরিক ভালোবাসার একটা সম্পর্ক ছিল।

তিন বছর আগে আমার নানা ভাইয়া মারা গেছেন। খুব সহজ-সরল ভালো মানুষ ছিলেন। বংশের বড় নাতনি হিসেবে যত ধরনের আদর, ভালবাসা পাওয়া সম্ভব সবকিছু তার কাছ থেকে পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

এর আগে মারা গেলেন আমার বড় জ্যাঠামিয়া, তার ও আগে জেঠিআম্মা। অনেকদিন পর পর দেখা হতো। সম্মান করতাম বেশ, আব্বু দের সবাআআর বড় ভাই-ভাবী।

তার আগে মারা গেল আমার বড় ফুপা এবং ফুপু। বড় ফুপু আমাকে অসম্ভব আদর করতেন, ভালোবাসতেন। গ্রাম থেকে আসলে তিনি বরই এবং টমেটোর আমসত্ত্ব নিয়ে আসতে কখনোই ভুলতেন না। তার কাছে থেকে কত যে পান খেয়েছি, ঠোঁট লাল করেছি।

মেজ খালু মারা গেছেন খালাতো ভাইকে অনেক ছোট রেখে। চট্টগ্রামের চাকরির সুবাদে দু’এক শুক্রবার পরপরই তিনি বাসায় আসতেন। আদর করতে বেশ।

আমার তিতু কাকা মারা গেছে অনেক আগে, তখন আমি নাইনে পড়ি। এত কষ্ট পেয়ে মারা গেছেন, মনে পড়লে আজও খারাপ লাগে। আমাদের শৈশব জুড়ে কাকা অনেক দিন কাছে ছিলেন।

আপনজনদের মধ্যে একদম প্রথম মৃত্যু ছিল মেজ জ্যাঠামিয়ার।সবাই মালানা সাব বলতো (মাওলানা সাহেব)। তখন আমি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। মনে পড়ে গ্রাম থেকে আসার সময় তিনি সব সময় অনেক কিছু আনতেন, পাশাপাশি চিপস নিয়ে আসতেন আমার আর ভাইয়ার জন্য। মনে হতো বস্তা ভরা ভালোবাসা আসতো গ্রাম থেকে।

দাদা ভাই মারা গেছে আমার জন্মের আগে। আমি হওয়ার পাঁচ দিন পরে দাদু মারা গেছেন। তাদের সম্পর্কে শুধু শুনেছি , দেখিনি কখনো। তবুও রক্তের টানে তাদের অনেক অনুভব করি। এছাড়া অদেখা মামা, খালাদের ও অনেক মনে করি, যারা অনেক ছোটবেলায় মারা গিয়েছেন। আর মনে পড়ে আব্বু আম্মুর প্রথম সন্তান, আমার অদেখা বড় ভাইয়ের কথা। তাদের গল্প আম্মুর কাছে কেবল শুনতাম।

দিন শেষে এদের প্রত্যেকের জন্য মনের টান, মায়া অনুভব করি। রোজার মাসে আমার প্রত্যেক মৃত স্বজনদের জন্য প্রাণভরে দোয়া করি যাতে আল্লাহ তাদের কোন ধরনের কবরের আজাব না দেন, তাদের মাফ করেন, তাদের জান্নাত নসিব করেন, তাদের কবরকে আলোকিত করে দেন , তাদের কবর যেন প্রশস্ত করে দেন।

তারা এখন দুনিয়াতে নেই। রেখে গেছেন তাদের সন্তান সন্ততি, বংশধারা। আমাদের অগ্রজদের জন্য আমরা সবসময় দোয়া করে যাব, তাদের আমলনামা যাতে কখনো বন্ধ না হয়ে যায়। তাদের কবর যেন সবসময় আমলনামায় সচল থাকে।

অন্ধকার বড় ভয় পাই। একদিন আমাকেও এই অন্ধকার কবরে যেতে হবে, মনে হলেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। একটা তেলাপোকা দেখলেই চিৎকার করে উঠি। সেখানে কবরে নামা মাত্র পোকামাকড়ের খাদ্যে পরিণত হবো!!!!

