Categories
Notice

সিনেমার মতো বাচ্চা

নুবাঈদ ঘুমানোর পর, এক ঘন্টা – আধা ঘন্টা পর পর উঠে উঠে চেক করে , তার সার্ভিস প্রোভাইডার ঠিকভাবে সার্ভিস দিচ্ছে কিনা!!🙄
প্রচণ্ড গরমে রাতে ঘুমায় দেরিতে।
তাই সেহরি খাওয়ার আগে বা পরে দেখা যায় টানা 1 ঘন্টা ঘুমাতে পারিনা । একটু পর পর সার্ভিসিং করা লাগে।
অন্যদিকে সকালে বড় দুই ভাই বোনের পেঁ পো তো আছে ই। ফলাফল- মাথা ঘুরে , মাথা ব্যথা থাকে সারাদিন।🥴🥴
কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না । 😑
মন চায় বাংলা সিনেমার মতো একটা ব্যাকগ্রাউন্ড সঙ্গীত চালিয়ে দেই । সংগীত বাজতে থাকবে ।🥳 বাচ্চাগুলা বড় হয়ে যাবে । স্কুল , কলেজ, ইউনিভার্সিটি পড়া শেষ করে ফেলবে। এরপর রেজাল্ট নিয়ে এসে বলবে মা, মা আমি মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছি।

পোলাপাইন গুলা সিনেমার মত তাড়াতাড়ি বড় হয়ে গেলে মন্দ হোত না 😎😎

Categories
যাপিত জীবন

বুক রিভিউ- ফেরা ২

‘ফেরা দুই’ বইটা একটু একটু করে পড়ে শেষ করলাম। দুই হিন্দু বোনের ইসলাম পালন করা নিয়ে এক রোমাঞ্চকর সংগ্রামের গল্প।

‘ফেরা’ যখন পড়েছিলাম সিহিন্তা আর নায়লা’পুর জীবনের গল্প, তখন যে অনুভূতি কাজ করেছিল, মোটামুটি একই রকম অনুভূতি কাজ করেছে এই বইটি পড়ার সময়।

বইয়ের পাতায় পাতায় আয়েশা ও মারিয়াম (মনিকা ও নীলম) এর চিন্তা-চেতনা, ভালোলাগা, ভালোবাসা, জানার আগ্রহ, ইসলাম গ্রহণ এবং তা পালন করা নিয়ে সংগ্রামের রোমাঞ্চকর বর্ণনা।

পড়তে পড়তে শুধু একটি কথাই বারবার মনে হচ্ছিলো, আমরা মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে ইসলামকে জীবন বিধান হিসেবে মানতে খুব হেলাফেলা করি। মনে করি, বাপ- দাদার ধর্ম, মুসলিম একটা নাম ও আছে। তাই সোজা জান্নাতে চলে যাবো!! যা কিছু করি না কেন, বুড়ো বয়সে একটু হজ্জ করে নিলেই হবে।

আমরা আমাদের ফরয ইবাদত গুলো সম্পর্কে যেমন জানিনা, তেমনি ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা এটা সম্পর্কে ও আমাদের ধারণা খুবই কম। সেখানে এই মানুষগুলো যখন নিজে থেকে চিন্তা করে খুঁজে খুঁজে ইসলামের পথে আসে, কষ্ট করে,ত্যাগ করে- তাদের পরীক্ষা আর আমাদের পরীক্ষা , তাদের হিসাব আর আমাদের হিসাব কখনোই কি এক হবে??

সবাইকে বইটি পড়ার আমন্ত্রণ । একটু হলেও ঈমানকে ঝাঁকুনি দিয়ে যাবে। ❤️❤️

বই পড়ার পেছনের গল্প:
ছানাপোনা ঘুমানোর পর বই , খাতা, ল্যাপটপ নিয়ে মশারির ভিতর কাজ শুরু করি। রাত জেগে স্লাইড রেডি করি, মি টাইম কাটাই, খাই আর পড়ি!! ল্যাপটপ খাটের নিচে শরিয়ে রাখলেও, বইগুলো মাথার কাছে রাখতাম। সকালে আমার আগে নুবাঈদের ঘুম ভাঙ্গে। আর আমার ঘুম ভাঙ্গে বই ছেড়ার শব্দে। 🥴

তার মধ্যে ফেরা বইটি পড়ে শেষ করতে পারাটা এবং বই ছেঁড়া থেকে রক্ষা করতে পারাটা একটি মহা আনন্দের বিষয়। আর বই পড়তে হলে মুখ ও সমান তালে চালাতে হয়। মানসিক ব্যাপার 🙄

চকলেট দুই টাই গিফট। একটা ভাইয়া পাঠিয়েছে আরেকটা, Sakina’s Kitchenet থেকে 🥰

Categories
যাপিত জীবন

মাঝরাতে বিনোদন

বড় পুত্র সন্ধ্যার পরে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। প্রায় দু তিন ঘন্টার একটা ঘুম। রাত দশটার দিকে সেই ঘুম ভাঙল।
এদিকে রাত বারোটার মধ্যে যখন সবাই শুয়ে পড়েছে , তার তো আর কোনভাবেই ঘুম আসেনা। তবুও সন্ধ্যায় ঘুমানোর অপরাধে বেচারা বিছানা ছাড়তে পারছেনা।

রাতে দুনিয়ার কাজ বাকি থাকে, তাই কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে উঠে পড়লাম। রাত দুইটা বাজে উঠে দেখি বড় পুত্রের চোখে ঘুম নাই। তার বাবা বলল কি করবা করো এখন।
আনন্দিত হয়ে সে বিছানা থেকে বেরিয়ে আসল।🥳🥳
ভদ্রলোক তখন লিখতে বসে গেল। যে লেখা এক লাইন দুই লাইন লিখলে তার হাত ব্যথা হয়ে যায় , দুই দিনেও লিখে শেষ করতে পারে না, সেটা এখন চুপিচুপি পুরস্কার পাবার আশায় এবং ঘুম না আসার দুঃখে চটপট লিখে ফেলল।

(পুরষ্কার ছিল Sakina’s Kitchenet এর ইয়াম্মি চকলেট গুলো। ব্যাসিকালি এগুলো আমি রাতে বাচ্চারা ঘুমালে চুপিচুপি খাই। আজ পুত্র এবং তার বাবাকে ও দিতে হোল 😑)

আল্লাহুম্মা বারিক লাহা।

Categories
যাপিত জীবন

টিকা

সীমিত আকারে আজ বাজারে গিয়েছিলাম। সেখানে মাতৃসদনে দেখি , “আপনার শিশু কে টিকা দিন”, পতাকা উড়ছে। বাসায় এসে নুবাঈদকে নিয়ে আবার গেলাম। মার্চ মাসে দিতে না পেরে অবশেষে মে মাসে টিকা দিতে পারলাম। দুই পায়ে দুটি টিকা। তার বাবা কোলে নিয়ে বসে আছে । একবার করে এক পায়ে টিকা দিচ্ছে, নুবাইদ কাঁদছে। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে তার মা ও কাঁদছে। বাচ্চার একটু কান্না, একটু কষ্টেই সব মায়েদের চোখেই বুঝি এমন করে পানি আসে।
এই সন্তানগুলো বড় হয়ে বাবা-মার থেকে কত দূর দূরান্তে চলে যায়। বাবা মাকে কত কষ্ট দেয় । তবুও সন্তানের প্রতি মা বাবার ভালোবাসা শেষ হয়না।

অন্যদিকে ভালোবাসার নিরানব্বইভাগ আল্লাহ তার কাছে রেখে , বাকি এক ভাগ সৃষ্টিকুলের মাঝে বিতরণ করেছেন । তাতেই আমাদের এতো এতো ভালোবাসা। তাই দয়ালু রহমানুর রহিম এর কাছে রমজান মাসে প্রাণভরে দোয়া করি, আল্লাহ যেন সব মাকে বাবাকে ভালো রাখেন , তাদের সন্তানদের সুস্থ রাখেন । পৃথিবীটাকে সুস্থ করে দেন । পৃথিবীটাকে তার রহমত চাদর দিয়ে ঢেকে দেন ।এই প্রাণঘাতী আজাব দূর করে দেন । আমিন।