আমার মৃত্যুর পর আমার আত্মীয়, সন্তানেরা আমার আযাব মাফের দোয়া কি করবে??জানি না সাদকায়ে জারিয়া রেখে যেতে পারবো কিনা!!! তবে প্রাণ ভরে দোয়া করলাম, আমার পূর্ববর্তী সহ সকল নেককার ঈমানদারদের জন্য। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমাদের হেদায়েত দান করুন। আমিন।

Categories
যাপিত জীবন

কন্যার প্রথম রোজা

নায়রাহ তার ছয় বছর তিন মাস বয়সে প্রথম রোজা রেখেছে গতকাল আলহামদুলিল্লাহ। দুইদিন আগেও একবার চেষ্টা করেছিল, সেদিন আধাবেলা রাখতে পেরেছে।
নাওঈদ যেহেতু আধাবেলার বেশি রাখতে পারেনা, আর বোন পুরোটা রেখেছে দেখে সে আবার গাল ফুলিয়ে রেখেছে। কেননা তার আপিকে ক্রমাগত পেম্পারিং করা চলছে। তার পছন্দের খাবার ইফতারিতে বানানো হয়েছিল। ইফতার শেষে নিজ হাতে চকলেট ব্যাগ থেকে পছন্দ করে চকলেট খেতে পেরেছিল। সে রোজা রাখতে পেরেছে তাই বিভিন্ন জায়গায় জানান দিচ্ছিলাম। যথারীতি নানুমনির প্রশংসায় সে ভেসে যাচ্ছিল। আজও তাই সেহরি খেতে নিজে নিজেই উঠে গেল আলহামদুলিল্লাহ।
রোজা রাখার প্রতি তাদের এই এক্সাইটমেন্ট দেখে নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। আমি আর ভাইয়া পাল্লা দিয়ে রোজা রাখতাম। সাথে ছিল রিদমা, মুনিম, রুমি আপু, সুমি সহ আরো অনেকে। একসাথে একদল বাচ্চা পাল্লা দিতাম রোজা কে বেশি রেখেছে, সেটা নিয়ে। এমনকি সেহেরিতে আম্মু ডেকে না দিলে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যেত আমাদের। আমাদের চাইতে বাকিরা রোজা বেশি রেখে ফেলবে এই দুঃখে।
একই বিষয়টা আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। বেশ মজা লাগছে ছোটবেলার সাথে মিলে যাচ্ছে দেখে।

ভাইয়া, Ahad তোমার মনে আছে?কে কয়টা রোজা রাখতে পারবে- আমরা প্রতিযোগিতা করতাম? আমাদের ছানাপোনা আরেকটু বড় হলে ওদের সাথে রোজার এ কম্পেটিশন টা দেওয়াবো, কেমন?
নাওঈদ আবদুল্লাহ আর আনিফা জামান
নুবাঈদ আবদুল্লাহ আর আরহাম আবদুল্লাহ।
নায়রাহ বড় আপি হয়ে বিচারের দায়িত্বে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
😊😊😊

Categories
যাপিত জীবন

ত্রিরত্ন

তিনজন মিলে পুরা বাসা মাথায় নিয়ে হাটছে। চুপ করিয়ে এক জায়গায় বসালে মিনিট পাঁচেক পর আবার চিৎকার, চেঁচামেচি , হাসাহাসি চলছে অবিরত।

চিন্তা ভাবনা করে একগাদা আলু সেদ্ধ করে ছুলতে বসায়ে দিলাম। দুজন আলু ছিলে এক জায়গায় রাখছে। আরেকজন আছিলা আলুগুলো পুরা বাসায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিচ্ছে।😑

আগামীদিনের ইফতারের জন্য চপের ব্যাচ রেডি হবে। পাশাপাশি অল্প কিছু সময় হলেও বাসাটা ঠান্ডা থাকবে। আমিও অল্প কিছুক্ষণের জন্য নাকে তেল দিয়ে ফেসবুকিং করি 🙃।

Categories
যাপিত জীবন

মাহে রমজান ২০২১

আমাদের ছোট্ট ডিমের কর্মকাণ্ড…..
নামাজের বিছানায় কেউ দাঁড়ালেই হলো!!!
তখন তাকে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়। পায়ের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যাওয়া, শুয়ে পড়া, বাবার গায়ে চড়া,চুল-দাড়ি টানা, মায়ের হিজাব ধরে ঝুলতে থাকা , হিজাবের ভেতরে ঢুকে যাওয়া, টেনে খুলে ফেলা ইত্যাদি।

তার সরব পদচারণায় সে পুরো বাসার সবাইকে তটস্থ রাখে। আর সতর্ক না থাকলে মাথায় আলু ফোলাবে!!!