Categories
যাপিত জীবন

তন্তান

নাওঈদ বাবা তাড়াতাড়ি ক খ সব লিখে ফেলোতো।
সে আস্তে ধীরে লিখা শুরু করল। (বাংলা লিখতে সে পছন্দ করে না। অনেক সময় নিয়ে ক খ লিখা শিখাচ্ছি।)
ক-ঙ এক সপ্তাহে লিখলে আরো দুই সপ্তাহ পর চ ছ লিখে, এমন অবস্থা। আর লিখতে গেলে ঘুম আসে, নানা রকম ঘটনা, গল্প মনে আসে। তাই দুটি বর্ণ শিখতে দুই সপ্তাহ লেগে যায়।
যাক , কি আর করা….

লিখতে বসে বর্ণের সাথে শব্দ মিলাচ্ছে।
মা…. ক তে কই। ব তে বই…..

ঠিক আছে, আগে আমরা লিখা শেষ করি। পরে শব্দ মিলাবো…..

মাম্মাম….. ত তে তন্তান…..
কী????
ত তে তন্তান….
কি দিয়ে কী??🤔🤔
সন্তান??? 😅😅😅
ওরে পাগলা, স তে সন্তান 😄😄

আমিতো তেতাই বলছি, ত তে তন্তান
😂😂🤣🤣

ত বর্গীয় তন্তান কিছু দিন হোল সাহস, পাহাড়, মহান বলতে শিখেছে।

তার ভাষা ছিল– আমার অনেক সাগস। তাই আমরা পাগাড়ে বেড়াতে যাবো।
আল্লাহ মগান, আল্লাহ মগান ইত্যাদি।

এদিকে লু আর লেলো কালার তার খুব পছন্দ।

আশা করছি সাড়ে চার বছর বয়সী পুত্রের এসব মিষ্টি মধুর বাণী খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

রমজানের শেষ দশ দিন চলে আসলো। দোয়া চাই সবার কাছে। কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে মাফ করে দিবেন। সবাই সবার জন্য দোয়া করবেন। ঈমানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য দোয়া করবেন। উম্মাহর ঐক্য এবং শান্তির জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ আমাদের সকলের গুনাহ মাফ করুক, সবার নেক দোয়া কবুল করুক।
আমিন।

Categories
যাপিত জীবন

ছানা পোনা উপদ্রবে ব্যস্ত জীবন

জুতার নীচে লেগে থাকা ময়লা খেতে কতো যে মজা, তা বাচ্চাদের না দেখলে বোঝা যায় না। সু রেক থেকে একটার পর একটা ছোট, বড়, মাঝারি সাইজের জুতা টেনে বের করা হয় এবং জিভ দিয়ে জুতা নিচের অংশ চেটে চেটে পরিস্কার করা হয়(সুযোগ পেলেই)।

বাসার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা পুঁতি, কাগজ, রং, পড়ে যাওয়া এবং পিঁপড়ে খাওয়া খাদ্যাংশ,যেকোন রকম ময়লা টুকরো দেখা মাত্র মুখে চালান করে ছোট পুত্র। ভাই বোনের রেখে দেওয়া রঙের বাক্স থেকে রং নিয়ে আনন্দ সহকারে খেতে থাকে, এক্সপ্রেশন দেখে মনে হয় যেন ললিপপ খাচ্ছে!!!😋 পোলাপান এরকম কেন???

অথচ নির্দিষ্ট তিন বেলা খাবারের পাশাপাশি অন্য কোন খাবার সে মুখেই দেয় না। খাবার ছাড়া যেকোনো জিনিস খাবার মনে করে মুখে ঢোকানোর বিষয়ে নুবাঈদ একজন বিশেষজ্ঞ।🙄

অন্যদিকে পাহাড়-পর্বত অতিক্রম করার ব্যাপারে দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা যায় তার মাঝে। খাটে, চেয়ার-টেবিলে, ওয়ারড্রব এর উপর, ডিপ ফ্রিজের উপরে যে কোন জায়গায় চোখের পলকে পারলে বেয়ে বেয়ে উঠে যায়।

তার জীবনের এই মুহূর্তে একটি অন্যতম লক্ষ্য হলো বাবার কম্পিউটার , কিবোর্ড, মাউস ইত্যাদির তার ধরে টানাটানি করা এবং মাল্টি প্লাগ যেখানে থাকে সেই জায়গায় হাত দেওয়া। ১০ সেকেন্ড ও যদি চোখের আড়াল হয়, নিমিষেই তাকে আমরা ঐ জায়গায় আবিষ্কার করি। (আল্লাহ হেফাজত করুক, এই বিষয়ে আমরা খুব ভয়ে থাকি)

পড়ে গিয়ে থুতনিতে রক্ত জমাট বেধে যায়, মুখে আচড় কেটে দাগ হয়ে যায়, আঙ্গুলে খোঁচা খেয়ে চামড়া উঠে যায় , আর মাথায় আলু ফোলা তো ডাল ভাত।🥴

দিন আর রাত এক হয়ে যায় তাকে পাহারা দিতে দিতে। দিনে পাহারা, রাতে কাজ এভাবেই চলছে।(এতো পাহারায় থেকেও স্ট্যাটাসখানা লিখার সময় টেবিলের সাথে মাথায় বাড়ি খেল 😐)

তবুও আমরা আনন্দিত সময় কাটাচ্ছি। পেটে খাবার থাকলে সবকিছুতেই আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়।

এই আনন্দের স্থায়িত্ব কতদিন থাকে সেটাই ভাবার বিষয়। এখনো খাবার-দাবার কিনে খেতে পারছি(সব কিছুর দাম আকাশছোঁয়া 😓)। সুস্থ ভাবে শ্বাস নিতে পারছি। আত্মীয় স্বজনেরা আলহামদুলিল্লাহ প্রায় সবাই ভালো আছে।
ফ্রি ফ্রি অক্সিজেন গ্রহণ করছি। এই অক্সিজেনের নেয়ামত, শুকরিয়া , কৃতজ্ঞতা আদায় করছি তো??🤔

#ছানাপোনাউপদ্রবেব্যস্তজীবন……

Categories
অভিজ্ঞতা যাপিত জীবন

পরকালীন যাত্রা ও কিছু উপলব্ধি



কিছুদিন আগে আমার ছোট জ্যাঠামিয়া পরকালের পথে যাত্রা করেছেন। সন্ধ্যায় জেঠিআম্মার সাথে যখন ফোনে কথা হচ্ছিল তিনি স্মৃতিচারণ করে কাঁদছিলেন। বেশ মন খারাপ করছিল। আমরা সবাই একদিন এভাবে পরপারের দিকে যাত্রা করবো। চিরন্তন, কিন্তু সহজ একটি সত্য। যারা চলে গেছে, কেমন আছে তারা? তাদের নিজস্ব আমল তো বন্ধ। বংশধারার দোয়ার মাধ্যমে তাদের কবর কি আলোকিত হচ্ছে??

আমার ছোট জ্যাঠামিয়া বেশ সুদর্শন একজন মানুষ ছিলেন। মুরুব্বি মানুষ হিসেবে হয়তো খুব কাছাকাছি কখনো যাইনি, কিন্তু শ্রদ্ধা ও সম্মানের সম্পর্ক বেশ ছিল।
গত বছর অক্টোবর মাসে আমার মেজো ফুপু মারা গিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম শহরে রক্ত সম্পর্কের এই একজন ফুপুই ছিলেন। সেই হিসেবে মেজো ফুপুর সাথে ও আমার বেশ আন্তরিক ভালোবাসার একটা সম্পর্ক ছিল।

তিন বছর আগে আমার নানা ভাইয়া মারা গেছেন। খুব সহজ-সরল ভালো মানুষ ছিলেন। বংশের বড় নাতনি হিসেবে যত ধরনের আদর, ভালবাসা পাওয়া সম্ভব সবকিছু তার কাছ থেকে পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

এর আগে মারা গেলেন আমার বড় জ্যাঠামিয়া, তার ও আগে জেঠিআম্মা। অনেকদিন পর পর দেখা হতো। সম্মান করতাম বেশ, আব্বু দের সবাআআর বড় ভাই-ভাবী।