একটি ছোট ডিম ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ❤️❤️❤️

Categories
যাপিত জীবন

বেবি লিটার বক্স


বাসায় পোষা বিড়াল থাকলে তাদের জন্য লিটার বক্স রাখা হয়, টয়লেট সারার কাজে। নির্দিষ্ট একটা বক্সে তারা তাদের প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করে আসে।

আমার বাসায় এই মুহূর্তে বিড়াল নাই, তাই ক্যাট লিটার বক্স ও নাই। কিন্তু জামা রাখার বক্স এখন বেবি লিটার বক্স এ পরিণত হয়েছে।

নুবাঈদ পাঁচ মাস বয়সেই পটিতে অভ্যস্ত।
তার বয়স যখন দশ মাসের মতো তখন ঠান্ডা শুরু হয়েছে । তাই সে আর পটিতে বসতে চাইতো না । এখন ঠান্ডা চলে গেছে, তবুও সে আর পটিতে বসে না।

নুবাঈদের বাসার জামাগুলো একটা বক্সে রাখা থাকে আর কাথাগুলো আরেকটা বক্সে। ইদানিং সে দেখি বক্সে ঢুকে বসে থাকে । কিছুক্ষণ পর দেখি বক্সে রাখা তার জামা প্যান্টগুলো ভিজে আছে। প্রথম দিন কিছু বললাম না। পরের দিন দেখলাম তার যখন পটি আসলো সোজা সে গিয়ে বক্সে ঢুকে পরল। আমি তখন বিছানায়। বক্স থেকে সে দেখি উঁকি মেরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবভঙ্গি সুবিধার মনে না হওয়াতে তাকে বক্স থেকে তুলে টান দিলাম। দেখলাম পটি কর্ম সম্পাদন করা মাত্র শুরু করেছে। কাকতালীয় ঘটনা ভেবে সেটাও ইগনোর করলাম।

ওমা এখন দেখি সে সুযোগ পেলেই তার পি পটি আসলে জামাকাপড়ের বক্সে চলে যায়। নর্মালি সে ডায়াপার বেবি। এখন একটু বড় হওয়াতে শুধু রাতে ঘুমানোর সময় ডায়াপার পরাই। অন্য সময় গুলোতে খেয়াল করে করে তার কর্ম সারাই। ভুল করেও যদি তার দিকে এটেনশন কম দেয়া হয়, তখনই এই ধরনের ঘটনার শুরু করে। প্রায় প্রতিদিনই ধোয়া জামা কাপড় গুলো আবার ধোয়া লাগে।

মাম্মাকে ব্যস্ত না রাখলে তাহাদের ভালো লাগে না 🙄

Categories
যাপিত জীবন

ডাব্বু মাথা

ডাব্বু মাথা চার আনা, চাবি দিলে ঘুরেনা/
আট আনা দিলে নষ্ট, ডাব্বু মাত্রার কষ্ট।

ছোটবেলায় কত যে শুনেছি, আর বলেছি!!! কত যে অপমান মনে হোত এই ছড়া শোনাটা! কত যে মন খারাপ হোত!! 😓
অন্য দিকে কেউ বেল মাথা হলে তাকে এটি শুনিয়ে বিমল আনন্দ পাওয়া যেত 😎😎😁
এখন কার পিচ্চি দের সারাদিন পেম্পারিং করা লাগে। ডাব্বু হলেও বলতে হয়- তুমি সুইট, কিউট!!!

নায়রাহ তার ৫ বছর বয়সকালে এখন ২য় বারের মতো ডাব্বু হলো। ভিডিও করে নানু , দাদুর বাড়ি ডাব্বু দেখিয়ে কত যে কম্প্লিমেন্ট পেল!!!

কি আর করা, আমিই এদের শোনাই, ডাব্বু মাথা চার আনা!!😎😎
কিন্তু ওরা মাইন্ড করে না!!🥴

Categories
যাপিত জীবন

নুবাঈদ কান্ড

নুবাঈদ দু’ চারদিন পর পরই ডাইনিং টেবিল থেকে অথবা রান্নাঘরে গিয়ে কিছু না কিছু ফেলে দেয়। ভাত, তরকারি পাতিল , পানির জগ , দুধ চিনির বয়াম , ফলের ঝুড়ি বা যেকোনো কিছু হাতের নাগালে পাওয়া মাত্র টান দেয়।🥴

আজ দেখি ডাইনিং টেবিলের চারপাশে চক্রাকারে ঘুরছে। কোন জিনিসটা হাতের নাগালে পাবে তারপর সেটা টান দিয়ে ফেলবে এবং মুখে দিয়ে টেস্ট করে দেখবে। অবশেষে একটা লবনের প্যাকেট এ সে হাত দিতে পারল।🙄