তার আগে মারা গেল আমার বড় ফুপা এবং ফুপু। বড় ফুপু আমাকে অসম্ভব আদর করতেন, ভালোবাসতেন। গ্রাম থেকে আসলে তিনি বরই এবং টমেটোর আমসত্ত্ব নিয়ে আসতে কখনোই ভুলতেন না। তার কাছে থেকে কত যে পান খেয়েছি, ঠোঁট লাল করেছি।

মেজ খালু মারা গেছেন খালাতো ভাইকে অনেক ছোট রেখে। চট্টগ্রামের চাকরির সুবাদে দু’এক শুক্রবার পরপরই তিনি বাসায় আসতেন। আদর করতে বেশ।

আমার তিতু কাকা মারা গেছে অনেক আগে, তখন আমি নাইনে পড়ি। এত কষ্ট পেয়ে মারা গেছেন, মনে পড়লে আজও খারাপ লাগে। আমাদের শৈশব জুড়ে কাকা অনেক দিন কাছে ছিলেন।

আপনজনদের মধ্যে একদম প্রথম মৃত্যু ছিল মেজ জ্যাঠামিয়ার।সবাই মালানা সাব বলতো (মাওলানা সাহেব)। তখন আমি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। মনে পড়ে গ্রাম থেকে আসার সময় তিনি সব সময় অনেক কিছু আনতেন, পাশাপাশি চিপস নিয়ে আসতেন আমার আর ভাইয়ার জন্য। মনে হতো বস্তা ভরা ভালোবাসা আসতো গ্রাম থেকে।

দাদা ভাই মারা গেছে আমার জন্মের আগে। আমি হওয়ার পাঁচ দিন পরে দাদু মারা গেছেন। তাদের সম্পর্কে শুধু শুনেছি , দেখিনি কখনো। তবুও রক্তের টানে তাদের অনেক অনুভব করি। এছাড়া অদেখা মামা, খালাদের ও অনেক মনে করি, যারা অনেক ছোটবেলায় মারা গিয়েছেন। আর মনে পড়ে আব্বু আম্মুর প্রথম সন্তান, আমার অদেখা বড় ভাইয়ের কথা। তাদের গল্প আম্মুর কাছে কেবল শুনতাম।

দিন শেষে এদের প্রত্যেকের জন্য মনের টান, মায়া অনুভব করি। রোজার মাসে আমার প্রত্যেক মৃত স্বজনদের জন্য প্রাণভরে দোয়া করি যাতে আল্লাহ তাদের কোন ধরনের কবরের আজাব না দেন, তাদের মাফ করেন, তাদের জান্নাত নসিব করেন, তাদের কবরকে আলোকিত করে দেন , তাদের কবর যেন প্রশস্ত করে দেন।

তারা এখন দুনিয়াতে নেই। রেখে গেছেন তাদের সন্তান সন্ততি, বংশধারা। আমাদের অগ্রজদের জন্য আমরা সবসময় দোয়া করে যাব, তাদের আমলনামা যাতে কখনো বন্ধ না হয়ে যায়। তাদের কবর যেন সবসময় আমলনামায় সচল থাকে।

অন্ধকার বড় ভয় পাই। একদিন আমাকেও এই অন্ধকার কবরে যেতে হবে, মনে হলেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। একটা তেলাপোকা দেখলেই চিৎকার করে উঠি। সেখানে কবরে নামা মাত্র পোকামাকড়ের খাদ্যে পরিণত হবো!!!!

আমার মৃত্যুর পর আমার আত্মীয়, সন্তানেরা আমার আযাব মাফের দোয়া কি করবে??জানি না সাদকায়ে জারিয়া রেখে যেতে পারবো কিনা!!! তবে প্রাণ ভরে দোয়া করলাম, আমার পূর্ববর্তী সহ সকল নেককার ঈমানদারদের জন্য। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমাদের হেদায়েত দান করুন। আমিন।