কেউ আমিন না বলে যাবেন না। 😑

Categories
যাপিত জীবন

ছানাপোনাদের পার্টি



কোন এক দিন কথাপ্রসঙ্গে আলাপ করেছিলাম ওয়ান ডিস পার্টি নিয়ে। ভেবেছিলাম রোজা শুরু হওয়ার আগে বাচ্চাদের নিয়ে কিছু একটা আয়োজন করব। পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়াতে সেটা মাথা থেকে বাদ দিয়েছিলাম। কিন্তু পুত্রকন্যার মাথায় কোন ভাবে বিষয়টা ঢুকে গেছে যে তারা ওয়ান ডিশ পার্টি করবে।

গতকাল খেলাধুলা শেষ করে এসে তারা জানালো যে পরের দিন পার্টি করবে, সবাই আসবে। বিষয়টাকে খুব একটা পাত্তা দেইনি। আজ সকাল থেকে তারা ভাই-বোন ঘোষণা করছে ওয়ান ডিস পার্টি হবে, কে কে আসবে , কোন জামা পরবে ইত্যাদি । দুপুরে গোসলের পর ভালো করে কনফার্মেশন নিতে বললাম বন্ধু-বান্ধবদের থেকে। তারা নিজ দায়িত্বে সবার বাসায় বাসায় গিয়ে ওয়ান ডিস পার্টির কথা বলে আসলো।

কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া বাচ্চাকাচ্চাদের এসমস্ত আবদার মেটানো একটু কষ্টকর। যেহেতু পুত্র কন্যা নিজেরা পরিকল্পনা করে কিছু একটা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে তাই কষ্ট হলেও আর বাধা দেইনি। সকালের নাস্তা , দুপুরের খাবার, এর মাঝে ক্লাস- সবকিছু শেষ করে দুপুরের পর আবার তাদের নাস্তার আয়োজন করলাম। দু’তিন পদ খাবার রেডি করে ছানা পোনা সমেত ছাদে গেলাম। ততক্ষনে বেশ কিছু বাচ্চাকাচ্চা এক জায়গায় জড়ো হয়েছে।

আসন্ন রমাদান নিয়ে তাদের সাথে টুকটাক আলাপ আলোচনা করলাম। মা-বাবাকে কিভাবে বাসার কাজে সাহায্য করা যায় , রোজার আদব , সাদাকা ইত্যাদি কিছু বেসিক বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বললাম। এরপর ৪০ হাদিস এর গল্প বইটি থেকে একটা গল্প পড়ে শোনালাম। বাচ্চারা বেশ মজা পেয়েছে। ওরা আসলে অনেক কিছু জানতে চায়, বুঝতে চায়। জানার জন্য ওদের উপযুক্ত পরিবেশ , পরিস্থিতি ও পরিচর্যা দরকার।

এরপর তারা খাবার-দাবার খেলো একসাথে সবাই মিলে। তারপর কিছুক্ষণ খেলাধুলা চলল। নায়রাহ ড্রইং খাতা, রং নিয়ে গিয়েছিল। আঁকা আঁকি চলল আরো কিছু ক্ষন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, যে যার বাসায় ফিরে গেলো।

অপরিকল্পিত ভাবে ছোট আয়োজন। বাচ্চার নিজেরা পরিকল্পনা করেছে একসাথে বসে খাবে, খেলবে। ঝামেলা হলেও বাধা দেইনি যে তারা এখন থেকেই সবাইকে নিয়ে ভাবছে, কিছু আয়োজন করার চেষ্টা করছে। ভুলভাল কি করেছে, বুঝিয়ে দিলাম।

তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম আমরা যখন বুড়া হবো তখন আমাদের বুড়ো বন্ধুদের নিয়ে এরকম পার্টি করতে চাইলে তারা আমাদের কিছু বানিয়ে দিবে কিনা। তারা একমত হয়েছে, বড় হলে আমাদের বুড়ো দের পার্টি আয়োজন করবে।
বারাকাল্লাহু ফিকী।

(ক্লান্ত হয়ে কয়েক মিনিটের জন্য চোখটা একটু বন্ধ করেছিলাম। এর মাঝে ছোট পুত্র চেয়ার বেয়ে টেবিলে উঠেছে। আবার টেবিল থেকে নামতে গিয়ে ধপাস করে পড়ে গিয়েছে।)