Categories
যাপিত জীবন

কন্যার প্রথম রোজা

নায়রাহ তার ছয় বছর তিন মাস বয়সে প্রথম রোজা রেখেছে গতকাল আলহামদুলিল্লাহ। দুইদিন আগেও একবার চেষ্টা করেছিল, সেদিন আধাবেলা রাখতে পেরেছে।
নাওঈদ যেহেতু আধাবেলার বেশি রাখতে পারেনা, আর বোন পুরোটা রেখেছে দেখে সে আবার গাল ফুলিয়ে রেখেছে। কেননা তার আপিকে ক্রমাগত পেম্পারিং করা চলছে। তার পছন্দের খাবার ইফতারিতে বানানো হয়েছিল। ইফতার শেষে নিজ হাতে চকলেট ব্যাগ থেকে পছন্দ করে চকলেট খেতে পেরেছিল। সে রোজা রাখতে পেরেছে তাই বিভিন্ন জায়গায় জানান দিচ্ছিলাম। যথারীতি নানুমনির প্রশংসায় সে ভেসে যাচ্ছিল। আজও তাই সেহরি খেতে নিজে নিজেই উঠে গেল আলহামদুলিল্লাহ।
রোজা রাখার প্রতি তাদের এই এক্সাইটমেন্ট দেখে নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। আমি আর ভাইয়া পাল্লা দিয়ে রোজা রাখতাম। সাথে ছিল রিদমা, মুনিম, রুমি আপু, সুমি সহ আরো অনেকে। একসাথে একদল বাচ্চা পাল্লা দিতাম রোজা কে বেশি রেখেছে, সেটা নিয়ে। এমনকি সেহেরিতে আম্মু ডেকে না দিলে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যেত আমাদের। আমাদের চাইতে বাকিরা রোজা বেশি রেখে ফেলবে এই দুঃখে।
একই বিষয়টা আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। বেশ মজা লাগছে ছোটবেলার সাথে মিলে যাচ্ছে দেখে।

ভাইয়া, Ahad তোমার মনে আছে?কে কয়টা রোজা রাখতে পারবে- আমরা প্রতিযোগিতা করতাম? আমাদের ছানাপোনা আরেকটু বড় হলে ওদের সাথে রোজার এ কম্পেটিশন টা দেওয়াবো, কেমন?
নাওঈদ আবদুল্লাহ আর আনিফা জামান
নুবাঈদ আবদুল্লাহ আর আরহাম আবদুল্লাহ।
নায়রাহ বড় আপি হয়ে বিচারের দায়িত্বে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
😊😊😊

Categories
যাপিত জীবন

ত্রিরত্ন

তিনজন মিলে পুরা বাসা মাথায় নিয়ে হাটছে। চুপ করিয়ে এক জায়গায় বসালে মিনিট পাঁচেক পর আবার চিৎকার, চেঁচামেচি , হাসাহাসি চলছে অবিরত।

চিন্তা ভাবনা করে একগাদা আলু সেদ্ধ করে ছুলতে বসায়ে দিলাম। দুজন আলু ছিলে এক জায়গায় রাখছে। আরেকজন আছিলা আলুগুলো পুরা বাসায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিচ্ছে।😑

আগামীদিনের ইফতারের জন্য চপের ব্যাচ রেডি হবে। পাশাপাশি অল্প কিছু সময় হলেও বাসাটা ঠান্ডা থাকবে। আমিও অল্প কিছুক্ষণের জন্য নাকে তেল দিয়ে ফেসবুকিং করি 🙃।

Categories
যাপিত জীবন

মাহে রমজান ২০২১

আমাদের ছোট্ট ডিমের কর্মকাণ্ড…..
নামাজের বিছানায় কেউ দাঁড়ালেই হলো!!!
তখন তাকে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়। পায়ের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যাওয়া, শুয়ে পড়া, বাবার গায়ে চড়া,চুল-দাড়ি টানা, মায়ের হিজাব ধরে ঝুলতে থাকা , হিজাবের ভেতরে ঢুকে যাওয়া, টেনে খুলে ফেলা ইত্যাদি।

তার সরব পদচারণায় সে পুরো বাসার সবাইকে তটস্থ রাখে। আর সতর্ক না থাকলে মাথায় আলু ফোলাবে!!!

একটি ছোট ডিম ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ❤️❤️❤️